ঢাকা, সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১১ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ২০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ২০:৩২

প্রিন্ট

১৫ দিনের মধ্যে দিতে হবে রিপোর্ট

ঝিনাইদহে ক্লিনিক-ল্যাবগুলোর কার্যক্রম তদন্তের নির্দেশ

ঝিনাইদহে ক্লিনিক-ল্যাবগুলোর কার্যক্রম তদন্তের নির্দেশ
ফাইল ছবি (আদালত)

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় লাইসেন্স ও নবায়নবিহীন মানহীন ক্লিনিক এবং ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোর চরম অব্যাস্থপনা তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বৈজয়ন্ত বিশ্বাস স্বপ্রণোদিত হয়ে ২৬ নভেম্বর এই আদেশ দেন।

আদেশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ঝিনাইদহ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আদেশে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তদন্তকালে যাবতীয় তথ্য ও দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণ সরবরাহ করতে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জনকেও নির্দেশ দেয়া হয়। তদন্ত পাওয়ার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর।

এর আগে ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ জার্নাল পত্রিকায় 'ঝিনাইদহে ১৬৯ ডায়াগনষ্টিক ও ক্লিনিকে নেই লাইসেন্স' শিরোনামে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই ধরণের নিউজ আরও কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশ পায়। বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে আসে ও আমলে নেন।

আদালত মনে করেন, সংবাদ সত্য হলে তাতে যেমন বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ২২ ও ২৮ ধারায় বর্ণিত অপরাধের অস্তিত্ব রয়েছে, তেমনি বিষয়টি ঝিনাইদহবাসীর আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের সামিল। ফলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের আবশ্যকতা রয়েছে।

আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ৫টি নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে- তদন্তকর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট পত্রিকা, অনলাইন ও টিভির সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে মানচিত্র ও সূচিপত্র প্রস্তুত করতে হবে। সেখানে সাক্ষীদের বক্তব্য থাকবে। ঘটনাস্থলের স্থিরচিত্র ধারণ ও প্রিন্ট করে ডকেটের সাথে যুক্ত করতে হবে। কোনো আলামত পেলে, তা জব্দ করতে হবে। কোন ক্লিনিকের অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার কারণে কোন রোগী মারা গেলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে। যতদূর সম্ভব ভুক্তভোগী রোগী, তাদের আত্মীয় স্বজন এবং ঘটনা সম্পর্ক জ্ঞাত ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে নির্বাচন করবেন।

আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে ১৬৯ ডায়াগনষ্টিক ও ক্লিনিকে নেই লাইসেন্স

এর আগে সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ঝিনাইদহ জেলার বেশিরভাগ ক্লিনিক লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই মাসের পর মাস ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ের ক্লিনিকগুলোতে অহরহ অপচিকিৎসা চলছে। ডাক্তারের অবহেলায় প্রসুতির মৃত্যু ঘটছে। ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসার উন্নত পরিবেশ নেই। নেই সর্বক্ষণ চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত নার্স। ১০ বেডের পরিবর্তে শয্যা বাড়িয়ে ৫০/৬০ জন করে রোগী ভর্তি করা হয়। নীতিমালা ভঙ্গ করার পরও এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার নতুন লাইসেন্স পাচ্ছে। পুরানো লাইসেন্স নবায়ন হচ্ছে।

ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিস থেকে তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় মোট ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টরের সংখ্যা ১৭০টি। এর মধ্যে ক্লিনিক রয়েছে ৮১টি।

সূত্রমতে কোটচাঁদপুরের একটি ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন আছে। বাকী ১৬৯টি ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন নেই। এছাড়া ৮৯টি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের কোনোটারই লাইসেন্স ২০১৮ সাল থেকে নবায়ন করা হয়নি।

সদর উপজেলার ডাকবাংলা, বৈডাঙ্গা, সাধুহাটী, বারোবাজার, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, শৈলকুপা, হরিণাকুন্ডুর হাসপাতাল মোড়, মহেশপুরের নেপারমোড় ও খালিশপুরের ক্লিনিকগুলোতে সর্বক্ষণ ডাক্তার থাকে না। ক্লিনিক মালিক, ছেলে. স্ত্রী ও মেয়েরাই কোন কোন ক্লিনিকের স্টাফ সেজে কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপারেশন থিয়েটার ও রোগীর শয্যারুমে নোংরা পরিবেশ বিরাজ করে। ফলে রোগীরা বিপদে পড়লে তেমন কোন সহায়তা পান না। ফলে প্রায় এসব ক্লিনিকে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত