ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ৭ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২১, ১৩:৫২

প্রিন্ট

ওষুধ চুরির ছবি ধারণ করায় ১০ সংবাদকর্মী তালাবদ্ধ

ওষুধ চুরির ছবি ধারণ করায় ১০ সংবাদকর্মী তালাবদ্ধ
গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টার ও ঝোপের ভিতর থেকে ‍উদ্ধারকৃত ওষুধ

বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালের গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বস্তাভর্তি চুরির ওষুধের ভিডিও এবং স্থির চিত্র ধারণ করায় গেট তালাবদ্ধ করে ১০ সংবাদকর্মীকে দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে খবর পেয়ে অন্যান্য সংবাদকর্মী, গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে তাদের উদ্ধার করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আমরুল্লাহ এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাজেদুল কাওসার এর বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখার এ অভিযোগ উঠে।

অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় সংবাদকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে বিষয়টি প্রচার করলে রাতেই হাসপাতাল কম্পাউন্ডে শতশত এলাকাবাসী ও সংবাদকর্মীরা জড়ো হয়। এসময় তারা অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে প্রত্যহারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুরো ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়ে শনিবার রাত ১টার দিকে উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত করেন।

অবরুদ্ধ থাকা সংবাদকর্মী গিয়াস উদ্দিন মিয়া বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা হাসপাতালের পাশের নির্জনস্থানে বিপুল পরিমাণ ওষুধ চুরির খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা দেখতে পান কয়েকটি বস্তা ভর্তি সরকারি ওষুধ হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাজেদুল কাওসার ও ষ্টোরকিপার সাইদুর রহমান, কর্মচারী আনোয়ার হোসেন, খোকন ও দুলালসহ বহিরাগত আরো ৪/৫ জন।

এসময় সংবাদকর্মীরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে ডাঃ মাজেদুল কাওসার ও তার সহযোগিরা বেশ কিছু ওষুধ ফেলে পালিয়ে যায়। কিছু সময় পর সংবাদকর্মীরা দেখতে পান হাসপাতালের দুইটি গেট তালাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অবরুদ্ধ সংবাদকর্মীরা তাৎক্ষনিক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেলে ইউএনও ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাত সাড়ে দশটার দিকে তালা খুলে দেয়।

পরবর্তীতে ইউএনও’র নির্দেশে থানা পুলিশ তল্লাশী চালিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারের বাসা, বাসার পাশের ঝোপ জঙ্গলের মধ্য থেকে বস্তা ও কার্টন ভর্তি সরকারি ওষুধ ও ইনজেকশন জব্দ করা হয়। যার প্রত্যেকটির মেয়াদ রয়েছে আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত।

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সংবাদকর্মীদের অবরুদ্ধর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশকিছু সরকারি ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। যার অধিকাংশরই ডেট রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে শনিবার রাত ৮ টা ২৩ মিনিটের সময় হাসপাতাল থেকে অসংখ্য ওষুধের কার্টন ট্রলি ভর্তি করে বাহিরে নেয়া হচ্ছে।

‘‘পুরো ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রির্পোট পাওয়ার পর যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’

অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আমরুল্লাহ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, স্টোরকিপার ডেট ওভার কিছু ওষুধ পুড়িয়ে ফেলেছে। তবে বস্তাভর্তি পাচারকরা (ডেট থাকা) সরকারি ওষুধ উদ্ধার এবং সাংবাদিকদের অবরুব্ধ করে রাখার ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপর অভিযুক্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাজেদুল কাওসার পুরো ঘটনার দায়ভার চাপালেন স্টোরকিপার সাইদুল ইসলামের উপর। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে ঘটনাস্থলে তার (মাজেদুল কাওসার) উপস্থিতি থাকার ব্যাপারে তিনিও কোন কথা বলতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন- শমী কায়সারকে মামলা থেকে অব্যাহতি

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত