নীলফামারীতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ‘২৮ লাখ টাকা’ ছিনতাই
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ১৭:৩৩

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী সংলগ্ন সড়কে তিন মাসের মাথায় আবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এবার এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ২৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখুলি স্লুইচগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার।
তিস্তা সড়কে আবার ডাকাতি শুরু হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
আহত জামিয়ার রহমান (৪৫) ওই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাতুনামা গ্রামের প্রয়াত আজিমুদ্দিনের ছেলে। তিনি চাপানী বাজারে ভুট্টা ও কীটনাশক ব্যবসায়ী। জামিয়ার ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় ভুক্তভোগী জামিয়ার রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, জলঢাকা বাজার থেকে ব্যাবসায়িক পাওনার ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে চাপানী বাজারে নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরছিলেন।
পথে চারটি মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারী আট সদস্যের একটি ডাকাত দল তার গতিরোধ করে। প্রথমে ধারাল অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। বাধা দিলে ডাকাতরা তাকে কুপিয়ে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরে পথচারীরা তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নীলফামারী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহসিন আলী। তিনি বলেন, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত অপরাধীতের আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি তিস্তা সড়কে টহল বৃদ্ধি করা হবে।
তিস্তা সড়কে আবার ডাকাতি ও ছিনতাই শুরু হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। বাসিন্দারা বলছেন, তিস্তা নদীর সংলগ্ন সড়কগুলোতে পুলিশের নিয়মিত টহল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকার অভাবে ডিমলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার কথা বলেছেন ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার।
এর আগে ২৯ মার্চ রাতে একই এলাকায় শতাধিক ট্রাক ও মাইক্রোবাস আটকে চালক-যাত্রীদের কাছ থেকে অন্তত ৩৫টি মোবাইল ফোন এবং প্রায় দুই লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে এবং ডাকাতির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দক্ষিণ সোনাখুলি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, কয়েক মাস আগেও এই সড়কে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করলে কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও আবারও ডাকাতরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন সন্ধ্যার পর মানুষ প্রয়োজন ছাড়া এই সড়কে চলাচল করতে ভয় পাচ্ছে।
চাপানী বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যবসার প্রয়োজনে প্রায়ই রাতে টাকা-পয়সা নিয়ে চলাচল করতে হয়। কিন্তু বারবার ডাকাতির ঘটনায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসা পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়বে।
ছাতুনামা গ্রামের বাসিন্দা নুর ইসলাম বলেন, তিস্তা এলাকার অনেক সড়ক নির্জন। পুলিশি টহল খুব একটা চোখে পড়ে না। এ সুযোগে অপরাধীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ডাকাতি করছে। নিয়মিত টহল ও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










