এক আঘাতে দুই শান্তিচুক্তি ভেঙে দিতে চান নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০৮

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘কোনো আক্কেলজ্ঞান নেই’একবার ইসরায়েলের সাংবাদিক বারাক রাভিদকে বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বাস্তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী খুব ভালো করেই জানেন তিনি কী করছেন।
গত রোববার (১৪ জুন) লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে নেতানিয়াহু এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করেছেন। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত প্রাথমিক শান্তিচুক্তি। দ্বিতীয়ত, সেই চুক্তির আলোকে ইসরায়েল-লেবাননের মধ্যে যে ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছিল, তাও।
এই হামলার পেছনে নেতানিয়াহুর আরও একটা বড় কৌশল রয়েছে। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটা প্রতিরোধ সমীকরণ তৈরি করতে চাইছিল। সেই সমীকরণ অনুসারে, লেবাননের যেকোনো জায়গায় ইসরায়েল হামলা করলে ইরান সরাসরি ইসরায়েলে পাল্টা আঘাত করবে। নেতানিয়াহু শুরুতেই এই নতুন সমীকরণকে ভেঙে দিতে চেয়েছেন।
গত সপ্তাহে ইসরায়েল-ইরানের মধ্যে যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বিনিময় হয়েছে, তা শুধু প্রতিশোধের খেলা ছিল না। এর পেছনে ছিল গভীর ভূ-রাজনৈতিক হিসাব। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইসরায়েল বৈরুতের দাহিয়েহতে হামলা চালালে ইরান প্রথমবারের মতো সরাসরি ইসরায়েলের ভেতরে আঘাত করে। এরপর ইসরায়েল আবার পাল্টা হামলা করে, ইরানও জবাব দেয়। শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল কিছুটা পিছু হটে এবং দক্ষিণ লেবাননে হামলা সীমিত রাখে।
এই ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরান এখন লেবাননে ইসরায়েলের অবাধ হামলার স্বাধীনতায় লাগাম টানতে চায়। গত কয়েক দশকে এই প্রথম কোনো বড় আঞ্চলিক শক্তি ইসরায়েলের বাইরের অভিযানের ওপর এমন সরাসরি চাপ তৈরি করছে।
নেতানিয়াহু নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে হামলার ভিডিও পোস্ট করে বড়াইও করেছেন। তিনি জানতেন, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সই হওয়ার কথা। ঠিক তার আগের মুহূর্তে বৈরুতে হামলা চালিয়ে তিনি ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে বড় ধাক্কা দিয়েছেন।
একজন কূটনীতিক ফক্স নিউজকে বলেছেন, এটা ট্রাম্পের চুক্তি ভেঙে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের স্পষ্ট চেষ্টা। তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের মধ্যে টেনে নামাতে চায়।
ট্রাম্প নিজেও ক্ষুব্ধ। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর ছোট হামলার জবাবে এত বড় পদক্ষেপ ঠিক হয়নি। কেউ হতাহতও হয়নি, অথচ শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।
ওয়াশিংটন এখন দুইদিক থেকেই চাপে আছে। একদিকে ইরান বলছে ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণ করো, অন্যদিকে ইসরায়েল ইচ্ছেমতো উত্তেজনা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে ফেলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প যদি স্পষ্ট করে বলেন যে ইসরায়েলের অযৌক্তিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্র আর অংশ নেবে না বা রক্ষা করবে না, তাহলেই হয়তো পরিস্থিতি বদলাতে পারে। না হলে ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিকে ইসরায়েল-লেবানন সংঘাত থেকে আলাদা করে দেখবে না।
নেতানিয়াহুর এই এক আঘাতে শুধু বৈরুত নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যতের শান্তি প্রক্রিয়াই ঝুঁকিতে পড়েছে।
লেখা: ত্রিতা পার্সি
বাংলাদেশ জার্নাল/জে










