৯ জনের কাতারকে গোল বন্যায় ভাসাল কানাডা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:৩১

শুরু থেকে শেষ—একের পর এক কাতারের রক্ষণে আক্রমণ চালালো কানাডা। সেগুলো আটকাতে হাঁফিয়ে ওঠল এশিয়ার দেশটি। দুই অর্ধে দু’বার ভুল করে দুটি লাল কার্ড দেখল কাতার। সেসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল উৎসবে মেতে উঠল কানাডা। দুই অর্ধে তিনবার করেন মোট ছয়বার কাতারের জালে বল জড়াল। এতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয় তুলে নিল কানাডা।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কানাডা আর কাতার। আক্রমণাত্মক ফুটবলে কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কানাডা। এবারের আসরের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক তুলে নিয়েছেন জোনাথন ডেভিড। এই জয়ে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে কানাডা।
ইতোমধ্যে দুটি বিশ্বকাপে খেলেছে কানাডা। কিন্তু জয়ের দেখা পায়নি তারা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কানাডা খেলেছে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও। অবশেষে তৃতীয় বিশ্বকাপে এসে ঘরের মাটিতে জয় পেল তারা। সেটিও বিশাল ব্যবধানে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে কাতারের রক্ষণে চাপ তৈরি করে কানাডা। বেশ কয়েকবার আক্রমণেও ওঠে। ফলাফল পেতেও খুব বেশি দেরি হয়নি। ম্যাচের ১৬তম মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। দারুণ শটে বল জালে জড়ান কাইল লারিন।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন জোনাথন ডেভিড। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে বক্সের অনেকটা বাহির থেকে জোড়াল শট নেন টেজন বুকানন। কাতারের ফুটবলারের গায়ে লেগে সেটি দিক পরিবর্তন করে। সেই বল পেয়ে যান কাছেই থাকা কানাডার জোনাথন। বুলেট গতির ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
২ মিনিট পরই আবারও ভুল করে বসেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম ইলামিন। আক্রমণে ওঠা টেজন বুকাননকে ফাউল করে বসেন। রেফারি শুরুতে পেনাল্টির বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে হলুদ কার্ড দেখান তাকে। পরে ভিএআর চেক পেনাল্টির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বক্সের বাইরে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দেন। সেই সঙ্গে হলুদ কার্ড বদলে হোমামকে সরাসরি লালকার্ড দেখান।
দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পর কাতারের রক্ষণে আরও বেশি ভীতি ছড়াতে থাকে কানাডা। একের পর এক কাতারের বক্সে ভীতি ছড়াতে থাকে তারা। তবে আর গোল পাওয়া হচ্ছিল না। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এসে সেটিও কাটে। ব্যবধান ৩-০ করে ফেলে কানাডা।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন জোনাথন ডেভিড। বক্সের বামপ্রান্ত থেকে বক্সে ক্রস বাড়ান অ্যালিস্টেয়ার জনস্টন। লাফিয়ে ওঠে দারুণ হেড করেছিলেন কাইল লারিন। কিন্তু সেটি আটকে দেন কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা। তবে বল গ্লাসবন্দি করতে পারেননি তিনি। ফিরতি বল পেয়ে টোকায় জালে জড়িয়ে দেন জোনাথন।
বিরতি থেকে মাঠে ফিরেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে কানাডা। কাতারের রক্ষণে আক্রমণ চালায় তারা। আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ভুলও করে বসে কাতারের ডিফেন্ডার আসিম মাদিবো। বক্সের বাইরে ফাউল করেন তিনি। প্রথমে রেফারি হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআর চেক করে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার।
ম্যাচের ৬২তম মিনিটে আক্রমণে ওঠে কানাডার আলি আহমেদ। তাকে আটকাতে গিয়ে বক্সের সামনে ফাউল করেন আহমেদ ফাথি। ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি শটে গোল আদায় করে নেন নাথান সালিবা। কানাডার লিড দাঁড়ায় ৪-০ তে।
ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে কাতারের বক্সে একের পর ভীতি ছড়ায় কানাডা। টানা তিনটি আক্রমণ করে কানাডা। প্রথম দুইবারের শট আটকে যায় ডিফেন্স দেওয়ালে। তৃতীয়বার বক্সের মাথায় থেকে দূরের পোস্টে কোনাকুনি শট করেন জেকব শাফেলবার্গ। আটকাতে চেয়েছিলেন মোহাম্মদ আল-মান্নাই। কিন্তু উল্টো নিজেই বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
নয় মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জোনাথন। বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন সালিবা। সেটি আটকায় জোনাথনের পায়ে। বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শরীরটাকে একটু ঘুরিয়ে দারুণ কোনাকুনি শটে বল জালিয়ে পাঠিয়ে দেন তিনি। সেই বিশ্বকাপের এবারের আসরের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক পেলেন তিনি।
বাকি সময়েও আক্রমণের ধার কমল না কানাডার। তবে আর কোনো গোল পায়নি তারা।
বাংলাদেশ জার্নাল/জে










