ঢাকা, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৬ মিনিট আগে
শিরোনাম

রাজস্বের নীতি নির্ধারণকে ‘পুরোপুরি আমলামুক্ত’ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী সাকি

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬, ১৬:০৩

রাজস্বের নীতি নির্ধারণকে ‘পুরোপুরি আমলামুক্ত’ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী সাকি

জাতীয় সংসদে রাজস্ব আদায়ে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন আলাদা করার কথা বলেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, এনবিআর রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন দুটোকে আলাদা করে, নীতি নির্ধারণকে পুরোপুরি আমলাতন্ত্র মুক্ত করে এই বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই নীতি নির্ধারণী জায়গা তৈরি হবে।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তার মতে, বাংলাদেশে রাজস্ব আদায়ের অন্যতম সংকটের উৎস রাজস্ব নীতির জায়গায়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটে করজাল বাড়ানোর উদ্যোগ মুদি দোকানদার বা কাঁচাবাজার পর্যন্ত যাবে কি না, সে উদ্বেগ থাকার কথা তুলে ধরেছেন প্রতিমন্ত্রী।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেছেন, করের হার ওপরের দিকে বাড়ানো হয়নি; বরং ‘যৌক্তিকভাবে’ করজাল বাড়ানো হয়েছে। কর ফাঁকি ঠেকাতে এনবিআর অটোমেশনের কথাও বলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, উদ্বেগ নিঃসন্দেহে আমাদের প্রকাশ করতে হবে কেননা জনগণকে আমাদের স্বস্তিও দিতে হবে।

করজাল বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিন্তু অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে এই করভিত্তি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে যাতে দক্ষতার সাথে কর আদায় করা যায়, তার জন্য ফ্ল্যাট রেটে সামর্থ্য অনুযায়ী এটা নির্ধারণ করা হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংসদে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না জোনায়েদ সাকি।

তিনি বলেন, অর্থায়ন নিয়ে সবার যে উদ্বেগ সেটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এই অর্থায়নে যে ৬ লক্ষ ৯৫ হাজার কোটি টাকা আমাদের রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। বর্তমান যে পারফরমেন্স এনবিআরের, সেটা নিয়ে সবাই আশঙ্কা করছেন, এই টাকা উঠবে না। তবে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কারণে রাজস্ব আদায়ে উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের শেষ চার মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এনবিআরের রাজস্ব আদায় ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ বেড়েছে।

কর ফাঁকি ও কর রেয়াতের কারণে রাজস্ব কম আসে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কর জালিয়াতি কর রেয়াত দেওয়া কর ফাঁকি দেওয়া এইসব কারণে আমাদের প্রয়োজনীয় রেভিনিউ আসে না। সে কারণে আমরা অটোমেশনের মধ্যে গিয়েছি।

বাজেটের আকার নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে সাধারণত জিডিপির ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশের মতো বাজেট প্রণয়ন হয়। সেই তুলনায় বাংলাদেশের বাজেট বরং ছোট।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার হিসেব আমরা করি এবং আমরা যে বাংলাদেশকে যেখানে নিতে চাই, সেই জায়গার বিবেচনা করি, তাহলে আসলে সেই বাজেট বরং আকারে ছোট বাজেটই।

বিগত সময়ের ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ এবং ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি’ পাওয়ার কথা তুলে ধরে গণসংহতি আন্দোলনের এই সংসদ সদস্য বলেন, অনেকগুলো ক্ষেত্রে অর্থনীতির, ব্যাংকিং এবং আর্থিক খাতসহ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার সংকোচনমূলক বাজেটের পথে যায়নি তুলে ধরে তিনি বলেন, একটা সংকট থেকে যখন অর্থনীতির উত্তরণ ঘটাতে হয়, তখন সাধারণভাবে একটা প্রসারণশীল বাজেটই সেই কাজটা সমাধান করেছে। আমরা একটা রক্ষণশীল কিংবা সংকোচনমূলক বাজেটের চিন্তা করিনি। রাজনৈতিক সরকার হিসেবে এই বাজেট একটা প্রসারণশীল বাজেট হিসেবে সামনে এসছে।

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত বাস্তব বাজেট’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। ঋণনির্ভরতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে সাকি বলেন, ঘাটতি ছাড়া বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কোথাও বাজেট হয় না। কথা হচ্ছে যে আমরা কি ঋণ নির্ভরতার দিকে যাচ্ছি? আমরা কি রাজস্বকে কনস্ট্যান্ট একটা জায়গায় আটকে থাকা, অচল অবস্থার মধ্যে রেখে ক্রমাগত ঋণ বাড়িয়ে যাচ্ছি, মোটেই তাই না।

অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণনির্ভরতা কমানোর ইঙ্গিত বাজেটে আছে দাবি করে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে শতাংশ আকারে যা ঋণ করা হচ্ছে, সেটা পূর্ববর্তী অর্থবছরের চাইতে কম এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত