ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৮ মিনিট আগে
শিরোনাম

রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আলোচনার শুরুর জন্য ইইউ প্রস্তুত

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ১৯:০৪

বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আলোচনার শুরুর জন্য ইইউ প্রস্তুত

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছানোর পর ইউরোপের দেশগুলোতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য পাঠাতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউর প্রস্তুত থাকার কথা বলেছেন রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অনুসন্ধানমূলক আলোচনা শুরুর জন্য ইইউ প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশকে একটি প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা (এনটিবি-নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার) দূর করা, ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক সুবিধা মসৃণভাবে অব্যাহত রাখতে দ্রুত ও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রদূত মিলার।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৮ সালে। চূড়ান্তভাবে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে।

কিন্তু কোভিড মহামারীর কারণে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায় দুই বছর। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্বগ্রহণের পরদিন এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে জাতিসংঘকে চিঠি পাঠায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। পরে ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিবের নিকট প্রেরিত এক পত্রে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জুনের শুরুতে এ বিষয়ে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইউরোপের রপ্তানি বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে সেই সুবিধা থাকার কথা নয়।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। …সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ-ইইউ এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইইউয়ের উত্থাপিত বিভিন্ন উদ্বেগ দূর করতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমে এবং অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা আরও শক্তিশালী হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইইউর সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয় সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং একে একে সেগুলোর সমাধানে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সম্পূর্ণ সক্ষম—এ বার্তা পৌঁছে দিতেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

দেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হবে, এমন আশার কথা শুনিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর হবে, জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প-কারখানাগুলো দক্ষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। এসব সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত