বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ২১:৫৮

‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, এমপি।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পরিবেশ ও বৃক্ষরোপণ দুটো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। পরিবেশের বিষয়ে সবাইকে সচেতন করা আমাদের দায়িত্ব এবং পবিত্র কর্তব্য।”
তিনি বলেন, ‘‘পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গাছ অবশ্যই পরিহার করা উচিত। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী ও জলাভূমি ভরাট এবং বন উজাড়ের কারণে দেশের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। গাছপালা, প্রাণী, মাটি, পানি, বায়ুসহ সব উপাদানকে নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।’’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। নিরাপদ বাস্তুতন্ত্রের বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদে বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে থাকা বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।”
দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অনুগ্রহ করে যেখানে-সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না। ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন।”
তিনি জানান, প্লাস্টিক বর্জ্য কমিয়ে আনতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ করছে এবং হ্রাস, পুনঃব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ নীতিকে জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা শুধু নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য ছোট-বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।”
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়; বরং এটিই আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখেই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।”
অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি একটি কথাই বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই—দেশ হোক সকল প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।”
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার এবং পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে মোট ছয়টি জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি পরিবেশ মেলা ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি, ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের সচিব, কূটনৈতিক মিশনের হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূত, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম










