ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৫২ মিনিট আগে
শিরোনাম

জলাবদ্ধতায় বেনাপোল বন্দরে ভাসছে আমদানি পণ্য

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ২২:৩০

জলাবদ্ধতায় বেনাপোল বন্দরে ভাসছে আমদানি পণ্য

এক দিনের টানা বর্ষণে বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন শেডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোটি কোটি টাকার পণ্য হাঁটু পানিতে ভাসছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে বন্দরে শেড ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় শত শত কোটি টাকার আমদানি করা মালামাল।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বিরামহীন বৃষ্টি হচ্ছে এ অঞ্চলে। টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের তিন নম্বর গেইটের সামনের পাঁচটি শেড পানিতে তলিয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমে গেছে। পাম্প দিয়ে পানি বের করার চেষ্টা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী ও অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থপনার কথা বলে আসলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয় না। ফলে আজ জলাবদ্ধতায় শতাধিক আমদানিকারক সব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বীমা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণ দেন না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই।

বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান বলেন, বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়লেও তারা বন্দরের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা নিচ্ছেন না। অধিকাংশ অবকাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বারবার আশ্বাস দিলেও স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর হল বেনাপোল। সরকার এই বন্দর থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। জলাবদ্ধতা নিয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বন্দরের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এই দুর্দশা চললেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বৃষ্টির পানিতে মালামাল ভিজে নষ্ট হলে লোকসানের শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক কাজি রতন বলেন, বৃষ্টিতে বেশকিছু শেডে পানিতে মালামাল ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালছে। তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বৃষ্টি পড়া বন্ধ হলে সমস্যার সমাধান হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত