ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে
শিরোনাম

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে সচিবালয় অভিমুখে পরীক্ষার্থীদের ‘লংমার্চ’

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৬:১৬  
আপডেট :
 ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৭:০২

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে সচিবালয় অভিমুখে পরীক্ষার্থীদের ‘লংমার্চ’

শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে 'লংমার্চ' শুরু করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর সোয়া ৩টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে পরীক্ষার্থীরা পদযাত্রা শুরু করেন।

পদযাত্রায় শিক্ষার্থীদের ‘দফা এক, দাবি এক—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘তুমি কে, আমি কে—ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে—শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

‎এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা আড়াইটার দিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা এসে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সড়কে অবস্থান নিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা সড়কের বিভিন্ন অংশে বসে পড়েন।

তাতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একই সময় মোড়ের চারপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

‎আন্দোলনরত বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের পরীক্ষার্থী আফ্রিদী গণমাধ্যমকে বলেন,আমরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম, আজ বুধবার পরীক্ষা শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে লংমার্চ করব। আমাদের দাবি এখনো মানা হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

আব্দুল গণি সড়কের মুখে শিক্ষা ভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক আটকে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরাও সচিবালয়ের দিকে লংমার্চ শুরু করেছেন। বিকাল পৌনে ৪টায় তাদের পদযাত্রা আজমপুর পার হয়।

এর আগে এদিকে পরীক্ষা শেষে দুপুর দেড়টার দিকে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক আটকে দেন আরেকদল শিক্ষার্থী। তাতে মহাসড়কের চারটি লেনেই যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের এই জমায়েতে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, নবাব হাবিবুল্লাহ কলেজ ও উত্তরা হাইস্কুলের পরীক্ষার্থীদের দেখা যায়।

হাবিবুল্লাহ কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের অধিকারের জন্য দাঁড়িয়েছি। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। আমরা লংমার্চ করব।

সেখানেও ‘তুমি কে আমি কে, ব্রয়লার, ব্রয়লার, কে বলেছে কে বলেছে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী’; দফা এক দাবি এক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ'-সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায় আন্দোলনকারীদের।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান বলেন, ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে। উত্তরা বিএনএস টাওয়ারের সামনে দুই দিকে যান চলাচল বন্ধ আছে। পরীক্ষা শেষ বিভিন্ন দিক থেকে ছাত্ররা আসছে। আমরা চেষ্টা করছি তাদের বোঝানোর জন্য।

রোববার দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে সোমবারের এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ওঠে। তবে চট্টগ্রাম বোর্ডে ও এ বিভাগ ছাড়া সোমবার অন্যান্য এলাকায় পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা বোর্ডগুলো। ভারি বর্ষণ চলে সোমবার বিকাল পর্যন্ত। ফলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ আসে। একই দিন পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষা দুইটি ভুল প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় পরীক্ষার্থীদের।

এরমধ্যেই সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ঘিরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়ে। যেখানে শিক্ষামন্ত্রীকে এক নারীর সঙ্গে আলাপচারিতায় পরীক্ষার্থীদের 'ফার্মের মুরগি' বলে সম্বোধন করতে শোনা যায়।

এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ, পরীক্ষা স্থগিত করা এবং সোমবারের পরীক্ষায় বসতে না পারা পরীক্ষার্থীদের ফের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানী ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইল, ঝালকাঠি, জয়পুরহাট, বরিশাল, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে পরীক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগির সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন।

পরীক্ষা দিতে সমস্যায় পড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের প্রথম পত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

অন্যদিকে নিজেদের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দেয়, বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত না হলে তারা সচিবালয় অভিমুখে ‘লং মার্চ’ করবে।

বুধবার চট্টগ্রাম ছাড়া নয়টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলা ছাড়া অন্যান্য জেলায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিমে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএমটির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ ও ২, ভোকেশনালের উচ্চতর গণিত ১ ও ২ এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের উচ্চতর হিসাব বিজ্ঞান পরীক্ষা হয়।

বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার কারণে গত ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বিভাগ ও এ বোর্ডের জেলাগুলোতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত আছে, যা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত