ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৭ মিনিট আগে
শিরোনাম

মানবপাচার ও চোরাচালান রোধে নতুন আইন ‘মাইলফলক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪৮

মানবপাচার ও চোরাচালান রোধে নতুন আইন ‘মাইলফলক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মানবপাচার প্রতিরোধে নতুন আইন ‘অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকর’ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মানবপাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র কর্তৃক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এই আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় আধুনিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরও জোরদার করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে বাংলাদেশ সরকার বদ্ধপরিকর। সদ্য প্রণীত ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ এসব গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।

মন্ত্রী বলেন, নতুন আইনে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই আইনে অভিবাসী চোরাচালানকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে তা দমন ও বিচারের জন্য একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষাও শক্তিশালী করেছে এই আইন।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত করার পাশাপাশি নতুন এই আইনে ভুক্তভোগীদের শাস্তি না দেওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিও সমুন্নত রাখা হয়েছে।

এর মাধ্যমে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আয়োজকদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ের এই অবহিতকরণ অনুষ্ঠান আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন আইন সম্পর্কে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা আইনটির মূল বিধান ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেন।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা এবং প্রধান দিকগুলো অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

এরপর আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত