ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬ অাপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:০২

প্রিন্ট

হতদরিদ্রের খুঁজে কম্বল বিতরণ করছেন জেলা প্রশাসক!

হতদরিদ্রের খুঁজে কম্বল বিতরণ করছেন জেলা প্রশাসক!
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

অন্য কোন স্থানে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলে একই মানুষ বারবার পেয়ে থাকে। এ কারণে রাতের বেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সঠিক অসহায় ব্যক্তি নির্ধারণ করে শীতবস্ত্র প্রদান করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান সেলিম।

শুক্রবার রাতেও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। বেশ কয়েকদিন ধরেই তার এ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শহরের বিভিন্ন হোটেলে কর্মরত শ্রমিকদের শীতবস্ত্র দেন জেলা প্রশাসক। ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের পরিছন্ন কর্মী সালেকুর রহমান জানান, এই প্রথমবার হোটেল শ্রমিকদের কম্বল দিলেন জেলা প্রশাসন। আমরা রাত-দিন হোটেলে কাজ করি। শীতের সময় অনেকেই কম্বল পায়। কিন্তু আমাদের কপালে জোটে না। এবার ডিসি স্যার নিজে এসে কম্বল দিলেন। কি যেভাল লাগছে তা প্রকাশ করতে পারবো না।

জেলা প্রশাসকের হাত থেকে কম্বল পেয়ে ৯০ বছর বয়সী মোনষী বেওয়া আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘এবার তোমার কম্বলটা দিয়া জার পালাবে। এবার তোমার কম্বলটা দিয়া জার কাটবে স্যার। হামার এইতি সব সময় আগত জার শুরু হয়। হামার গ্রামোত তোমা ছাড়া কোনোদিন আর কাইয়োই কম্বল দেয় নাই। এ কম্বলকোনা গাত দিয়া কোনও রকম আইত কাটমো এবার। হামা গরীব মানষি। কেউই হামার খোঁজখবর নেয় না। তোমায় এবার খোঁজ করি জারের কম্বল দিয়া হামার উপকার কইল্লেন। স্যার, উপরওলায় তোমার ভাল করবে’।

বৃদ্ধা মানষী বেওয়ার মতোই অনুভূতি জানালেন একই এলাকার মেনেকা রানী (৭৫), বিনোদিনী বালা (৮৫), আবেদল আলী (৬৫) ও বুধারাম রায় (৮০)।

আসমা খাতুন বলেন, ৬ সন্তান নিয়ে এলাকায় ঝুপড়ি ঘরে থাকি। স্বামী নেই। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুবই কষ্টে থাকি। এক বেলা খেতে পারি তো আর এক বেলা খেতে পারি না। ডিসি স্যারের কম্বলটা খুবই উপকারে হবে। তাদের প্রতি আশীর্বাদ থাকলো।

কম্বল বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থাকছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুর কুতুবুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শীলাব্রত কর্মকার এবং এনডিসি মো. তরিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

গত কয়েকদিন রাতে সদর উপজেলার খালপাড়া, ডাক্তার পাড়া, মাস্টার পাড়া ও নারগুনের কৃষ্ণপুর গ্রামে এবং রোড রেল স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে শীতার্তদের মাঝে ৫ হাজারের কম্বল বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে মানুষ শীতে কাবু হয়ে যায়। তাই শীতকে এখনো দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। ফলে আমরা প্রত্যেক ব্যক্তির বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করে শুধু অসহায়দেরই শীতবস্ত্র প্রদান করছি। সমাজের বিত্তবানসহ সচ্ছল ব্যক্তিদের অসহায় ও দুস্থদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহবান জানান।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close