ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২০

প্রিন্ট

চিকিৎসকের আত্মহত্যা: স্ত্রী, শ্বশুর-শ্বাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

চিকিৎসকের আত্মহত্যা: স্ত্রী, শ্বশুর-শ্বাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

শিরায় বিষপ্রয়োগ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের (৩২) আত্মহত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ। তদন্তে স্ত্রী, শ্বশুর-শ্বাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই আবদুল কাদের সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দিলেও বুধবার বিষয়টি জানা যায়।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- চিকিৎসক আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতু, তার মা শামীমা শেলী, বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, ছোট বোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা এবং মিতুর কথিত বন্ধু ডা. মাহবুবুল আলম।

মামলার ছয় আসামির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় নাগরিক উত্তম প্যাটেল নামের একজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অভিযোগপত্রটি প্রসিকিউশন শাখায় জমা পড়েছে। মঙ্গলবার সরকারি ছুটি ছিল। আজ (বুধবার) আমরা সেটি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠিয়েছি। সেখানে অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার শুনানির সময় নির্ধারিত হবে।’

স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি ভোরে নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকায় নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন চিকিৎসক আকাশ। আকাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবেদনবিদ (অ্যানেসথেশিস্ট) বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মৃত্যুর আগে ভোর ৫টার দিকে মোস্তফা মোরশেদ আকাশের ফেসবুক পেজে দু’টি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। সেখানে আকাশ জানান, ২০০৯ সালে তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর সঙ্গে পরিচয়ের পর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৬ সালে তারা বিয়ে করেন। স্ট্যাটাসের একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে ‘চিটার’ হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও করেন। শেষ স্ট্যাটাসে মোস্তফা মোরশেদ আকাশ স্ত্রীর সঙ্গে একটি ছবি দেন এবং লিখেন, ‘ভালো থেকো আমার ভালোবাসা তোমার প্রেমিকদের নিয়ে।’

এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি আকাশের মা জোবেদা খানম বাদি হয়ে নগরীর চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় দায়ের হওয়া মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে পাঁচজনকে অভিযোগপত্রভুক্ত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আব্দুল কাদের।

এজাহারভুক্ত আসামি আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনায় বসবাসরত ভারতীয় নাগরিক প্যাটেলকে অভিযোগপত্রে বাদ দেওয়া হয়েছে। আসামি প্যাটেল যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় এবং তিনি বাংলাদেশে কোনো অপরাধ সংঘটিত না করায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছিল, আকাশের সঙ্গে বিয়ের আগে মিতুর সম্পর্ক ছিল মাহবুবুল আলমের সঙ্গে। বিয়ের পর আমেরিকায় গিয়ে সম্পর্কে জড়ান প্যাটেলের সঙ্গে। আসামিরা মানসিক যন্ত্রণা ও উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে আকাশকে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হতে বাধ্য করে।

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত