ঢাকা, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৩৪

প্রিন্ট

অর্থাভাবে মেডিকেলে ভর্তি হতে পারছে না দরিদ্র তানিয়া

অর্থাভাবে মেডিকেলে ভর্তি হতে পারছে না দরিদ্র তানিয়া
নাটোর প্রতিনিধি

তানিয়া খাতুন। জন্ম দরিদ্র কৃষক পরিবারে। দুই ভাই-দুই বোনের মধ্যে সবার বড় সে। অদম্য মেধাবী তানিয়া খাতুন এবার এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় পটুয়াখালি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। নাটোরের বাগাতিপাড়ার কোয়ালীপাড়া গ্রামের আবু তালেবের মেয়ে তানিয়া খাতুন। একদিকে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় পরিবারে যেমন বইছে আনন্দের বন্যা, অন্যদিকে অর্থভাবে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় দেখা দিয়েছে পরিবারে।

সামান্য জমিতে চাষ-আবাদ করে কোন মতে সংসার চালান তানিয়ার বাবা আবু তালেব। স্বল্প আয়ের সংসার থেকে কষ্ট করেও সন্তানদের পড়া-লেখার খরচ চালান তিনি। বড় দুই মেয়ে তানিয়া ও তিশা এক সাথে পড়া-লেখা শুরু করে। উপজেলার তমালতলা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে দু’জনেই জিপিএ ৫ পায়। এরপর নাটোর শহরের সরকারি রাণী ভবাণী মহিলা কলেজ থেকে তানিয়া জিপিএ ৫ এবং তিশা জিপিএ ৪ দশমিক ৬৭ অর্জন করে। তানিয়া মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্যে লড়ে যাচ্ছে তিশা খাতুন। ছোট দুই ভাইয়ের মধ্যে তানিম তৃতীয় শ্রেণীর এবং তরিকুল স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। অজ পাড়া গাঁ থেকে তানিয়ার এমন সাফল্যে গ্রামবাসীও খুশি। কিন্তু এতদিন খরচ চালিয়ে এলেও কৃষক আবু তালেব দুই মেয়ের আগামী দিনের খরচগুলো কিভাবে চালাবেন তা নিয়ে চেখে অন্ধকার দেখছেন। তানিয়ার ভর্তির টাকা জোগাড় করতে আয়ের সম্বল সামান্য জমিও লিজ দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও পুরোপুরি টাকা জোগাড় হয়নি। তানিয়ার বাবা আবু তালেব জানান, তিশার খরচের পাশাপাশি তানিয়ার মেডিকেলে পড়ানোর খরচ চালানোর সঙ্গতি তার নেই। স্কুল-কলেজে শিক্ষকরা দুই মেয়ের মেধার দিকে চেয়ে আর্থিক সংকটের কারণে প্রাইভেট পড়াতে কোন টাকা-পয়সা নিতেন না। কোন বিত্তবান ব্যক্তি যদি তার মেয়ের পড়াশোনায় সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন তাহলেই তার ভবিষৎ উজ্জ্বল হবে।

মেধাবী তানিয়া খাতুন জানায়, তার এ সাফল্যে তিনি মা-বাবা এবং মামা আব্দুস সালামের পর স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। মেডিকেলে ভর্তি হয়ে ভালমানের চিকিৎসক হয়ে দরিদ্র মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করার সাথে সাথে দরিদ্রদের সেবা করতে চান। কিন্তু সে আশা পূরণ হবে কিনা তা চিন্তিত। মানুষ তো মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। আমার বিশ্বাস আমার পাশেও কেউ না দাঁড়াবে।

তানিয়ার মা মোমেনা বেগম বলেন, তিনি মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসহায় অনেকের পাশে দাঁড়াতে দেখেছেন। মেডিকেলে পড়ার ইচ্ছা পূরণে তার মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত