ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ১৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:০৯

প্রিন্ট

এমসি কলেজে গণধর্ষণ, ছাত্রলীগের যাদের খুঁজছে পুলিশ

এমসি কলেজে গণধর্ষণ, ছাত্রলীগের যাদের খুঁজছে পুলিশ
সিলেট প্রতিনিধি

ওরা কয়েকজন। সকলেই একে অন্যের সহযোগী। এরা প্রভাবশালী। সিন্ডিকেট সদস্য। এদের দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতো না। যা খুশি তাই করে বেড়াতো গোটা এলাকায়। এই অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রধান নেতা হলো রবিউল। এরপর তারেক, রনি, সাইফুর, মাহফুজ ও অর্জুন। এরা একের পর এক অন্যায় করে বেড়াতো এলাকায়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ টু শব্দটি করতে সাহস পেত না।

গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে নগরীর শাহপরাণ থানায় এ মামলা দায়ের করেছেন।

আরো পড়ুন- এমসি কলেজে গণধর্ষিতা সেই তরুণী যেমন আছেন

শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার আসামিরা হলেন- এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাছুম, রবিউল হাসান, তারেক আহমদ ও অর্জুন। এজাহারভুক্ত আসামিদের সবাই আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রঞ্জিত সরকারের অনুসারী এবং ছাত্রলীগ কর্মী বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে এমসি কলেজের হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দিন বলেন, ‘শুনেছি কারা যেন স্বামী-স্ত্রীকে হোস্টেলে আটকে রেখেছিলো। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।’

আরো পড়ুন- স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে ধর্ষণ করল ছাত্রলীগের কর্মীরা

কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ আহমদ জানান, ‘যতটুকু জেনেছি স্বামী-স্ত্রীকে একদল ছেলেপেলে হোস্টেলে আটক করে রেখেছিলো। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। তারা বিষয়টি দেখছে। আমরাও খোঁজ খবর রাখছি।’

এদিকে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানের রুম থেকে বেশ কিছু দেশীও ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে শনিবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

আরো পড়ুন- সেই সাইফুরের রুম থেকে অস্ত্র উদ্ধার

অন্যদিকে আজ দুপুরের দিকে সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া। এ সময় তিনি বলেন, ‘ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসেন দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার এক দম্পতি। এ সময় স্বামীসহ ওই গৃহবধূকে সাইফুর রহমান ও তার সহযোগী ছাত্রলীগ কর্মীরা পার্শ্ববর্তী ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে যান।

আরো পড়ুন- গণধর্ষণ: এমসি কলেজের দুই নিরাপত্তাকর্মী বরখাস্ত​

পরে স্বামীকে আটকে রেখে ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল, তারেক, রনি, সাইফুর, মাহফুজ এবং অর্জুন। খবর পেয়ে পুলিশ রাত ১০টার দিকে স্বামীসহ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে। পরে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত