ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ১৩ মিনিট আগে
শিরোনাম

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১৬:৪৭  
আপডেট :
 ২৯ জুন ২০২৬, ১৮:০৮

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশ পুনর্গঠনে ‘ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার সকালে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘‘সরকার তার সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে এগিয়ে চলছে। তবে এটি বহু কঠিন একটি পথ।

“বাংলাদেশের মানুষ আমরা প্রত্যেকে গ্রামগঞ্জে ঘোরা মানুষ, মানুষের সঙ্গে ওঠা-বসা করা মানুষ আমরা। বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমী মানুষ, যা আমরা নিজেদের চোখে দেখেছি। আমাদের তরুণ-সমাজ মেধাবী; কৃষকরা উৎপাদনশীল; প্রবাসীরা দেশপ্রেমিক এবং আমাদের উদ্যোক্তারা সম্ভাবনাময়। সুতরাং আমাদের ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।”

সংসদ সদস্যদের মুহুর্মুহু টেবিল চাপড়ানোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এই মহান সংসদের সব সদস্যকে আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, এই বাজেট শুধু সরকারের বাজেট হিসেবে নয়, আসুন আমরা সকলে এ বাজেটকে একটি পুনর্গঠনের বাজেট হিসেবে দেখার চেষ্টা করি।”

সংসদ নেতা বলেন, “আমি বলতে চাই, আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার; জনগণের কষ্ট লাঘব; আর্থিক খাতে আস্থা ফেরানো; কৃষক, শ্রমিক, তরুণ, নারী ও প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার প্রশ্নে আমরা সকলে ইনশাল্লাহ ঐক্যবদ্ধ থাকব।

“এই বাংলাদেশে আর যেন কোনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার কায়েম হতে না পারে, এই বাংলাদেশকে যেন আর কেউ তাদের তাবেদার রাষ্ট্র বানাতে না পারে, এই হোক আমাদের আজকের প্রত্যয়।”

পাচারের অর্থ ফেরত প্রসঙ্গে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ থেকে ‘ফ্যাসিবাদের আমলে’ মানুষের লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গিয়েছিল। সেই পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানাতে চাই, সব সংসদ অত্যন্ত খুশি হবেন যে, বিদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্টেন্ট রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে।

‘‘শুধু তাই নয়, এই মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্টেন্ট ট্রিটি চূড়ান্ত হয়েছে। অনেকগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে ৬০টির বেশি নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট সই করে ফেলেছে। আমরা বাংলাদেশের আইন এবং আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে থেকে যত দ্রুত সম্ভব দেশের মানুষের সম্পদ ইনশাল্লাহ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসব।”

‘করের বোঝা বৃদ্ধি নয়’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই জনগণ আমাদেরকে ভোট দিয়ে এই সংসদে পাঠিয়েছে। এই বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়েই আমরা সরকার গঠন করেছি। সেজন্যই করের বোঝা বাড়ানো আমাদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নয়। করের বোঝা বাড়িয়ে নয়, বরং হয়রানি কমিয়ে করের ভিত্তিকে বাড়িয়ে শাসন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোর মাধ্যমে সরকার রাজস্ব বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করতে চায়।

“এখানে করদাতা যারা আছেন, বিভিন্ন রকম বিষয় আছে, বাস্তবতা আছে, আমি অত বিস্তারিত বলব না, কিন্তু বাস্তবতার বাইরেও আমরা থাকতে পারব না এবং সে কারণে সরকার এমন একটা রাজস্ব ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়, যেখানে করদাতারা কর দিয়ে উন্নয়নে অংশীদার হবেন এবং প্রাউড ফিল করবেন, গর্ববোধ করবেন সেরকম একটা সিস্টেম তৈরি করতে চাই। স্বচ্ছ এবং আধুনিক করতে চাই এই কর ব্যবস্থাকে।

বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষার অন্যতম শর্ত হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই আমরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া সরকারের নেওয়া লিগাল এইড কর্মসূচির ব্যাপক বিস্তার ঘটিয়েছি। গত বছরের তুলনায় এবারে বাজেটে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

‘‘একই সঙ্গে এই সংসদে আমি বিচারকদের আবাসন সমস্যার সমাধান, গবেষণা ও আদালত ভবনের যে সংকট রয়েছে, সেগুলো নিরসনের জন্য, বিচার বিভাগের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আরো একশ কোটি এবং আইন মন্ত্রণালয়কে আরো ৫০০ কোটি অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার জন্য মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।”

‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা যেকোনো মূ্ল্যে হবে’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাল্লাহ এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।”

পদ্মা ব্যারেজ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিএনপি কৃষি বা কৃষিবান্ধব সরকার। বিএনপি সরকার যখনই সুযোগ পেয়েছে, চেষ্টা করেছে দেশের মানুষের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং সে কারণে বর্তমান সরকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

‘‘এই ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে যে অতিরিক্ত পানি আমাদের কাছে আসে, সে পানি আমরা ধরে রাখব, যেন শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের বাকি সময়টা আমরা কৃষকসহ সকলের কাছে পানি সরবারহ করতে পারি।”

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচায় বিরোধীদলের নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

সংসদ নেতার পর বিকালে অর্থ ও পরিকল্পনা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত