ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ১৫:২১

প্রিন্ট

ভিক্ষার টাকায় জীবন চলে শতবর্ষী বৃদ্ধার!

ভিক্ষার টাকায় জীবন চলে শতবর্ষী বৃদ্ধার!
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

একশত তের বছরের বৃদ্ধা মরিয়ম বিবি। স্বামী মারা গেছেন অনেক আগেই। নেই কোন সন্তান, নিজের বাড়ি, জমি কিছুই। পরকোলে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করেছেন তিনি।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জসখাই গ্রামের আয়েশা খাতুন নামের এক নারীর সাথে বসবাস করে আসছেন তিনি। আয়েশা তিনযুগ যাবত হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্নস্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে ঝিয়ের কাজ করে অতিকষ্টে বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে তিনি হবিগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের অনন্তপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন।

আজানের সাথে-সাথেই কাক ডাকার আগেই বের হয়ে পড়েন মরিয়ম বিবি। দিনভর শহরের বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষা করে চলে জীবন। লাঠি ভর করে চলা এই মানুষটি দেখেন না চোখেও। তাই ভিক্ষা করতে গিয়ে অনেকবার ঘটেছে দুর্ঘটনা। বর্তমানে তিনি হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ এর গেইটের সামনের রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষা করেন।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই মানুষটিকে দেখে যার দয়া হয় তিনি তাকে ভিক্ষা দেন। তবে অনেকেই ভিক্ষা না দিয়ে উল্টো গালিগালাজও করেন।

ঠিকভাবে কথাও বলতে পারেন না মরিয়ম বিবি। তবুও আবলিয়ে-থাবলিয়ে তিনি বলেন, আমার স্বামী, সন্তান, বাড়ি-ঘর কিছু নাই। আমার বাবার বাড়ি শহরের শায়েস্তা নগর, আমার কেউ নাই। আমার কোন সন্তানদি নাই।

আয়েশা খাতুন নামের এক মহিলার নিকট থাকি। টাকা-পয়সা অভাবে খেতে পরতে পারি না। রোগ হলে ঔষধ কিনে খেতে পারি না, অনেক সময় উপাস থাকতে হয়।

তিনি বলেন, শরীর অসুস্থ থেকেও ভিক্ষায় বের হতে হয় তাকে। মাস শেষ হতে না হতেই ঘর ভাড়া দিতে হয়। না হলে কোথায় থাকব।

এ ব্যাপারে আশ্রয়দাতা আয়েশা বলেন, আমি প্রায় ৩০ বছরের উপরে মরিয়ম বিবিকে লালন-পালন করছি। ম্যাচে বাসা বাড়িতে আমি ঝিয়ের কাজ করি। মরিয়ম বিবি ভিক্ষা করে যে টাকা-পয়সা পায় তা দিয়ে পেটে ভাতই হয় না অনেক সময়। এর ভিতরে ঘর ভাড়া, ঔষধ, কাপড়-চোপড় কিনা আমার দ্বারা খুবই কষ্টকর।

তিনি বলেন, তিনি সরকারিভাবে শুধু বয়স্ক ভাতা ছাড়া আর কোন সুযোগ সুবিধা পাননি। যদি কোন দয়াবান লোক আমাদের একটি মাতা গোজার ঠাঁই করে দিতেন তাহলে অনেক ভালো হতো।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিপিবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত