ঢাকা, শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৯, ০২:৪৮

প্রিন্ট

হঠাৎ বিদ্যালয়ের ৩৭ ছাত্রী হাসপাতালে

হঠাৎ বিদ্যালয়ের ৩৭ ছাত্রী হাসপাতালে
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগঞ্জে একই বিদ্যালয়ের ৩৭ ছাত্রী অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর কালসারডারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ে প্রতিদিনের ন্যায় মঙ্গলবারও ক্লাস চলছিল। কিন্তু মঙ্গলবার ৬ষ্ঠ শ্রেণির তহমিনা ও বিথী, ৭ম শ্রেণির নুপুর, ৮ম শ্রেণির রিপা ও পুর্ণিমা, ৯ম শ্রেণির কল্পনা, ১০ম শ্রেণির নুরজাহান হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাদেরকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। বিদ্যালয়টি ছুটির পর ছাত্রীরা বাড়ি গেলে পর্যায়ক্রমে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত আরও ৩০ ছাত্রী অসুস্থ হয়। তাদের সকলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়টির ১০০ থেকে দেড়শ গজের মধ্যে একটি ইটভাটা ও একটি হাঁসের খামার রয়েছে। খামারটিতে প্রায়ই বিষাক্ত ওষুধ স্প্রে করা হয়ে থাকে। সম্ভবত ওই ওষুধে আক্রান্ত হতে পারে তারা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হবিবর রহমান সরকার বলেন, বিদ্যালয়ে মোট ৩৩২ জন ছাত্রী রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ করে কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হলে দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পাঁচজনকে ছেড়ে দিলেও দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। বিদ্যালয় ছুটির পরে বিকেলে আরও সাতজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়া হয়। রাত ৮টার পর সহপাঠীদের দেখতে আসা অপর ছাত্রীরাও ধাপে ধাপে অসুস্থ অনুভব করলে গভীর রাত পর্যন্ত ৩৭জন ছাত্রীকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়।

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. বকুল চন্দ্র জানান, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ ছাত্রী মাথা ব্যথা ও বুকে জ্বালার কথা বললেও কয়েকজন শ্বাসকষ্টের কথা জানায়। চিকিৎসা নেয়া ছাত্রীদের মধ্য ৬ষ্ঠ শ্রেণির আখিতারা, তানিয়া, বিথী, তহমিনা, মরিয়ম, ৭ম শ্রেণির সুমনা, রিনা, রিয়া মনি, মিলি, নুপুর, মেশকাতুন, নুরনাহার, ফারাজানা, ৮ম শ্রেণির রিক্তা, রিপা, সুফিয়া, পুর্ণিমা, ৯ম শ্রেণির নুরজাহান, কল্পনা, ১০ম শ্রেণির উম্মে হাবিবা, নুসরাত, লিমা, নুরমনি ও রিতুকে ভর্তি করে অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রী অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। বিদ্যালয় ও আশেপাশে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিষাক্ত কোনো গ্যাসে এ ঘটনা ঘটেনি তা নিশ্চিত হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুহুল আমিন বুলেট জানান, অধিকাংশ ছাত্রী সকালে বাড়ি থেকে খাবার খেয়ে বিদ্যালয়ে আসে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর বিদ্যালয়ে ঝাল-মুড়ি বা চানাচুর জাতীয় খাবার খেলে পেটে গ্যাস হতে পারে। এক সঙ্গে এত সংখ্যক ছাত্রী অসুস্থ এটা ‘মাস সাইকোজেনিক ইলনেস’। অতিরিক্ত ভীতি বা আতঙ্কের কারণে ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, ৩৭ জনের মধ্যে বুধবার সকাল পর্যন্ত চারজন ছাত্রী হাসপাতালে রয়েছে। তারা এখন সুস্থ।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত