৮ পরিচালকসহ এশিয়াটিক গ্রুপের সকল হিসাব জব্দ
বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৫, ২১:১৯ আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৫, ২১:৪৯

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এশিয়াটিক গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। একই সঙ্গে গ্রুপটির আট পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের তথ্য চেয়ে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সিআইসি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রয়াত অভিনেতা আলী যাকেরের স্ত্রী সারা যাকের, ছেলে ইরেশ যাকের, মেয়ে শ্রেয়া সর্বজয়া, ইকরাম মাঈন চৌধুরী, মো. মোরশেদ আলম, মোহাম্মদ হাসান ফারুক ও মো. রেজাউল হাসান। তারা সবাই এশিয়াটিক গ্রুপের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে এশিয়াটিক গ্রুপ আমার দেশ পত্রিকাকে জানায়, ২০২৩ সালের আগস্টে আসাদুজ্জামান নূর প্রতিষ্ঠানটির সব শেয়ার বিক্রি করে চেয়ারম্যান পদ ছাড়েন। তবে তিনি কোন তারিখে পদত্যাগ করেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি গ্রুপটি।
এদিকে ২৩ জানুয়ারি আমার দেশ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত দেড় দশক ধরে এশিয়াটিক গ্রুপ দেশের বিজ্ঞাপন বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করেছে। শেখ হাসিনার শাসনামলে তারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ প্রভাব তৈরি করে, যার মাধ্যমে গণমাধ্যমের ওপর প্রভাব বিস্তার করে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ এই বিজ্ঞাপনী সংস্থা।
সিআইসির চিঠির ভিত্তিতে যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে - এশিয়াটিক মিডিয়া লিমিটেড, এশিয়াটিক মার্কেটিং কমিউনিকেশন লিমিটেড, টকিং পয়েন্ট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (বর্তমানে এশিয়াটিক টকিং পয়েন্ট কমিউনিকেশনস), এশিয়াটিক এক্সপেরিয়েনশিয়াল মার্কেটিং লিমিটেড, অপটিমাম সার্ভিস লিমিটেড, ফোরথট পিআর লিমিটেড, ব্ল্যাকবোর্ড স্ট্র্যাটেজিজ লিমিটেড, রেডিও স্বাধীন প্রাইভেট লিমিটেড, স্টেনসিল বাংলাদেশ লিমিটেড এবং আরও কিছু সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
সিআইসির এক কর্মকর্তা জানান, এক ব্যক্তি স্বনামে, জাতীয় পরিচয়পত্র সংযুক্ত করে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ এশিয়াটিকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তদন্ত শুরু হয়।
তথ্যানুসন্ধানে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এবং তাদের মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো আয়কর ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গোপন রেখেছেন। এমন আশঙ্কায় ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তর রোধে আয়কর আইন ২০২৩-এর ২২৩(২) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এছাড়া এশিয়াটিক গ্রুপের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহার ও আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। একটি অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯-২০১৪ সময়কালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ভারতীয় সেনা ও তাদের পরিবারকে উপহার দেওয়ার নামে সোনা ও অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এছাড়া মুজিব বর্ষ, জয়বাংলা কনসার্ট, ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সফরসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আয়োজনে বাজেট নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
বাংলাদেশ জার্নাল/এজেএইচ










