ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ১২:১৩

প্রিন্ট

ফের বাড়লো পেঁয়াজের ঝাঁঝ, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

ফের বাড়লো পেঁয়াজের ঝাঁঝ
নিজস্ব প্রতিবেদক

পেঁয়াজের বাজারের উত্তাপ লাগামহীন বাড়ছে। এক দিনের ব্যবধানে দুই ধরনের পেঁয়াজের দামই কেজিপ্রতি উঠেছে ১১০ টাকায়। বেশ কিছুদিন দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকায় স্থির ছিল। আমদানি করা পেঁয়াজ নেমেছিল ৯০-৯৫ টাকায়। তবে নিত্য এ পণ্যটির দাম আবারও ১১০ টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজিতে ১০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজে ১৫-২০ টাকা বেড়েছে।

অন্যদিকে গত কয়েক মাস ধরেই বাড়তি সবজির বাজার। কোনোভাবেই দাম কমছিল না। পাইকারি বাজারে কিছুটা দাম বাড়লে, খুচরাতে বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে এবার ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে সবজি। প্রকারভেদে ৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে নানা সবজিতে। সবজির দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল, ডিম, মাছ, গরু ও খাসির মাংসের বাজার। তবে কিছুটা বেড়েছে মুরগির দাম।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান কাঁচা বাজার, মালিবাগ বাজার, মালিবাগ রেলগেট বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এসব বাজারে প্রতিকেজি টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সিম ৬০ থেকে ৭০ টাকা আর গাজর বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। এক সপ্তাহ আগে এসব বাজারে প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ৭০ থেকে ১০০ টাকা আর সিম বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে।

একইভাবে কেজিপ্রতিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে পটল বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, উস্তা-ঝিঙা-ধুন্দুল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, শসা (প্রকারভেদে) ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া আকারভেদে প্রতিপিস বাঁধা কপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ফুল কপি ২০ থেকে ৩০ টাকা, লাউ প্রতিপিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

তবে অপরিবর্তিত আছে কাঁচা মরিচের দাম। এসব বাজারে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে কাঁচা মরিচ। গত সপ্তাহে এ দামে বিক্রি হয়েছে কাঁচা মরিচ।সবজির সঙ্গে কিছুটা কমেছে শাকের বাজার। এসব বাজারে প্রতিআটি লাল শাক ১০ থেকে ১২ টাকা, মুলার শাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, পালং শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, কুমড়ার শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লাউ শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা আটি বিক্রি করতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে সবজির দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল, ডিম, মাছ ও মাংসের বাজার। এসব বাজারের প্রতিকেজি (আকারভেদে) রুই ২২০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা, পাঙাস ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, কই ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কেজিপ্রতি দেশি চিংড়ি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৬৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৪৪০ থেকে ৮৫০, বাইন মাছ (দেশি) ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বাইন মাছ (নদী) ৫০০ থেকে ৮৫০ টাকা, বাইলা ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা, কাচকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, মলা ২৫০ থেকে ৩০০, পুটি (দেশি) ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারে প্রতিকেজি গরু ও মহিষের মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা, খাসি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, ছাগী ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে কেজিপ্রতিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে মুরগির। এসব বাজারে প্রতিকেজি বয়লার ১৫০ টাকা, লেয়ার (সাদা) ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, লেয়ার (লাল) ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অপরিবর্তিত আছে ডিম, ডাল, চাল ও ভোজ্য তেলের দাম।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি আড়ত ঘুরে দেখা যায়, আড়তদাররা দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ১১০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৯০-৯৫ টাকা, মিসর ও চীনের পেঁয়াজ ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি করছেন। স্বাভাবিকভাবেই খুচরা বিক্রেতারা এই দামের সঙ্গে ১০ টাকা পর্যন্ত যোগ করে বিক্রি করে থাকেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত