ঢাকা, বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ১৯:১৬

প্রিন্ট

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে জবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে জবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা
মুজাহিদ বিল্লাহ, জবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৫৮ সালে ব্রাহ্ম স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং নানা বাধা বিপত্তি দূর করে ১৬তম বর্ষে পদার্পণ করবে।

২০ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘিরে সকলে শিক্ষার্থীর থাকে নানান ধরনের আবেগ-অনুভূতি ও অনুপ্রেরণার গল্প। জবি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের ভাবনা এক করে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জার্নালের জবি প্রতিনিধি মুজাহিদ বিল্লাহ।

মারিয়া অনি, বাংলা বিভাগ: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে একটা ভালবাসা আর আবেগের নাম। কোন এক শীতের ঝরাপাতা হয়ে আমার আগমন ঘটেছিলো এর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে। জবি যেন আমাকে বরণ করে নিয়েছিলো পরম মমতায়। গুটি গুটি পায়ে হেঁটেছি এর প্রতিটি সিঁড়ি ও আঙিনায়। ইট-পাথরের দেয়াল ঘেরা নিষ্ঠুর এই নগরীতে জবি আমাকে দিয়েছিলো প্রাণের পরশ আর নির্ভরতার আশ্বাস। তাই আমার প্রাণপ্রিয় বিদ্যাপীঠের জন্মদিবসকে কেন্দ্র করে বরাবরই অনেক পরিকল্পনা ও উত্তেজনা কাজ করে।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস মানেই যেনো বর্তমান ও সাবেক জবিয়ানদের মিলনমেলা। এখানে ভর্তি হয়ে ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে মহাসমারোহে যেমন সেজেছিলো প্রিয় বিদ্যাপীঠ, তেমনি আমরাও। তবে অন্যান্য বারের চেয়ে এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে কেন্দ্র করে আমার আগ্রহটা ছিলো বরং অনেক বেশি। কারণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে এটাই ছিলো আনুষ্ঠানিকভাবে আমার শেষ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন। কিন্ত দুর্ভাগ্যবশত বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রকোপে সে স্বপ্ন যেনো অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেলো। শেষ বেলায় স্মৃতি কুড়নোর সময়টুকুও আর হয়ে উঠলো না।

তবে সব কিছু ছাপিয়ে একমাত্র আশার কথা হলো এই '১৫ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস' উপলক্ষে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আমাদের বহুল প্রত্যাশিত প্রথম ছাত্রীহল 'বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল'। এটি নিঃসন্দেহ আমার আগত ও অনাগত অনুজদের জন্য সুখের বার্তা বয়ে আনবে। আমি থাকি আর নাই থাকি জবির জন্য এ ভালবাসা মনের মণিকোঠায় থাকবে। ভালো থেকো ভালবাসার আশ্রয়স্থল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। সফল হোক '১৫তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস'।

ফাহাদ হৃদয়, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ: ভোরের নতুন সূর্য মানেই নতুন স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেয়ার আরও একটা অপার সম্ভাবনা। ২৫ হাজারেরও অধিক এমন স্বপ্নকে ঠাঁই দিয়ে তাদের জীবনকে রঙিন করে তোলা তীর্থভূমিই হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ছোট্ট চারা গাছ থেকে হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন লালনের মহীরুহ বৃক্ষ হয়ে ওঠা আমাদের প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আর কয়েকদিন পরেই।

দেশের স্বনামধন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় তার গৌরব দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মাথা উঁচু করে অবস্থান গ্রহণ করুক বিশ্ব মানচিত্রে। শিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম ও স্বীয় স্বকীয় গুণাবলীতে দেশে-বিদেশে সর্বত্রই অনন্য হয়ে উঠুক আমাদের প্রাণের স্পন্দন স্বরূপ।

শাহারিয়ার শাকিল, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমার প্রাণের স্পন্দন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত বলে মনে করি। অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সঙ্গতি রক্ষা এবং সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে গবেষণা এবং আধুনিক জ্ঞান চর্চা ও পঠন-পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৫ সালে ২০ অক্টোবর ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ সরকারি কলেজটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরিত হয়।

ক্রমবর্ধমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে ১৬তম বর্ষে পদার্পণ করলো আমাদের প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিবছর নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। কিন্ত এই বছর করোনার কারণে স্থবির হয়েছে গোটা বিশ্ব ফলে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। যার করণে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই বাসায় অবস্থান করছে। তাই জাঁকজমকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিকল্প কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তাছাড়া এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস কে ঘিরে, জবি শিক্ষার্থীদের আলাদা উন্মাদনা রয়েছে। কারণ দীর্ঘদিনের অনাবাসিক তকমা দূর করে 'বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে এটির উদ্বোধন হবে। যা সত্যিই প্রশান্তি দায়ক। পরিশেষে, যে বিদ্যাপীঠ এ জীবনের শ্রেষ্ঠ দিনগুলো পার করছি সেই বিদ্যাপীঠ যেন খুব উচ্চ পর্যায়ে সকল বাধা বিপত্তি মোকাবেলা করে শিক্ষা, গবেষণাসহ সব দিক থেকেই এগিয়ে যাই এই কমনা করি।

খাদিজা মৌরি, দ্বিতীয় বর্ষ, ফিন্যান্স বিভাগ: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নটা স্কুল জীবনেই বাসা বেঁধেছিল আমার মনে। উচ্চ মাধ্যমিক শেষে বলা চলে আদা জল খেয়েই লেগেছিলাম পাববিক বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পাওয়ার জন্য। সেই সময়টা জীবনের সবচেয়ে হতাশাময় ও কষ্টকর হিসেবে বিবেচনা করলে ভুল হবে না। কষ্টের প্রাপ্তি, আজ আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। শিক্ষাজীবনের এক অন্যতম স্বর্নজ্জ্বল সময় পার করছি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার স্বপ্নটা পূরণ হয়েছে।

মূলত বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য অনেক আনন্দের ও গৌরবের দিন। এইদিনে ক্যাম্পাস বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়। কিন্তু করোনাকালে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় এবছর থাকতে পারছি না। মিস করছি প্রিয় ক্যাম্পাসকে।আবারও ফিরতে চাই ভালবাসার প্রাণকেন্দ্র প্রিয় ক্যাম্পাস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

অন্তু হালদার, প্রথম বর্ষ, শিক্ষা এবং গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভাগ: আমি যখন খুব ছোট, তখন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটির সাথে বেশ পরিচিত। কেননা আমার মামা, মাসিরা অধ্যয়ন করতেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমার স্বপ্ন ছিলো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার। খুব ভালো শিক্ষার্থী যে ছিলাম তা কিন্তু নয়, তবে অধ্যবসায় করতাম খুব। হয়তো তারই ফল পেয়েছি আমার নামের পাশে জবিয়ান।

কোচিং এর জন্য ঢাকায় আসি অনেকটা জোরাজুরি করেই। তবে মা পুরোটা সাপোর্ট করেছিলেন। দাদা বই কিনে দিয়ে যায় আর বলে, গা ছেড়ে দিস না এমনও হতে পারে তুই জগন্নাথেই পড়বি। ১৯ তারিখটা পুরো সময়েই পড়েছি, যেটার ফল পরীক্ষার হলে গিয়ে পেয়েছি। ওয়েটিং লিস্টে ছিলাম তবে কেন জানি আত্মবিশ্বাস ছিল আমি চান্স পাবোই, পেয়েছিও। দৃঢ় বিশ্বাস আর চেষ্টা থাকলে সবই সম্ভব। বিশ্বিবদ্যালয়ের পাশ দিয়ে গেলেও নিজে সার্থক মনে হয় একটা জোর পাই। কেমন একটা অনুভূতি যেটা বোঝানো যায় না।

খুব বেশিদিন হয়নি আমার তাও অনেকটা ভালোবাসি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে। প্রতিটা মানুষই তার প্রতিষ্ঠানকে ভালোবাসে। ২০ অক্টোবর ২০০৫ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানেও যুদ্ধ করেই টিকতে হয়। আমার চোখে আমার ভার্সিটি সেরা, আমার চোখে আমার স্বপ্ন পূরণের স্তর। ২০ অক্টোবর জগন্নাথের জন্মদিন। গতবার যখন পালন হয়েছিলো দেখে খুব ইচ্ছে করছিলো আমিও থাকতে পারতাম, এবার সত্যিই থাকতে পারতাম। কিন্তু করোনা মহামারীর প্রভাবে এ বছর থাকতে পারছি না। তবুও মিস করছি প্রিয় ক্যাম্পাসকে। শুভ জন্মদিন প্রিয় প্রতিষ্ঠান। শুভ হোক তোমাতে অধ্যয়নরত প্রতিটা শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যাতে তোমায় চেনে সারা বিশ্ব।

সুমাইয়া সাকা শিমু, প্রথম বর্ষ, দর্শন বিভাগ: বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছেটা জেগেছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় থেকেই। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পরে সেরকম ভার্সিটিতে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে পারিনি অন্য সবার মতো। ভর্তি পরীক্ষার দেড় মাস আগে কোনোরকম প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। প্রথমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম, আর বিধাতা আমার ভাগ্য এখানেই ঠিক করে রেখেছিলেন হয়তো। তাই আজ আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হবার সুযোগ পেয়েছি।

খুবই ভালোলাগে নিজেকে একজন জবিয়ান হিসেবে পরিচয় দিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করেছি মাত্র দেড় মাস। কিন্তু তাও এই অল্প সময়ে ভার্সিটির প্রতিটি জায়গা, মানুষজন সবাই অনেক আপন হয়ে গেছে। মনে হয় কত বছর একসাথে কাটিয়েছি। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অনেক আশা ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইভেন্টে অংশ নিবো। কিন্তু করোনা মহামারির প্রভাবে এ সময়ে ঢাকার বাইরে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে অংশ না নিতে পারায় অনেক আফসোস হচ্ছে। এই দিনটি প্রতিটা শিক্ষার্থীর জন্যই অনেক আনন্দের, গৌরবের। এইদিনে পুরো ক্যাম্পাস বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত হতো। এ বছরের আয়োজন হয়তো আগের দিনগলোর মতো হবে না। প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে থাকতে পারছি না, তাই সত্যি অনেক দুঃখ হচ্ছে। জানিনা কবে আবার প্রিয় ক্যাম্পাসের মুখ দর্শন করবো। অনেক মিস করি সবাইকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেখা হবে আবারও প্রানপ্রিয় জবি মিলনায়তনে। শুভ জন্মদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে জবি এগিয়ে যাক এগিয়ে যাক জবিয়ানরা। বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনুক সন্মান।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত