ঢাকা, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫০

যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সারা দেশে ১৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। বড় এ নিয়োগের আবেদনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আবেদনপত্র যারা পূরণ করেছেন তাদের এখন ব্যস্তু সময় কাটছে প্রস্তুতিতে। শেষ মুহূর্তে এসে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী।

আগামী ১৫ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এমসিকিউ পদ্ধতির লিখিত পরীক্ষা নিতে ইতিমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষার শেষ করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এবার প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ২৬ লাখের বেশি চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করেছেন। সারা দেশে ১৩ হাজার আসনের বিপরীতে তারা এ ভর্তিযুদ্ধে বসবেন।

বিগত বছরগুলোতে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন জানিয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতা।

ইংরেজি মিঠাপুকুররের লাহিড়ীগঞ্জ সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেরাজুম মনিরা বলছেন, ইংরেজিতে ভালো করার সহজ উপায় হলো ভালো করে ইংরেজি ব্যাকরণগুলো নিজের আয়ত্ত করে নেওয়া। মূলত এই ব্যাকরণ থেকেই বেশির ভাগ প্রশ্ন পাওয়া যাবে। Article, Noun, Spelling, Synonyms, Right form of verbs, Adjective, Voice, Narration, Preposition, Correction, Translation—এই অধ্যায়গুলো পড়তে হবে অত্যন্ত মনোযোগসহকারে। ইংরেজিতে প্রশ্ন থাকে মোট ২০টি, যার বেশির ভাগ এই অধ্যায়গুলো থেকেই আসে। আর সঙ্গে রাখতে হবে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি লেখক সম্পর্কে ধারণা। তাহলে সাহিত্য অংশে ভালো করা যাবে।

বাংলায় মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের ৫৭ নম্বর তালুকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রিক্তা আক্তার বলেন, বাংলা অংশ থেকে ২০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন থাকে। বাংলার জন্য পড়তে হবে বিশিষ্ট লেখকদের জীবনী, উক্তি, জন্ম-মৃত্যু তারিখ ও পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণের বিভিন্ন অধ্যায়। ব্যাকরণের জন্য কারক ও বিভক্তি, সমাস, বাগধারা, এক কথায় প্রকাশ, শুদ্ধিকরণ, সন্ধি, এই অধ্যায়গুলো পড়লে বাংলা অংশে ভালো করা যাবে। এ ছাড়া বিগত সালের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে।

গণিতে কক্সবাজারের মহেশখালীর নোনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ঈদি আমিন বলছেন, গণিতে বেশির ভাগ পরীক্ষার্থীই খারাপ করে। এই অংশ থেকে ২০টি উত্তর করতে হয়। এতে ভালো করতে হলে পরীক্ষার্থীদের সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতির বিভিন্ন অধ্যায়গুলো বারবার চর্চা করা দরকার। পাটিগণিতের জন্য গড়, শতকরা, ঐকিক নিয়ম, সুদকষা, অনুপাত এই অধ্যায়গুলো ভালো করে নিয়মিত চর্চা করলে পরীক্ষায় এ থেকে প্রশ্ন পাওয়া যাবে। আর বীজগণিতের জন্য মান নির্ণয়, উৎপাদক ইত্যাদি অধ্যায়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে। জ্যামিতিতে ভালো করতে হলে বর্গক্ষেত্র, ত্রিভুজ, আয়তক্ষেত্র, রম্বস, সামান্তরিক—এগুলো পড়লেই হবে।

সাধারণ জ্ঞান দিনাজপুরের বিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রোখসানা পারভীন বলছেন, সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। এ ছাড়া তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়েও জানতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্ন, বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো ভালো করে পড়তে হবে। নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা পড়া, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি, রাজনীতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। এ ছাড়া পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির বোর্ডের বইয়ের ওপর দখল থাকলে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব।

সঠিক উত্তর দিন রংপুরের গিলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহানা পারভিন বলছেন, অনেকেই আছেন নিশ্চিত না হয়েই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন, যা করা মোটেও উচিত না। কারণ, প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হয়। অর্থাৎ চারটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা হয় ১ নম্বর। বিষয়টি খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে। তাই কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে তা না দেওয়াই ভালো।

পরীক্ষা পদ্ধতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় ৮০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। লিখিত পরীক্ষা হয় বহু নির্বাচনী বা এমসিকিউ পদ্ধতিতে। পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। ৮০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন থাকে। প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান ১ নম্বর। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসে। প্রতিটি বিষয় থেকে ২০টি করে প্রশ্ন থাকে। প্রতিটি সঠিক উত্তরে ১ নম্বর পাওয়া যাবে। রয়েছে নেগেটিভ মার্কিং। প্রতিটি ভুল উত্তরে কাটা যাবে ০.২৫ নম্বর অর্থাৎ প্রতি চারটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে ১ নম্বর। প্রতিটি প্রশ্নের নিচে (ক), (খ), (গ), (ঘ) এই রকম ৪টি করে সম্ভাব্য উত্তর দেয়া থাকবে। উত্তর প্রদানের জন্য একটি ওএমআর (OMR) শিট প্রার্থীকে আলাদাভাবে পরীক্ষা কক্ষে দেয়া হবে। প্রার্থী অবশ্যই নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তরের জন্য সরবরাহকৃত (OMR) শিটটি ব্যবহার করবেন। কোনো অবস্থাতেই সম্ভাব্য উত্তরের ডান পার্শ্বে উত্তর হিসেবে কোনো টিক (?) চিহ্ন বা অন্য কোনো চিহ্ন দেয়া যাবে না।

র্নৈব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তরপত্র বা ওএমআর (OMR) শিটের বাম পার্শ্বে প্রশ্ন নম্বর এবং তার ডান পাশে (ক), (খ), (গ), (ঘ) এইভাবে ৪টি বৃত্তাকার ঘর থাকবে। উদাহরণ : প্রশ্ন নম্বর উত্তর : ৩ (ক) (খ) (গ) (ঘ)। প্রার্থী নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর নির্ণয় করে ওএমআর (ঙগজ) শিটে তার বাছাইকৃত সংশ্লিষ্ট উত্তরের বৃত্তাকার ঘরটি কালো কালির বলপয়েন্ট কলম দ্বারা পূরণ করবেন।

আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত