ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩:২৭

প্রিন্ট

বাঙালিয়ানায় ফাগুন হাওয়া

বাঙালিয়ানায় ফাগুন হাওয়া
মুজাহিদ বিল্লাহ, জবি প্রতিনিধি

শীতের কুয়াশার চাদরকে নতুন করে রাঙিয়ে দিতে প্রকৃতিতে ফিরে আসে প্রিয় ঋতুরাজ বসন্ত। জীর্ণ-শীর্ণ গাছের পাতাতেও নতুন ছোয়া দেয় বসন্ত, বাঙালির প্রাণে দেয় দোল। প্রকৃতিকে দেয় শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার মনমাতানো ছোয়া। কোকিল যেন গান শুনাতে অপেক্ষায় থাকে, বসন্তের ফুলে হুদয়ে দোলা নিয়ে গেয়ে উঠে কুহু কুহু। প্রকৃতির রুপের এসব পরিবর্তনের সাথে মানুষের মনেও এসেছে খুশির জোয়ার।

শীতের কুচে যাওয়া পাতা যেন বসন্তের ছোয়ায় জাগ্রত হয়। শীতের রিক্ততা ভুলিয়ে এ ধরায় যেন নতুন প্রাণ দেয় বসন্ত। শীতের চাদরকে সরিয়ে দিয়ে প্রকৃতিতে উঁকি দেয় কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, লাগলিঙ্গমসহ নানা ধরনের লাল, নীল, হলুদ, বেগুনী, গোলাপী, সাদা রঙের ফুল।বসন্তের আগমনে প্রকৃতিকে নতুন মনে হয়। ফুলের সুভাসে প্রতিটি প্রাণ যেন মন জুড়ায়। কাঞ্চন, পলাশ এ সময় বসন্তকে আরো রাঙিয়ে তোলে। প্রতিটি জায়গায় নতুনের ছোয়া, নতুনের আগমন, নতুনে নতুনে জয়ধ্বনি। দক্ষিণা বাতাস যেন শুনিয়ে যায়, ফাগুন যেন কানে কানে বলে আমি এ ধরায় এসেছি, আমায় তুমি সাজিয়ে নাও এই ধরায়।

পয়লা ফাল্গুন বা পহেলা ফাল্গুন বাংলা পঞ্জিকার একাদশতম মাস। ফাল্গুনের প্রথম দিনই বসন্তের প্রথম দিন। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে ১৩ই ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন পালিত হয়। বসন্তকে বরণ করে নেয়ার জন্য বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশাসহ অন্যান্য রাজ্যে দিনটি বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়।

বাংলাদেশে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ এই দিনটিকে বরণ করতে চারুকলার বকুলতলায় এবং ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিবছর জাতীয় বসন্ত উৎসব আয়োজন করে। পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে এ দিন বসন্ত উৎসব পালন করা হয়। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসন্ত উৎসব পালন করা হয়ে থাকে।

বাংলায় পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব প্রাচীন আমল থেকেই বসন্ত উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। হিন্দুদের পৌরাণিক উপাখ্যান ও লোককথাগুলোতে এই উৎসবের উল্লেখ পাওয়া যায়। হিন্দু বৈষ্ণবরা এটি বেশ আয়োজনের সাথে পালন করে থাকেন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্তোৎসব পালনের রীতি চলে আসছে। বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। সেই থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব নিয়মিত আয়োজন করে আসছে।

বসন্ত মানেই রঙের খেলা, চারদিকে যেন বসেছে বাহারি রঙের মেলা। বসন্তের দিনে ছেলেদের নানা ধরনের পোষাক পড়তে দেখা যায়। তন্মধ্যে পাঞ্জাবি ফতুয়া সবচেয়ে জনপ্রিয়। হলুদ-লাল-নীল রঙের পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন রঙের পাঞ্জবির সাথে ছেলেদের প্রথম পছন্দ সাদা পায়জামা-অথবা চেক মিশেলের কাপড়। অনেকের মাথায় রুমাল বাঁধতেও দেখা যায়। চোখে থাকে চশমা আর হাতে হাতঘড়ি। লাল রঙের গামছাও মাথায় মানায় বেশ।

তরুণীরা ফাল্গুনে নিজেকে শাড়িতেই বেশি সাচ্ছন্দবোধ করেন। বাসন্তী রঙের শাড়ি বা হলুদ রঙের পোশাক থাকে সবার পছন্দের তালিকায়। এর পাশপাশি-লালা, সবুজ, বেগুনী ও নীল শাড়িও তাদের বেশ পছন্দ। শাড়ির সাথে মিলিয়ে আবার টিপ, কাঠের চুড়ি এবং বাঙালিয় নারীর বাঙালিয়ানা সাঁজে সবচেয়ে বেশি মানায় নানা ধরনের ফুলে। নারীদের মাথায় নানান ধরনের ফুলের ক্রাউনসহ মাথায় নানা ধরনের ফুলে নিজেদের রাঙাতে দেখা যায়। হাত ভর্তি থাকে লাল, নীল, হলুদ, বেগুনীসহ বাহারি রঙের রেশমি চুড়ি।

বাঙালির নানান অনুষ্ঠানের মধ্যে পহেলা বৈশাখ এর পরেই এই বসন্ত উৎসবকে পালন করা হয়। এই ঋতুতে থাকে নবীনের আহ্বান এবং এটি যৌবনের প্রতীকও বটে। চারপাশের রঙ যেন আমাদের ফাগুন মাসজুড়ে মনে দেয় দোলা- জীবনের রিক্ততাকে ভুলাতে প্রকৃতিতে দেহ বাসন্তী ছোঁয়া। বাঙালির প্রাণের ছন্দে মিশে বসন্তে জীবনে দিক বাসন্তী ছোঁয়া।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত