ঢাকা, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ৫২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২০, ২১:১৮

প্রিন্ট

কর্মক্ষেত্রে নারীদের যত চ্যালেঞ্জ

কর্মক্ষেত্রে নারীদের যত চ্যালেঞ্জ
নারী ডেস্ক

নারী এগোচ্ছে। বিভিন্ন পেশা, ব্যবসা, রাজনীতি সবখানেই অংশগ্রহণ বাড়ছে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে নারীকে কোন দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। তার কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তাই বা কেমন?

বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়ে চলেছে দিন দিন। তারপরেও কর্মক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন নারীরা। গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছিলো বিভিন্ন পেশায় যুক্ত কয়েকজন নারীর সঙ্গে।

মাকসুদা আক্তার, ব্যাংকার

ব্যক্তিগতভাবে আমার দীর্ঘ ১৫ বছরের কর্মক্ষেত্রে মেয়েদের যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে দেখেছি তা হলো, একজন পুরুষ সহকর্মীকে বাসায় পৌঁছে তাদের গৃহস্থালির কাজকর্ম বা সন্তানদের সামলানোর বিষয়ে মনোযোগ দিতে হয়না। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে একজন পুরুষ সহকর্মীর মতো একজন নারী কর্মীকেও সমান সময় অতিবাহিত করতে হয়। নারীকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে সহনশীল মাত্রার কর্ম ঘণ্টা নির্ধারণ ও তার বাস্তব রূপ দেয়া আমার দাবি।

ডা. তানজিয়া তামান্না, চিকিৎসক

শিক্ষানবিশ চিকিৎসক হিসেবে একটি সরকারি হাসপাতালে যখন কাজ করেছি তখন নানারকম সমস্যা মোকাবিলা করেছি। রোগীর সাথে আসা লোকজন প্রায়শই অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য ছুড়ে দিত। রাতে ডিউটি থাকলে হোস্টেল থেকে হাসপাতাল যেতে এবং ফিরে আসতে সবসময়ই একটা অজানা ভয় কাজ করতো। বর্তমানে বাচ্চা নিয়ে অফিস চালাতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে কর্মক্ষেত্রে একটি চিল্ড্রেন্স সেন্টারের প্রয়োজন বোধ করি।

আফসানা সিয়াম, শিক্ষক

রাস্তায় চলতে ইভটিজিং-এর শিকার হই, অনেকসময় ক্লাসেই কিছু ছাত্রও এ কাজটি করে। ম্যাসেঞ্জারে অনেক আজে বাজে টেক্সট পাই৷ আমার মতে, মাতৃত্বকালীন ছুটিটা পর্যাপ্ত দেয়া প্রয়োজন। বেশিরভাগ বেসরকারি স্কুলে মাতৃত্বকালীন ছুটি সাধারণত ২ মাস দেয়া হয়। এটা বাড়ানো উচিত। এছাড়া পরিবার সামলাতে হয়, যেমন ছেলে মেয়ে অসুস্থ হলে ছোট-খাট ছুটি প্রয়োজন হয়। কর্মজীবী নারীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের সহমর্মিতা দেখানো উচিত।

জয়ীতা রায়, আলোকচিত্র সাংবাদিক

আমার কাজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সবসময়ই আমাকে ছেলেদের সঙ্গে কাজ করতে হয়। তাই সবসময় আমাকে প্রমাণ করতে হয় আমি তাদের সমানই কাজ করতে পারি। এছাড়া দূরে কোথাও বড় কোনো ঘটনা ঘটলে জায়গাটিতে পৌঁছাতে, যেমন কীভাবে যাব কিংবা কার সঙ্গে যাব এরকম অনেক অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় আমাকে। আমি চাই, সব জায়গায় সবসময় মেয়েরা যেন স্বাধীনভাবে সম্মানের সঙ্গে চলার পরিবেশ পায়।

সানজিদা আফরিন, উন্নয়নকর্মী

কাজের জায়গায় না হলেও দেখা যায় স্টেকহোল্ডারদের সাথে আমরা বিভিন্ন বৈষম্যমূলক আচরণ পাই। মেয়েদের কাজের জন্য ওয়ার্ক ফর্ম হোম, চাইল্ড ফ্রেন্ডলি স্পেস রাখা অথবা ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিং রোস্টার, এ ধরনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ভালো হয়।

সাজু বেগম, পোশাক শ্রমিক

তার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যা বেতন পান তা দিয়ে মাসের দিনগুলো পার করা। এছাড়া পোশাক শ্রমিক বলে অনেকেই ছোট করে দেখে, যা তাকে সবসময়ই কষ্ট দেয়। সাজু বেগমের চাওয়া, পোশাক শ্রমিকদের থাকার জন্য কোনো জায়গার ব্যবস্থা করা। তাহলেই কেবল স্বল্প বেতনে ভালোভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

শেফালি আক্তার, সরকারি চাকুরে

কর্মজীবী হিসেবে শেফালি আক্তারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অফিস এবং বাড়ি দুটিই সমানভাবে সামলানো। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় পুরুষ সহকর্মীরাও তাদের অনেক কাজ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। তার মতে, প্রতিটি সরকারি অফিসে ডে কেয়ার সেন্টার থাকা উচিত।

কুলসুম আক্তার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী

ব্যবসায় যেহেতু তাকে একটু বেশি সময় দিতে হয় তাই তার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিবার সামলানো। তার মতে, শিশুদের স্কুলগুলোর সময়সূচী এমন হওয়া উচিত যাতে দিনের বড় একটা সময় সন্তানদের স্কুলে রাখতে পারেন। এছাড়া প্রতিটি এলাকায় শিশুদের দেখভালের জন্য পর্যাপ্ত ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা উচিত সরকারি উদ্যোগেই। সূত্র: ডয়েচে ভেলে

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত