ঢাকা, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২০, ১৫:০৭

প্রিন্ট

পুলিশের হাতে নিহত ফ্লয়েডের করোনা ছিল

পুলিশের হাতে নিহত ফ্লয়েডের করোনা ছিল
অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নির্যাতনে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। নতুন এক ময়নাতদন্ত রিপোর্ট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তবে তার মৃত্যুতে করোনার কোনও ভূমিকা ছিল না। তিনি যে শ্বাসরুদ্ধ হয়েই মারা গেছেন ওই রিপোর্টে তা নিশ্চিত।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে, মিনেসোটা রাজ্যের হেনিপিন কাউন্টির করা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ফ্লয়েডের কোভিড-১৯য়ে আক্রান্ত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ময়নাতদন্তে ফ্লয়েডের নাক থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাতে তার করোনাভাইরাস ‘পজিটিভি’এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হেনিপিন কাউন্টির প্রধান মেডিকেল এক্সামিনার ডা. এন্ড্রু বেইকার জানিয়েছেন, ফ্লয়েডের নমুনার পিসিআর পরীক্ষায় তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

বেইকার বলেন, ময়নাতদন্তের যে ফলাফল পাওয়া গেছে তাতে ফ্লয়েড উপসর্গহীন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তার মৃত্যুতে এই ভাইরাসের ‘ কোনও ভূমিকা’ছিল না।

এর আগের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তার শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে।

শহরের এক খাবারের দোকানের কর্মচারী ৯১১ নাম্বারে কল করে অভিযোগ করেন, এক ক্রেতা সিগারেট কেনার পর তাকে ২০ ডলারের জাল নোট দিয়েছে। ওই অভিযোগ পাওয়র পর ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েডকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়ি আসার ৭২ মিনিট পর রাস্তায় তিন পুলিশের নিচে চাপা পড়ে থাকা ফ্লয়েড সজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়েছিলেন। তার মধ্যে প্রাণের কোনো সাড়া ছিল না।

এর আগে পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনের হাঁটুর নিচে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক কাকুতি-মিনতি করেছিলেন ফ্লয়েড। আশপাশের লোকজন তাকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করলেও এতে ওই পুলিশের মন গলেনি।

এ সংক্রান্ত একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, এই শভিনই ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু তুলে দিয়ে তাকে রাস্তার সঙ্গে চেপে ধরে দাঁড়িয়েছিলেন।

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্বেতাঙ্গ ওই পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড ধরে চেপে রেখেছিলেন। ফ্লয়েড জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পরও শভিন তার হাঁটু সরাননি। চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসার পরও পুরো এক মিনিট ধরে ফ্লয়েডের ঘাড় চেপে ধরে রেখেছিলেন তিনি।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর পরদিন মঙ্গলবার ওই ঘটনায় জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে পুলিশ বিভাগ। এরও দুইদিন পর শুক্রবার পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলছে ভয়াবহ বিক্ষোভ। বিক্ষোভ দমনে বিভিন্ন রাজ্যে সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই হুমকির সমালোচনায় ফেটে পড়েছে দেশটির সাধারণ মানুষ।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত