ঢাকা, রোববার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ২ মিনিট আগে
শিরোনাম

শান্তি আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১৭:৩৮

শান্তি আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের একটি পাহাড়ি রিসোর্টে রোববার (২১ জুন) শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এই আলোচনায় নিজ নিজ দেশের নেতৃত্ব দেবেন।

চার মাসব্যাপী চলা যুদ্ধের একটি স্থায়ী অবসান ঘটাতে দুই দেশই এই বৈঠকের আয়োজন করেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ইরানি দাবি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে।

আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে দুই দেশ প্রথমে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাবে শনিবার ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

অবশ্য মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সই করা একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে এগিয়ে নিতেই মূলত সুইজারল্যান্ডে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় সকাল থেকেই মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে এই শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স তার স্ত্রী উষা ভ্যান্সসহ রোববার ভোরে সুইজারল্যান্ডের এমেন বিমানঘাঁটিতে অবতরণের পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বুর্গেনস্টক রিসোর্টে পৌঁছান।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে মেরিল্যান্ডের একটি সামরিক ঘাঁটিতে জে ডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা পারমাণবিক বিষয় এবং লেবাননের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে অগ্রগতির আশা করছি।” এই আলোচনা কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতির পরিপন্থি।

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শনিবারও হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১৭ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেলবাহী ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ পার হয়েছে। মার্কিন বাহিনী এই আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপদ বাণিজ্য সচল রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডনাল্ড ট্রাম্প এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্টে জানিয়েছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন বা তার পরেও এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো টোল দিতে হবে না।

তবে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সেবামূল্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে টোল আরোপ করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

কাতার সরকারের মালিকানাধীন বুর্গেনস্টক রিসোর্টে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইরানি প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিসহ দেশটির নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তেল মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।

মার্কিন প্রতিনিধি দলে জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

এছাড়া আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসীম মুনিরও এই বৈঠকে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন।

ইসরায়েল শুরু থেকেই জানিয়েছে, তারা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নয় এবং লেবাননে তাদের দখলকৃত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর সাথে লড়াইয়ে অন্তত ৩২ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের হিব্রু ইউনিভার্সিটির এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯২ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক মনে করেন যুদ্ধে ইসরায়েলের চেয়ে ইরান বেশি লাভবান হয়েছে।

এছাড়া, মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ মনে করেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধ থেকে বড় কোনো সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত