ঢাকা, রোববার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ২ মিনিট আগে
শিরোনাম

ভঙ্গুর অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে সরকারকে দুই বছর সময় দিতে হবে: অর্থমন্ত্রী

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১৮:১২

ভঙ্গুর অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে সরকারকে দুই বছর সময় দিতে হবে: অর্থমন্ত্রী

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুরোপুরি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনতে সরকারের অন্তত দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্বিক যে পরিস্থিতি, তাতে আমাদের দুই বছর সময় দিতে হবে।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা মনে করি, দুই বছরের মধ্যে অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীলতার দিকে যাবে। তৃতীয় বছর থেকে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।

​​​দেশের বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি তো তিন মাসে এসব সমস্যা সমাধান করতে পারব না। টাকা দিয়েও এত দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে না। বিগত সরকার গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ না নিলেও বর্তমান সরকার তা শুরু করেছে। তবে বাইরে থেকে গ্যাস এনে সংরক্ষণ করে সরবরাহ করতে অন্তত ১৮ মাস সময় লাগবে।

২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও শক্তিশালী ইন্টারনেট ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা এই তিন জায়গায় বিনিয়োগ করছি।

অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান সরকারের বাজেট বাস্তবায়নে তিন মাস মেয়াদি অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালুর পরামর্শ দেন।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ​প্রকল্প বাস্তবায়নে ঐতিহাসিক স্থবিরতা ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বিশেষ ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা নয়, আমরা একটা ড্যাশবোর্ড করছি। ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রতিটা প্রকল্প দৈনিক ভিত্তিতে তদারক করা হবে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বাজেটে বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিচালন ব্যয়ের জন্য থোক বরাদ্দ আমরা রাখিনি। যেটা আছে, তার সব উন্নয়নকাজের জন্য।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাজেটে আমরা নিয়মকানুন সহজ করার যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেগুলো যেন সবাই ঠিকভাবে মেনে চলে, সে জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি একটা ওয়েবসাইট তৈরি করা হচ্ছে।​ দেশের কোনো নাগরিক বা ব্যবসায়ী যদি মনে করেন, এই নিয়মকানুন ভঙ্গের বা সঠিক প্রয়োগ না হওয়ার কারণে তারা কোনোভাবে বাধা বা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তারা এই ওয়েবসাইটে জানাতে পারবেন। এই পুরো বিষয় তদারকি করার দায়িত্ব থাকবে সেই টাস্কফোর্সের। আশা করা যায়, এর মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক-কর অনেক কমিয়ে দিয়েছে।​ রপ্তানি খাতে পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন শুধু তৈরি পোশাক খাতই নয়, বরং যেকোনো খাতের যেকোনো ব্যবসায়ী পণ্য রপ্তানি করতে চাইলে বন্ড (শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি) সুবিধা পাবেন। ​ব্যবসায়ীরা চাইলে সরাসরি বন্ড সুবিধা নিতে পারেন। আবার বন্ড সুবিধা নিতে না চাইলে ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে সম্পূর্ণ শুল্ক-করমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করে পণ্য তৈরি ও রপ্তানি করতে পারবেন।​ এমনকি কাঁচামাল আনার জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলাও এখন আর বাধ্যতামূলক রাখা হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত