ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ১৪ মিনিট আগে
শিরোনাম

নির্বাসনের অবসান, কলকাতায় তসলিমা

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৮  
আপডেট :
 ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬

নির্বাসনের অবসান, কলকাতায় তসলিমা
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই দশকের অলিখিত নিষেধাজ্ঞার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ফিরছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা ও অধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত ধর্মীয় মৌলবাদবিরোধী এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর তসলিমার এই প্রত্যাবর্তনকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।

মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলকাতায় ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তসলিমা নাসরিন। সেখানে তিনি লেখেন, “২০ বছর পর এক মুক্ত বাংলায় প্রত্যাবর্তন।”

জানা গেছে, ‘সেক্যুলার মিশন’, ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস বিয়ন্ড ফ্রন্টিয়ার্স’ নামের কয়েকটি মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে তসলিমা নাসরিনকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। মুক্তচিন্তার পক্ষে এবং মৌলবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অবস্থানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১ আগস্ট রবীন্দ্র সদনে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিনের লেখা কবিতা আবৃত্তি, তার সৃষ্টিকর্মভিত্তিক গান এবং নির্বাসিত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।

আয়োজক কমিটির সদস্য আইনজীবী ওসমান মল্লিক ও মোহিত রায় জানিয়েছেন, তসলিমা নাসরিনের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশে আইনগত কোনো বাধা কখনোই ছিল না। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী সরকারগুলো ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে কট্টরপন্থীদের চাপে তাকে কলকাতায় প্রবেশ করতে দেয়নি। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন এবং তার প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ভারতে তসলিমা নাসরিনের বসবাসের অনুমতি বা ভিসা নবায়ন নিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক দফা অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপে সেই জটিলতার অবসান ঘটে। এরপর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিজেপির সংসদ সদস্য শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যসভায় তসলিমার কলকাতায় ফেরার পক্ষে জোরালো দাবি উত্থাপন করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে বিতর্কিত উপন্যাস ‘লজ্জা’ প্রকাশের পর কট্টরপন্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। ইউরোপ ও আমেরিকায় কয়েক বছর কাটানোর পর ২০০৪ সালে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির টানে কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি।

তবে ২০০৭ সালে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশের পর মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর সহিংস আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে এবং তাকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে বাধ্য করে। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলেও তার কলকাতায় ফেরার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। এমনকি একটি থিয়েটার উৎসব থেকেও তার লেখা নাটক প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কলকাতায় নিজের পাঠক-অনুরাগীদের মাঝে ফিরছেন আলোচিত এই লেখিকা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত