কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি জাহাজে হামলার অভিযোগ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:০১ আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৩

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। এ ঘটনায় বিস্ফোরণে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটি।
শনিবারের এ হামলাকে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক’ আখ্যা দিয়ে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের দাবি, ইউক্রেনের নেতৃত্ব এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। তেহরান বলছে, এটি ইরানের প্রতি কিয়েভের ‘অযৌক্তিক ও বৈরী’ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এ হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন এবং এর ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও তীব্র হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে টেলিফোনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার দফতরের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সমর্থকদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি বলেন, কাস্পিয়ান সাগরে হামলার ঘটনায় ইরান উদ্বিগ্ন। একই সময়ে দেশটি দক্ষিণ উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের চাপও মোকাবিলা করছে। তার মতে, উত্তর উপকূলে এ ধরনের হামলা ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
হামলার নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও দাবি করেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তেহরান কখনোই সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দাবি করেন, কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলায় ইউক্রেন ‘খুবই শক্তিশালী ফলাফল’ অর্জন করেছে। তার ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত কয়েকটি জাহাজ এবং একটি যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানা হয়েছে। তবে ইরান যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ করেছে, সেটিকে তিনি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেননি।
এছাড়াও জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইরানের কাছে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনার স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করেছে। তার দাবি, গত ১৯ ও ২০ জুলাই বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতের বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ওপর নজরদারি চালানো হয়েছিল।
২০২২ সালে ইরান রাশিয়ার কাছে শাহেদ ড্রোন বিক্রির পর থেকেই ইরান ও ইউক্রেনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে রাশিয়া এসব ড্রোন পরিবর্তিত রূপে ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হামলা চালায়।
কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তারা ইরানি নকশায় তৈরি ৪৪ হাজারেরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ চলাকালে ইরানি হামলার মুখে পড়া উপসাগরীয় দেশগুলোকে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে ইউক্রেন। এ উদ্দেশ্যে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং কুয়েতে অ্যান্টি-ড্রোন বিশেষজ্ঞ মোতায়েন করেছে কিয়েভ।
সূত্র : রয়টার্স
বাংলাদেশ জার্নাল/জে










