ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২০, ০২:৩৭

প্রিন্ট

হাটে ক্রেতার সংখ্যা কম কেন?

হাটে ক্রেতার সংখ্যা কম কেন?
রিয়াজুল হক

ধরুন, সাতজন মিলে একটি গরু কোরবানি দেওয়া হবে। একটি গরু কেনার জন্য কমপক্ষে সাতজন অংশীদার হাটে যেত।‌ অনেক সময় আরো বেশি যায়। অর্থাৎ একটি গরুর বিপরীতে সাত থেকে দশ জন ক্রেতা হাটে উপস্থিত। গতবছরও দেখেছি, ঈদের দুই-তিন দিন আগে হাটের মধ্যে পা ফেলার জায়গা থাকত না।

এবার করোনার কারণে, ভাগে কোরবানি দেয়া মানুষের সংখ্যা কম। যে কারণে হাটগুলোতে ভিন্ন অবস্থা দেখা যাচ্ছে। বেপারিরা গরু নিয়ে বসে আছে কিন্তু সেই জমজমাট ক্রেতা নেই।

আমার এক স্কুল বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল। কোরবানির গরু কেনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলাম। এবার ওরা কোরবানি দিবে না। অথচ সেই স্কুল জীবন থেকেই দেখে আসছি, কয়েকজন মিলে কোরবানি দিয়ে থাকে। কিন্তু করোনার কারণে অন্যান্য সকল অংশীদার এই ঈদে কোরবানি দিতে ইচ্ছুক না। আবার এদের মধ্যে একজনের চাকরি চলে গেছে। অন্যান্যদের ব্যবসার অবস্থাও ভালো না।

পরিচিত আরো অনেক মানুষ পেলাম, যারা এক ভাগ, দুই ভাগ নিয়ে গরু কোরবানি দিত। তারা অনেকেই এবার কোরবানি দিচ্ছে না। করোনাকালের এই সময়ে অনেকেরই হাতে নগদ টাকার সঙ্কট। জমানো টাকা তুলে সংসার চালাচ্ছেন। একই সাথে, করোনা ভীতি তো অবশ্যই রয়েছে।

তবে আগে যারা একক ভাবে কোরবানি দিত, তারা অনেকেই দেখলাম কোরবানির গরু, ছাগল কিনে ফেলেছেন কিংবা কিনবেন। অর্থের সমস্যা মোটামুটিভাবে এই শ্রেণীর মানুষের নেই। আর পশুটি একক মালিকানাধীন হওয়ার কারণে করোনা বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করাও এদের জন্য বেশ সহজ। তবে এই ধরনের ক্রেতার সংখ্যা কম হবার কারণে, হাটে তেমন ভীড় হয় না।

আমাদের দেশে ভাগে কোরবানি দেওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি। করোনার কারণে এই সংখ্যাটা এবার অনেক কমে গেছে। তাই হাটে জমজমাট ক্রেতা দেখা যাচ্ছে না।

লেখকঃ রিয়াজুল হক, যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best