ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫ অাপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ১২:২৭

প্রিন্ট

নির্বাচনে হিরো আলমের প্রার্থিতা ও আমাদের সাংবাদিকতা!

নির্বাচনে হিরো আলমের প্রার্থিতা ও আমাদের সাংবাদিকতা!
রাহাত রাফি

একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্বের সীমানা কতটুকু? কিংবা একজন সাংবাদিক কী করতে পারেন বা কী করতে পারেন না, তা আমরা কিভাবে নির্ধারণ করব? সাংবাদিকতা কী কিংবা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব কী হবে? সাংবাদিকতার পরিমণ্ডলে এসব আলোচনা নতুন নয়।

ষোল শতকে বিশ্বব্যাপী যখন বিভিন্ন রাষ্ট্রে সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল, তখন থেকেই বিজ্ঞজনের আলোচনায় এ বিষয়টি স্থান করে নিয়েছে। যেমন, জন মিল্টনসহ সাংবাদিকতার লিবারেল থিওরির অন্যান্য সমর্থকরা এবং পরবর্তীতে প্রস্তাবিত সামাজিক দায়বদ্ধতা তত্ত্বের বিজ্ঞজনেরা গণমাধ্যমকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এসব বিজ্ঞজনেরা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বকে বিশ্লেষণ করেছেন এইভাবে যে, রাষ্ট্রে ক্ষমতা ও সম্পদের সুষম বন্টনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।

অর্থাৎ সাংবাদিকের কাজ হবে রাষ্ট্রে রাজনীতির সুষ্ঠু প্রয়োগে ভূমিকা রাখা, দুর্নীতির অপব্যবহার রোধ, সম্পদের সুষম বন্টন, প্রান্তিক জনগষ্ঠীর চাহিদা নির্ধারণ ও রাষ্ট্রকে জানানোসহ সর্বোপরি সমাজের সদস্যদের ব্যক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নে নিয়োজিত থাকা। যে কারণে সাংবাদিকতাকে বলা হয় ‘মহান পেশা’।

আবার কোনও কোনও গণমাধ্যম-তাত্ত্বিক সাংবাদিকতাকে সমাজসেবা হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একজন সাংবাদিক বা গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করবে, যার মধ্য দিয়ে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ সমানভাবে তাদের নাগরিক অধিকার ভোগ করবেন। তাত্ত্বিকভাবে আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকতাকে এভাবেই চিহ্নিত করে থাকি।

সাংবাদিকতা কী এবং এর কোনও পেশাগত সীমানা আছে কিনা বা যদি থাকে সেটি কতোটুকু বা কিভাবে নির্ধারিত হবে এ বিষয়টি আলোচনায় আনার উদ্দেশ্য হলো কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে জাতীয় নির্বাচনের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে নিয়ে একধরনের ‘পলিটেইনমেন্ট’ চলছে।

এই লেখার উদ্দেশ্য মূলত আলোচনার মধ্য দিয়ে অনুমানে আসা যে, এ ধরনের সাংবাদিকতা কতটা নীতি মেনে চলছে বা এর মধ্য দিয়ে আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক সমাজব্যবস্থা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবো কিনা।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পাবার প্রত্যাশায় আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন। বিভিন্ন দলের মনোয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন হলেন- আশরাফুল আলম সায়িদ। ‘হিরো আলম’ নামে পরিচিত সায়িদ, বগুড়া-৪ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী।

গত কয়েকদিন ধরে ‘হিরো আলমকে’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ধরনের প্রচারণা, ইতিবাচক বা নেতিবাচক যাই বলি না কেন, হচ্ছিলো। গত সপ্তাহে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শো-তে বিভিন্ন দলের কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাথে হিরো আলমকেও অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এ পর্যন্ত বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত চমৎকার লাগছিল এ কারণে যে, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে নির্বাচনের ঠিক আগ মুর্হূতে রাজনীতি বিষয়ে সমাজে বিদ্যমান ‘পাবলিক স্ফেয়ার’কে তথ্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। কিন্তু জাতীয় পার্টির এ মনোনয়নপ্রত্যাশীর প্রতি টক শো উপস্থাপিকার ছুঁড়ে দেওয়া প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অত্যন্ত স্থূলভাবে তিনি একজন সাংবাদিক হিসেবে নিজের দৈন্য ফুটিয়ে তুলেছেন। তীব্রভাবে শ্রেণি বিভাজনের ধারায় বিভাজিত তার এহেন আচরণ সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যেমন জাতীয় পার্টির এ মনোনয়নপ্রত্যাশীকে তিনি প্রশ্ন করেছেন যে, ‘আপনার মনে হয় যে একজন সাংসদ হওয়ার মত সকল যোগ্যতা আপনার আছে? এক প্রশ্নের জবাবে ‘হিরো আলম’ বলেন, আজকে সবাই আমাকে চিনে, জনগণ আমাকে ‘হিরো বানিয়েছে।

নরেন্দ্র মোদির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন আমিও স্বপ্ন দেখতে চাই! ঠিক পরের একটি প্রশ্নে উপস্থাপিকা জানতে চান, ‘আপনি কি মনে করেন আপনি ভালো কিছু করেছেন বলে জনগণ আপনাকে নিয়ে এসেছে (হিরো বানিয়েছে) নাকি আপনাকে নিয়ে একধরণের মজা করা যায় এ জন্য নিয়ে (এ পর্যায়ে) এসেছে?’

আরেকটি প্রশ্ন ছিল এই রকম ‘…মজা করে জনপ্রিয়তা অর্জন করা, জাতীয় সংসদ তো ভীষণ রকমের সিরিয়াস একটা জায়গা, পবিত্র জায়গা, সেখানে আইন প্রণয়ন হয় সাধারণ মানুষের জন্য, আপনি মনে করেন সংসদ ভবন মজা করার জায়গা?’

আলম এর উত্তরটি ছিল এরকম, ‘মজা কারা করে বলেন তো…যারা আসলে কিছু করতে পারে নাই তারা মজা করে। আমাকে নিয়ে যারা মজা করে তারা দেখছে আমি কোন জায়গা থেকে উঠে আসছি? মজা তারা কেন করেন বলেনতো, আমার চেহারাডা যদি মাশরাফির মতো হতো আমি যদি তার মতো স্মার্ট হতাম, ৭ ফুট লম্বা হতাম তাহলে আমারে নিয়ে মজা করত না।’

অনেকগুলো দিক থেকেই উপস্থাপিকার এই আচরণকে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। যেমন ‘হিরো আলম’ মনোয়নপত্র দাখিল করেছেন। কে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা রাখেন আর কার এ যোগ্যতা নেই সেটি নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের সংবিধান। জাতীয় পার্টি যদি ‘হিরো আলম’কে মনোনয়ন দেয় তাহলে নিশ্চয়ই সংবিধানের সকল বিধান মেনে নিয়েই দিবে। এক্ষেত্রে হিরো আলমের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পেশাগত অধিকার একজন সাংবাদিকের আছে কি? উপস্থাপিকার প্রশ্নমালা আরেকটু ভালো করে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুরু থেকেই তিনি আলমকে রাজনীতিবিদদের কাতারে ফেলতে নারাজ। তিনি আলমকে একজন নাগরিক হিসেবে নয়, বিবেচনা করেছেন অপেশাদার, অশিক্ষিত, অযোগ্যপ্রার্থী হিসেবে, যেটি কোনওভাবেই সাংবাদিকসুলভ আচরণ নয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন অর্থনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোতে উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়, তখন ধারণা করা হয়েছিল, গণমাধ্যম প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণকে শিক্ষিত করে তোলার মধ্য দিয়ে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে, যে ধারণাটি পরবর্তীতে তীব্রভাবে সমালোচিত হয়। কেননা যখনই বলা হচ্ছে, গণমাধ্যম নাগরিককে শিক্ষিত করে তুলবে, ঠিক তখনই গণমাধ্যমকর্মীরা একটি বিশেষ সামাজিক শ্রেণিভুক্ত হয়ে সমাজের সদস্যদের শিক্ষিত করে তোলার চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অশিক্ষিত মূর্খ হিসেবে চিহ্নিত করতে থাকেন। এই উপস্থাপিকার ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।

তিনি ধরেই নিয়েছেন, হিরো আলম অশিক্ষিত এবং তাকে শিক্ষিত করে তোলার মহান দায়িত্ব তিনি নিজ হাতে নিয়েছেন। কিন্তু না, এর নাম সাংবাদিকতা নয়। গত শতকের ৮০ এর দশকে ‘অ্যানথ্রোপোলজি অব মিডিয়া’ নামে একটি ধারণা স্ফীত হতে থাকে, যেটি সাংবাদিকতাকে প্রথাগত তথ্য প্রদানকারীর ভূমিকা থেকে বেরিয়ে এসে সমাজের প্রান্তিক, নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করতে আহ্বান জানায়। এতে বলা হয়, সাংবাদিকের কাজ কাউকে অশিক্ষিত, মূর্খ হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে শিক্ষাদানের দায়িত্ব নিয়ে নেওয়া নয়। বরং অশিক্ষিত ও মূর্খ হওয়ার কারণে একজন ব্যক্তি কিংবা একটি গোষ্ঠী কিভাবে আরো বেশি পরিমাণে নিপীড়িত হচ্ছে সেটি প্রকাশ করা। যার মধ্য দিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীটির লাঞ্ছনা লাঘব হয়। আমাদের মনে রাখা ভালো, ‘অশিক্ষিত’ ও ‘মূর্খে’র সংজ্ঞা একেক দেশে একেক রকম। সুতরাং হিরো আলমকে টকশোতে ডেকে এনে মনোনয়নপত্র নেওয়ার দায়ে তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করা সাংবাদিকতা নয়। জনমুখী সাংবাদিকতার উদাহরণ হতে পারত এভাবে যে সাংবাধানিক বিধানাবলী রক্ষা করে হিরো আলম মনোনয়নপত্র ওঠানোর পর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে তিনি যেন নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘পাবলিক স্ফেয়ার’ থেকে যেন বিচ্যুত হয়ে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করা।

উপস্থাপিকা জানতে চেয়েছেন—‘আপনি (আলম) কি মনে করেন যারা ঝানু রাজনীতিবিদ, যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন, দেশ নিয়ে ভাবেন, সকল কিছু ভাবেন তাদের পাশে আপনি সংসদ ভবনে বসতে পারবেন সংসদ সদস্য হিসেবে?’ স্পষ্টতই আলমকে হেয় প্রতিপন্ন করার মানসিকতা নিয়ে তিনি এই ধরনের প্রশ্ন করেছেন। আমি বলছি না যে আমাদের উচিত আলমকে নির্বাচনে পাস করিয়ে সংসদে নিয়া আসা। কিন্তু যে জায়গাটি আমি আলোচনা করে স্পষ্ট করতে চাই, একজন সাংবাদিক হিসেবে রাষ্ট্রের নাগরিকের অধিকার নিশ্চিতের দায়িত্ব আমাদের! গণমাধ্যমগুলো আলমের বিষয়ে একধরনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসতে পারতো যে- সাংবিধানিক বিধানাবলী লঙ্ঘন না করে যারা নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় আসছে, তাদের জন্য দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমান সুযোগ দেওয়ার জন্য একটি পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখা।

কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা দেখেছি তার উল্টো চিত্র। উপস্থাপিকার মনোভাব ছিল এই রকম যে, হিরো আলমরা সমাজের নিচু শ্রেণির মানুষ। সংসদে আসার যোগ্যতা বা অধিকার কোনওটিই তাদের নেই। শ্রেণিভিত্তিক বিভাজনে বিভাজিত এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যদি আমরা বেরিয়ে আসতে না পারি তাহলে গণমাধ্যম তার চরিত্র হারাবে। কেননা গণমাধ্যমের অন্যতম কাজই হচ্ছে সমাজে বিদ্যমান শ্রেণিবিভাজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক সমাজব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করা যা কিনা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।

এ ধরনের সাংবাদিকতা বাংলাদেশে নতুন নয়। প্রায় প্রতিবছরই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের দেখা যায় ‘সঠিক’ মেধা যাচাইয়ের মহান দায়িত্ব পালন করতে। এ সময়টিতে দেখা যায়, পাস করা শিক্ষার্থীদের ‘আমি জিপিএ ৫ পেয়েছি’ বাক্যটির ইংরেজি অনুবাদ কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে মেধা যাচাইয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন অনেক সাংবাদিক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সাংবাদিকদের আসলে এ কাজগুলো করা কতটা সমীচিন। এ বিষয়টি নির্ধারণ করার দায়িত্ব আমিও নেইনি। কিন্তু একটি সুস্পষ্ট আলোচনার মধ্য দিয়ে হয়তো আমরা একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারবো যে, এ ধরনের ‘সাংবাদিকতা’ কতোটা সাংবাদিকতা হয়ে উঠছে।

লেখাটির শুরুতে বলছিলাম সাংবাদিকতার পরিধি কতটুকু। সাংবাদিকতার ক্ষেত্র নির্ধারণ করা অতটা সহজ নয়। কেননা সাংবাদিকতা বিষয়টি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নামক যে বিশাল ধারণা তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে সাংবাদিকতার সীমানা নির্ধারণের জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত কিছু নীতিমালা রয়েছে। সাংবাদিকতার নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছেন, এমন উল্লেখযোগ্য দুটি সংগঠন হচ্ছে ‘সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্ট’ এবং ‘রেডিও-টেলিভিশন-ডিজিটাল নিউজ আসোসিয়েশন’। তাদের দেওয়া কিছু সুপারিশমালার মধ্য দিয়ে আমরা একজন সাংবাদিক বা একটি গণমাধ্যম কী করতে পারে, আর পারে না- তার একটা সীমারেখা টানতে পারি।

‘সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্ট’ বলছে, সাংবাদিকতার অন্যতম একটি কাজ হবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করা ও গণমাধ্যমে প্রকাশ কোনও সংবাদের কারণে যদি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হন তখন তার বা তাদের প্রতি সমবেদনা পোষণ করা। এক্ষেত্রে হিরো আলমের মতো যারা সাংবিধানিক বিধিনিষেধ রক্ষা করে প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসার চেষ্টা করছেন, তাদের এ চেষ্টাটুকুকে সম্মান দেখানোর পরিবর্তে প্রান্তিক পর্যায়ের সদস্য হওয়ার কারণে তাকে মনোনয়নপত্র নেওয়ার আপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা সাংবাদিকতা নয়।

প্রশ্ন আসতে পারে, হিরো আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা একজন সাংসদ হওয়ার জন্য যথাযথ কিনা। এ বিষয়ে আমি আগেও বলেছি, সাংসদ হওয়ার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করছে সংবিধান। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে দাঁড়ায় সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। সেক্ষেত্রে আমরা আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারায় পরিবর্তন আনতে পারি।

এদিকে ‘রেডিও-টেলিভিশন-ডিজিটাল নিউজ আসোসিয়েশন’ নামক সংগঠনটি বলছে, সংবাদ প্রকাশের সময় সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ কারা উচিত। সংগঠনটি আরো সুপারিশ করছে, ধনী-দরিদ্র, জাতি, ধর্ম, বর্ণসহ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয়ভিত্তিক স্টেরিওটাইপ করা থেকে সাংবাদিকদের বিরত থাকতে হবে।

সবশেষে ‘সোসাইটি অব প্রোফেশনাল জার্নালিস্ট’ এর একটি চমৎকার ধারা বলে শেষ করি। এ সংগঠনটি বলছে, সংবাদ সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে তথ্য পাওয়ার অধিকার একজন সাংবাদিকের রয়েছে, কিন্তু এ অধিকার যেন দম্ভ প্রকাশের মাধ্যম হয়ে না উঠে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আসুন সাংবাদিক হিসেবে আমরা ‘এলিট’ কিংবা ‘দাম্ভিক’ হয়ে না উঠি, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী প্রান্তিক পর্যায়ের সদস্য হওয়ার কারণে তাদেরকে সংবাদে বিশেষ ধরনের ‘ফ্রেমিং’ এর মাধ্যমে প্রান্তিকায়ন না করে বরং তাদেরকে একীভূত করার চেষ্টা করি।

সৌজন্যে বিডিনিউজ২৪ডটকম

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close