ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ৭ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:০৭

প্রিন্ট

বন্ধের মধ্যেও প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কর্তনের শঙ্কা!

বন্ধের মধ্যেও প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কর্তনের শঙ্কা!
প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা মহামারীর কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (কওমি ছাড়া) চলমান ছুটি আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বিদ্যালয় খোলার পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছেন। কোন কোন জেলা-উপজেলায় শিক্ষকরা সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও হাজিরায় স্বাক্ষর না করলে অনুপস্থিত করা হচ্ছে। এতে বেতন কর্তনের শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ জার্নালকে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ফোনের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন। প্রাথমিক শিক্ষকদের বেশ কিছু গ্রুপে এ বিষয়ে পোস্ট করা হয়। মো. আবুল কাশেম নামে একজনের পোস্ট বাংলাদেশ জার্নালের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, শিক্ষক হাজিরায় স্বাক্ষর না গেলে বা না পেলে অনুপস্থিত করা হবে, এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে দ্বিধাদ্বন্দ্ব, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে এর অবসান প্রয়োজন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করছি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বিদ্যালয় খোলার পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসাবে রোস্টার করে বিদ্যালয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, ভর্তি কার্যক্রম চালু রাখা, ইএফটি কার্যক্রম, উপবৃত্তির নগদ কার্যক্রম, বই বিতরণ সহ বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয় না খোলা নির্দেশনার কথা জোর দিয়ে বলেছেন। এমতাবস্থায় মন্ত্রণালয় বা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের লিখিত নির্দেশ ছাড়া সুস্থ-অসুস্থ সকল শিক্ষক বাধ্যতামূলক প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার সম্মানিত কর্মকর্তাগণের মৌখিক নির্দেশনার প্রেক্ষিতে শিক্ষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

আবার অনেক উপজেলা ও জেলায় এ ধরনের নির্দেশনা এখনো দেওয়া হয়নি। তাই এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সুস্পষ্ট নির্দেশনা কামনা করছি। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সদয় সুদৃষ্টি দিবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

প্রাথমিক অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় প্রাথমিক শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি কার্যক্রম চলমান থাকায় শিক্ষকদের উপস্থিতির জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ভোলা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র হালদার বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘অধিদপ্তরের নির্দেশনা থাকায় শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে।’

সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি হতে না পারলে অনুপস্থিত করার কোন নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না এমন কোন নির্দেশনা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নেই। যদি কোন বিদ্যালয়ে এমন কিছু হয়ে থাকে তবে তারা অতি উৎসাহে এটা করছেন। এটা ঠিক নয়।’

মো. আবুল কাসেমের পোস্টটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

বাংলাদেশ জার্নাল/একে/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত