ঢাকা, শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ অাপডেট : ৫৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩২

প্রিন্ট

সাক্ষাৎকারে এলডিপির সভাপতি অলি আহমেদ

বিএনপির ভালো-মন্দ তাদেরকেই বুঝতে হবে

বিএনপির ভালো-মন্দ তাদেরকেই বুঝতে হবে
কিরণ সেখ

কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম)। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। সাবেক মন্ত্রী। বর্তমানে তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ একজন নেতা। গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড ও ২০ দলীয় জোটের কর্মপরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে কথা বলেছেন অলি আহমেদ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কিরণ সেখ

বাংলাদেশ জার্নাল: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের অংশগ্রণের সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল, এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

অলি আহমেদ: ২০ দলীয় জোটের পক্ষে থেকে ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচন অবাধ, সু্ষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করার লক্ষ্য অনেকগুলো দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের অনেক বক্তব্য ছিল। আমরা মনে করছিলাম, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ইসিকে কলঙ্কিত করবে না। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার ১৯৯৬ সালে জনতা মঞ্চের কর্মকর্তা ছিলেন। সেই দিনই তিনি তার নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছেন। আর তিনি ভালো ভালো কথা বলেন। তবে আপাদমস্তক তিনি আওয়ামী লীগের একজন ক্যাডার। এরপরও আমরা একটু আশার আলো দেখেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বস্তুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে আমরা মাঠে দেখেছি বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড়, জু্লুম- নির্যাতন ও গায়েবি মামলাসহ বিভিন্ন ধরণের অত্যাচার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্রগ্রামে ১৬টি আসনে ছাত্রলীগ-যু্বলীগ ক্যাডাররা পুলিশের সাথে মিলিয়ে বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন ও অস্ত্র ব্যবহার করেছে। আর নোয়াখালীতে প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ প্রার্থীকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। অনেককে হত্যার উদ্দেশে হামলা করা হয়েছে। তারপরও আমরা আশা ছাড়ি নাই। কারণ আমরা চেয়েছিলাম জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে পাক। বাংলাদেশে তাদের পছন্দের সরকার গঠিত হোক। তবে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও ২৯ তারিখ রাতেই ৬০-৭০ ভাগ ব্যালট কেড়ে নেওয়া হয়। আর এই কর্মটি পুলিশ, বিজিবি, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছে। অথ্যাৎ রাতের অন্ধকারে বাক্স ভর্তি করে। সু্তরাং ৩০ তারিখ ড্রামা ছিল, নির্বাচনের ড্রামা।

অলি আহমেদ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর শতকরা ৯৫ ভাগ ভোটার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। অথ্যাৎ তাদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। তাই আমরা মনে করি, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিজেই নিজের কবর রচনা করেছে। আওয়ামী লীগের কোন নেতা এ নির্বাচনে জয়লাভ করেননি। জয়লাভ করেছেন থানার ইউএনও এবং উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। তারাই এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনীতিবিদরা তাদের প্রক্সি হিসেবে কাজ করেছেন। আমরা প্রমাণ করেছি, নিজের জীবন বাজি রেখে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা করেছি। সুতরাং আমরা জনগণের সাথে বেইমানি করিনি এবং নির্বাচনের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। আমরা আমাদের বিবেকের কাছে পরিষ্কার। এছাড়া বহু ভোটার স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপন করতে পারছে না, হাজার হাজার বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। সরকারের নির্দেশে জামিন দেওয়া হচ্ছে না, বহু নেতাকর্মীরা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবন ফেরত পায়নি, ব্যবসা বন্ধ, ঘরে ফিরতে পারছে না, গ্রামগঞ্জসহ সর্বত অন্ধকার ও নির্জন। মানুষের হৃদয়ে ক্রন্দন, তারা আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা করছে যে, যারা জনগণের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে, তিলেতিলে তাদেরকেও আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। জাতি হিসেবে আমরা গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: নির্বাচনে আগে বিএনপির নতুন জোট গঠনকে আপনি কীভাবে দেখছেন। নতুন জোট গঠনে বিএনপি কতটা লাভবান হয়েছে, এখন কি এই জোট থাকা উচিত?

অলি আহমেদ: নির্বাচনে আগে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ করে জনসমর্থনহীন অনেক রাজনৈতিক দল বড় দলের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এধরণের জোট হয়ে থাকে। বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে আরো বেশি। আর বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। তাদের ভালো-মন্দ তাদেরকেই বিশ্লেষণ করে বের করতে হবে। এ ব্যাপারে আমার মতামত বা উপদেশ দেওয়া সঠিক নয়। যেহুত আমরা জোটের একটি দল।

বাংলাদেশ জার্নাল: নির্বাচনের আগে গুঞ্জন উঠেছিল যে এলডিপি ২০ দল থেকে বের হয়ে যাবে, এখনো কি সেই সম্ভবনা রয়েছে?

অলি আহমেদ: আমরা অনেকেই মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলেছি। এজন্য যখন যা ইচ্ছে তাই বলে ফেলি। সত্য যাচাইয়ের চেষ্টা করি না।

বাংলাদেশ জার্নাল: চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আপনি কিভাবে দেখছেন, এর সাথে বিএনপি ও জামায়াত জড়িত বলে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করছে- আপনি এটা কোন দৃষ্টি থেকে দেখছেন?

অলি আহমেদ: সরকার যখন দূর্বল হয় তখন তাদের জনসমর্থন থাকে না। ওই সময় তারা অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে নিজের দোষ ঢাকার চেষ্টা করে। আমি মনে করি, সব সর্ষে ভূত না দেখে সমস্যার সমাধান করা উচিত। আর কেমিক্যাল ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়া উচিত। কারণ ইতিপূর্বেও এধরণের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কেমিক্যাল সরানোর কথা থাকলেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং হাস্যকর কথা না বলে বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিয়ে এই সমস্যা থেকে কিভাবে উত্তোলন পাওয়া যায়, তা গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

বাংলাদেশ জার্নাল: ২০০৯ সালে সংগঠিত পিলখানার হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ করা হয়নি। এবিষয়ে আপনার মতামত কি?

অলি আহমেদ: সমগ্র বাংলাদেশ পিলখানায় রূপান্তরিত হয়েছে। সুতরাং ১৮ কোটি মানুষ কিভাবে উদ্ধার করবে, সরকারকে সে ব্যাপারে গুরুত্বের সাথে সমাধানে আসতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: ২০ দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা কি?

অলি আহমেদ: এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তবে সময় মতো এই পরিকল্পনা জানাতে হবে। কৌশলগত কারণে আমাদের অনেকগুলো বিষয় গোপন রাখতে হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

অলি আহমেদ: আপনাকেও এবং বাংলাদেশ জার্নাল পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close