ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৩৩

প্রিন্ট

হলুদ রঙের বিমান ও মশা মারার ভেজাল ওষুধ

হলুদ রঙের বিমান ও মশা মারার ভেজাল ওষুধ
এহসানুল হক মিথুন

আদিমকাল থেকেই মানুষ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা করে টিকে রয়েছে এই পৃথিবীর বুকে, হার মানেনি মানুষ, গড়ে উঠেছে মানব সভ্যতা। কিন্তু মানুষই যদি হয় মানুষের বিপর্যয়ের কারণ তাহলে এই পৃথিবীর বুকে গড়ে উঠা মানব সভ্যতা ধ্বংস হতে আর দেরি নেই। এক সময় ম্যালেরিয়ার ভয়ে মানুষ শহরে চলে আসতো। কিন্তু ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ইত্যাদি মশাবাহিত রোগ যদি সারা দেশেই মহামারীর রূপ নেয়, তাহলে মানুষ পালাবে কোথায়? আজকের এই হেন অবস্থার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ যতটা না দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী মানব সৃষ্ট বিপর্যয়। মানুষ নিজে ঠিক থাকলে, তার কর্মকাণ্ড ঠিক থাকলে এডিসসহ অন্যান্য মশা হয়তো অতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারতো না। হয়তো এখনো সময় রয়েছে, তাই সময় থাকতে সবারই উচিত নিজেদেরকে শুধরে নেয়া। তা না হলে শুধু ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া ইত্যাদির মতো সমস্যা নয়, আরো বিভিন্ন রকমের মানব সৃষ্ট বিপর্যয় তাদেরকে গ্রাস করতে পারে, এদেশকে নিয়ে যেতে পারে আরো অবনতির দিকে। কয়েকটি বিষয়ে তৎপর হয়ে উঠলে হয়তো আমরা ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়ার মতো রোগকে ভেলকি দেখাতে পারবো।

আজকাল বাজারে অনেক ভেজাল ও এডিস মশা নিধনে অকার্যকর ওষুধ, স্প্রে, কয়েল ইত্যাদি দিয়ে বাজার সয়লাব হয়েছে। এসব পণ্য কিনে সহজেই মানুষ প্রতারিত হচ্ছে, মশাতো ঠিকমতো মরেই না, উল্টো দিয়ে যায় ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়ার মতো ভয়াবহ ব্যাধি। তাই সরকারি ভাবে উচিত বাইরের দেশ থেকে উন্নতমানের, নির্ভেজাল, স্বাস্থ্যসম্মত ও কার্যকর মশার ওষুধ জনস্বার্থে প্রতিটি পরিবারকে সরবরাহ করা। মশাকে অতো নির্বুদ্ধিমান ভাবা উচিত নয়, বাঁচার জন্য তারাও সর্বাত্মক চেষ্টা করে। আর মশা যে শুধু রাস্তা-ঘাটে থাকবে বা তার প্রজননক্ষেত্র শুধু রাস্তা-ঘাটে হবে তা নয়। মশারাও বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে। তাই ঝোপঝাড় বাড়ির আনাচে-কানাচে, নির্মাণাধীন ভবন, বাড়ির ছাদ ও ঘড়ে বিভিন্ন কারণে জমে থাকা পানি, ফুলের টব, পরিত্যক্ত গাড়ির টায়ার, ডাবের খোলস, প্লাস্টিক ও অন্যান্য ধাতু দ্বারা নির্মিত ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির কৌটা, টিউব, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসিতে জমে থাকা পানি, ফ্রিজের বাহ্যিক অংশে জমে থাকা পানি, বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিন ও গাড়ির কোনো অংশে জমে থাকা পানি, গাড়ির গ্যারেজে জমে থাকা পানি, বাড়ির পরিত্যক্ত পানির হাউজ ও পানির হাউজে কয়েকদিন জমে থাকা বদ্ধ পানি, বৃষ্টি বা অন্য কোনো কারণে বাসা-বাড়ি বা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন হাসপাতালের ছাদে ও আশেপাশে জমে থাকা বদ্ধ পানি, জ্যাম হওয়া ড্রেন, নালা, খাল, ছোট-বড় বিভিন্ন জলাশয়, নদীর পাড়ে বিভিন্ন স্থানে স্তুপকৃত ময়লা-আবর্জনা ইত্যাদি বিশেষ করে এমন স্থানগুলোতে যেখানে মানুষের যাতায়াত কম সেখানে ময়লা আবর্জনায়, পরিষ্কার বদ্ধ পানি সেখানেই অবাধে মশার বংশ বিস্তার ঘটে। আর আশ্রয় নেয় বাড়ির আনাচে-কানাচে, ঘড়ের কোনায় কোনায়, খাট ও আলমারি ইত্যাদির নিচে। তাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে শুধু রাস্তা-ঘাট অর্থাৎ বাইরের অংশেই মশা নিধনের কাজ চলে। কিন্তু বাইরের অংশে দু'চারটে যাও মশা থাকে প্রাণ বাঁচাবার জন্য তারাও পালিয়ে এসে বাসা-বাড়ির মশাদের সাথে যোগ দেয়। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত রাস্তা-ঘাটে মশা নিধনের কাজ চালানোর পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারেই মশা নিধনের জন্য বিশেষ করে এডিস মশা নিধনে কার্যকর ও নির্ভেজাল ওষুধ, স্প্রে, কয়েল ইত্যাদি সরবরাহ করা, হোক তা বিনা লাভে, নামমাত্র লাভে, অর্ধেকদামে কিংবা বিনামূল্যে। কর্তৃপক্ষের উচিত এক্ষেত্রে বাইরের দেশ থেকে সরকারি উদ্যোগে উন্নতমানের, নির্ভেজাল, স্বাস্থ্যসম্মত ও কার্যকর মশা নিধনের ওষুধ, স্প্রে, কয়েল ইত্যাদি সরবরাহ করা।

অনেক আগের কথা, এক সময় এদেশে হলুদ রঙের ছোট বিমানে করে মশার ঔষধ স্প্রে করা হতো, ঔষধের গন্ধটা অনেকটা এরকম ছিল, পেয়ারা খুব পেকে গেলে যেরকম গন্ধ হয় অনেকটা সেরকম। নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর স্প্রে করা হতো, আর স্প্রে করার আগে অবশ্য টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদ পত্রিকা, লিফলেট ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করে দেয়া হতো । তাতে বেশ কাজ হতো। দেশে যদি ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ইত্যাদি মহামারী আকারে ধারণ করে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে জনস্বার্থে ও জাতীয়স্বার্থে এই জাতীয় ছোট বিমান বা হেলিকপ্টার থেকে মশার ওষুধ স্প্রে করা যেতে পারে।

হাসপাতালগুলোতে যদি আর রোগী ধারণ করতে না পারে এবং চিকিৎসা খরচ যদি অত্যধিক ব্যয়বহুল হয় সেক্ষেত্রে সরকারিভাবে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ইত্যাদি রোগীর জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প নির্মাণ করে তাতে চিকিৎসা সেবা দেয়া যেতে পারে। আর ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ইত্যাদি মশাবাহিত রোগ যেহেতু এদেশে হয়েই থাকে এবং মাঝে মধ্যে এসব রোগ আবার প্রকট বা মহামারী আকার ধারণ করে সেক্ষেত্রে সরকারিভাবে উচিত আলাদা করে শুধু এসব রোগের জন্যই বৃহৎ পরিসরে হাসপাতাল নির্মাণ করা, বিশেষ করে শহর অঞ্চলগুলোতে যেখানে এডিসসহ বিভিন্ন মশার পাদুর্ভাব বেশি। যাতে করে হাসপাতালগুলোতে রোগী ধারণের তিলমাত্র স্থান নেই ভবিষ্যতে এধরনের বিড়ম্বনায় যেনো আর না পড়তে হয়। আর জনস্বার্থে এসব বহুতল হাসপাতালে অত্যাধুনিক চিকিৎসার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি এবং চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় লোকবল যথেষ্ট পরিমাণে থাকা দরকার। আর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এসব হাসপাতালের যথাযথ তদারকি হওয়া প্রয়োজন।

এ দেশের মানুষগুলোর বড় দোষ, তারা শুধু কর্তৃপক্ষের উপর নির্ভর করে বসে থাকে। এডিসসহ বিভিন্ন মশার প্রজনন ও বংশ বিস্তাররোধে বিশেষ করে শহর এলাকাগুলোতে কর্তৃপক্ষের উচিত প্রত্যেক বাসা-বাড়ি, সরকারি-বেসরকারি ও লাভজনক-অলাভজনক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতে মশার প্রজনন ক্ষেত্র রয়েছে কিনা এ ব্যাপারে যথাযথ অভিযান চালানো। প্রয়োজনে কারাদণ্ড ও জরিমানা ইত্যাদি করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে হয়তো দেখা যাবে কোন বাড়িতে যথাযথ অভিযান চালালে একজনের দেখাদেখি আরো দশজন ঠিক হয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রে একটা বিষয় লক্ষণীয় যে অভিযান চালানোর ব্যাপারটা যেনো বাড়াবাড়ি না হয়ে যায়, কাউকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করাটা মূল উদ্দেশ্য নয়, এখানে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মশা নিধন ও জনকল্যাণ।

সৃষ্টিকর্তার অপার করুণায় মানুষ জগতের শ্রেষ্ঠ জীব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকবেই তাই বলে মানুষ হেরে যাবে কেনো, তার বা তাদের উচিত বুদ্ধিমত্তা, সততা, নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, নিয়মানুবর্তিতা ইত্যাদির সর্বোত্তম পরিচয় দেয়া। এডিস মশার প্রজনন ও বংশ বিস্তার রোধে বিশেষ করে শহর এলাকাগুলোতে প্রত্যেক বাসা-বাড়ি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, লাভজনক-অলাভজনক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ইত্যাদিতে সবারই উচিত তাদের আশপাশে এডিসসহ যেকোনো মশার প্রজননক্ষেত্র যেনো গড়ে না উঠে সেদিকে লক্ষ রাখা। এডিস মশা যেহেতু পানি ধারণ করতে পারে বেছে বেছে এমন স্থানগুলোতে ডিম পারে তাই এক্ষেত্রে টিকে থাকার লড়াইয়ে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে হবে মানুষকেই। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উৎকর্ষনে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়েছে। মানুষ চাইলে এসব প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তার জীবনকে আর্শীবাদময় করে তুলতে পারে। অ্যানড্রয়েড বর্তমান সময়ে একটি জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম। এডিসসহ বিভিন্ন ধরনের মশার প্রজনন ও বংশবিস্তার রোধে এবং ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ইত্যাদি মশাবাহিত রোগে ও মশা সংক্রান্ত যাবতীয় সব সমস্যা সমাধানে এনড্রয়েড অ্যাপসহ আইওএস অ্যাপ, উইন্ডোজ পিসি অ্যাপ ইত্যাদির মাধ্যমে আমরা সহজেই সেবা পেতে পারি। অনেকেই রয়েছেন যারা ফোনে বা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গিয়ে মশা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ জানাতে বা সাহায্য চাইতে দ্বিধাদ্বন্দ্ব অনুভব করেন, আর এসব কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই যদি মশা সংক্রান্ত কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকেন তাহলে এক্ষেত্রে অনেকে এমন আশঙ্কাও করেন যে সরাসরি এসব কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ জানালে প্রতিকার কিংবা সাহায্যের বদলে উল্টো হিতে বিপরীত হতে পারে, তাই এক্ষেত্রে হয়তো বেশিরভাগ লোকই বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসের অ্যাপ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মশা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে অভিযোগ জানাতে ও সাহায্য চাইতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।

প্রযুক্তি হয়ে উঠুক মানুষের জীবনে আর্শীবাদময়। এই ধরনের অ্যাপ যে ধরনের হলে এবং যেসব সুযোগ-সুবিধা ও সেবা থাকলে ব্যবহারকারীর জন্য সুবিধাজনক হতে পারে তা তুলে ধরা হলো। অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার, ই-মেইল ঠিকানা, স্মার্টফোনের লোকেশন ইত্যাদি যেনো গোপন রাখা হয়। প্রয়োজনে লগইন না করেও যেনো কেউ অভিযোগ জানাতে পারে, যারা লগইন না করে অর্থাৎ নাম, পরিচয়, মোবাইল নাম্বার, ঠিকানা, ই-মেইল ঠিকানা ইত্যাদি না দিয়ে অভিযোগ জানাতে চান উক্ত অ্যাপের মাধ্যমে কোনোভাবেই যেনো তাদের মোবাইল নাম্বার, আইপি এড্রেস, আইএমইআই নাম্বার, স্মার্টফোনের লোকেশন ইত্যাদি এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কোনো তথ্যই যেনো সংগ্রহ করা না হয়, তবে এক্ষেত্রে লগইন করা ব্যবহারকারীরা প্রাধান্য পাবে। এই ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই যে কেউ তার আশেপাশের বা দূরের যেকোনো বাসা-বাড়ি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাস্তা-ঘাট, বদ্ধ নালা ও খাল, নদীর পাড় ইত্যাদি বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বদ্ধ পানি, ময়লা-আবর্জনা এবং ভবিষ্যতে মশার প্রজননক্ষেত্র গড়ে উঠতে পারে এমন স্থানের ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে পারবে, দায়িত্বহীন কারো ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে পারবে, নিয়মিত মশা নিধনের ঔষধ না দেয়ার ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে পারবে। অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে যে স্থানে মশার প্রজননক্ষেত্র রয়েছে বা গড়ে উঠতে পারে এমন স্থানের ভিডিও, অডিও, স্থির ছবি, উক্তস্থানের নাম, বিস্তারিত ঠিকানা, প্রয়োজনে অ্যাপে থাকা ম্যাপে উক্তস্থানের অবস্থান উল্লেখ করে দেয়া যাবে। আর অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কাজ হবে এই ব্যাপারে তড়িৎ পদক্ষেপ নেয়া, প্রয়োজনে অভিযোগ তদন্তের জন্য উক্ত কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা বা গোয়েন্দাদেরকে গোপনীয়তা রক্ষা করে অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঠানো, তারপর যাচাই-বাছাই করে তড়িৎ পদক্ষেপ নেয়া, কারণ আর কেউ যাতে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ইত্যাদি মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত না হয়, এধরনের রোগে আর কারো যেনো প্রাণ না যায়। তবে এক্ষেত্রে কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধেও যেনো যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়। প্রয়োজনে নাগরিকদেরকে অ্যাপের মাধ্যমে মশা নিধন কার্যক্রমে উৎসাহিত করার জন্য পুরস্কার হিসাবে নগদ অর্থ, বিভিন্ন উপহার সামগ্রী, মুঠোফোন নাম্বারে রিচার্জ ইত্যাদির ব্যবস্থা করা যেতে পারে ।

আরো কিছু সুযোগ-সুবিধা অ্যাপে থাকা দরকার। কর্তৃপক্ষের কাজ হবে অ্যাপের মাধ্যমে কেউ চাইলে কারো বাড়িতে বা কোনো প্রতিষ্ঠানে মশা নিধনের জন্য স্প্রে, কয়েল ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের মশা নিধনের ঔষধ সরবরাহ করা, প্রয়োজনে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া আক্রান্তদের বাড়িতে ঔষধ সরবরাহ করা। প্রয়োজনের সময় আশেপাশের কোনো হাসপাতালে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের চিকিৎসার জন্য শয্যা খালি রয়েছে কিনা তা নিয়মিত অ্যাপে আপডেট দেয়া। অ্যাপে এডিসসহ সব ধরনের মশার প্রজনন ও বংশ বিস্তাররোধে এবং ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ইত্যাদি মশাবাহিত রোগ দমনে, মশা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে জনকল্যাণে বিভিন্ন তথ্য দেয়া ও প্রয়োজনে নিয়মিত তথ্য আপডেট করা। কেউ ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ইত্যাদি বিভিন্ন মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে তার কাজ হবে নিজ দায়িত্বে অ্যাপের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে সেই তথ্য জানিয়ে দেয়া। প্রয়োজনে যে কেউ অ্যাপের উন্নয়ন এবং মশা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারবে উক্ত অ্যাপের মাধ্যমে। ভাষা হিসাবে অ্যাপটিতে বাংলা ও ইংরেজি দু'টি ভাষাই থাকবে । কর্তৃপক্ষের উচিত এসব অ্যাপ পেশাদার কাউকে দিয়ে নির্মাণ করা, আর এসব অ্যাপ গুনগত মানসম্পন্ন হওয়া উচিত, অ্যাপের সার্ভার হওয়া উচিত শক্তিশালী, কারণ অনেক সময় দেখা যায় প্রয়োজনের সময় একসাথে অনেক ব্যবহারকারী যখন এসব অ্যাপ ব্যবহার করেন তখন ধীরগতি হয়ে যায়। আর জনস্বার্থে এসব অ্যাপে অভিযোগ গ্রহণ ও তত্ত্বাবধানের জন্য প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই কর্মী থাকা দরকার। দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে এসব অ্যাপ যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত, যেহেতু ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া মহামারী আকার ধারণ করলে দেশ ও জনগণের বিশেষ ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

রাস্তার কোথাও গর্ত হয়ে যেনো পানি জমে না থাকে, কোনো ড্রেন যেনো জ্যাম না হয়ে থাকে; নালা, খাল ও বিভিন্ন জলাশয় ইত্যাদির বদ্ধ পানিতে গাপ্পি জাতীয় মাছ ছাড়া যেতে পারে যাতে করে সেই পানিতে মশার প্রজননক্ষেত্র গড়ে না উঠে, কোথাও যেনো ময়লা-আবর্জনার স্তূপ না হয়ে থাকে । কর্তৃপক্ষের উচিত এসব বিষয়ের দিকে আরো মনযোগী হওয়া। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে শুধু বর্ষা মৌসুমেই নয় বরং সারা বছরই মশা নিধনের জন্য স্থায়ী কর্মসূচী নেয়া উচিত। তাহলে হয়তো দেখা যাবে বিভিন্ন প্রজাতির মশার প্রজনন ও বংশ বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়েছে। মশা সংক্রান্ত অন্যান্য যাবতীয় সব সমস্যা সমাধান ও প্রতিকারে এগিয়ে আসতে হবে । তখন হয়তো দেখা যাবে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ দমনে ও বিস্তার ঠেকাতে বাংলাদেশ সফলতা লাভ করেছে, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ইত্যাদি হয়তো এদেশে মহামারী আকার ধারণ করবে না।

ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ইত্যাদির পাদুর্ভাব যেহেতু এদেশে হয়ই, তাছাড়া মাঝে মধ্যে হয়তো আরো ভয়াবহ ও মহামারী আকার ধারণ করতে পারে, তাই এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উচিত এই দায়িত্ব দায়িত্ববান কাউকে দিয়ে প্রতি জেলায় বিশেষ করে শহর অঞ্চল গুলোতে স্থায়ী বিশেষ টিম গঠন করা। যেই টিমের কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে যন্ত্রপাতি ক্রয় ইত্যাদি যাবতীয় সমস্ত প্রক্রিয়া ঘুষের লেনদেন কিংবা মামা-চাচা ধরা ইত্যাদি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে যেনো না হয়। প্রয়োজনে আরো কর্মদক্ষতা, যথাযথ কাজ, স্বল্প ও সঠিক সময়ে ভারী কাজ ইত্যাদি বিষয়ের জন্য প্রয়োজনে এই টিমে সেনাবাহিনীর সদস্য নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। বলাবাহুল্য মশার কাছে গরীব-ধনী, ইতর-ভদ্র, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো সবাই সমান, হুল ফোটানোর ব্যাপারে মশা কাউকেই ছাড় দেয় না।

লেখক: সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও ভিডিও গেইমমেকার

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত