ঢাকা, শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ১৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:০৯

প্রিন্ট

তোমার সর্বাঙ্গ বাঁধিবো

তোমার সর্বাঙ্গ বাঁধিবো

রাজীব কুমার দাশ

১) ফেসবুক কল্যাণে শুনেছি-বাউল সম্রাট শাহ্ আবদুল করিমের গান ‘আমার হাত বান্ধিবি, পা বান্ধিবি, মন বান্ধিবি কেমনে?’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে সকল বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, কলম সৈনিক হিটলারের বিরুদ্ধে অদৃশ্য কিছু একটা করতে চেয়েছেন; হিটলার এসব বিজ্ঞানী বুদ্ধিজীবীদের গ্যাস চেম্বারে পুড়িয়ে মেরে ফেলেছেন। এমনকি বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন পর্যন্ত মার্কিন মুলুক পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। প্রাচীনযুগ হতে আধুনিক ডিজিটাল যুগে ও বিশ্বজুড়ে লেখক-কবি কেউ কী তাঁদের মনের খেদোক্তি-বক্রোক্তি নিয়ে মনের গোপন বাসর ঘরের কথা প্রকাশ করতে পেরেছেন! মসীতে উঠে আসে সমাজের অবহেলিত নিষ্পেষিত, বঞ্চিত, আশাভঙ্গ হতাশ মানুষের প্রতিচ্ছবি। সময়ের সুবিধা দলে নাম লিখিয়ে হিটলার স্তুতি করে অনেক মহান বুদ্ধিজীবী সারাবিশ্বে দাপিয়ে হিটলারের গণহত্যাকে সমর্থন করেছেন। এ মসীনিন্দিত-নন্দিত মহানজন উত্তরসূরি প্রজন্মদের এখনো সারাবিশ্বে সরকারি-বে-সরকারি কর্তা, রাষ্ট্রযন্ত্রের সবখানে হিটলার বন্দনায় চর্বিত চর্বণ চলছে। সবার মন-প্রাণ বেঁধে ‘পাপ তোমার, টাকা সুবিধা আমার’ নীতিতে মহামানব-মহাদানব হয়ে রাতারাতি সবকিছুই ভাগিয়ে নিচ্ছেন।

২) ডিজিটাল সময়ে বাসর রাতের চালাক স্বামী-স্ত্রী ডিজিটাল প্রযুক্তি মন-প্রাণ দিয়ে একে অপরের সবকিছু বাঁধার চেষ্টা চালিয়ে যান। যে যতো বেশি ধুরন্ধর! বডি ল্যাংগুয়েজ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বারতা নিয়ে যে যতোটা এগিয়ে, সে ততোটা মন-প্রাণ এমনকি একে অপরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বটা পর্যস্ত দিয়ে ‘সংসার সুখী হয় অর্থ-বিত্তের গুণে’ বাসর শেষ করেন। মানে এখন কারোর মন বাঁধার দরকার নেই। সুযোগ, পরিস্থিতি, সময়ের অটোমেশন হয়ে সব বেঁধে ফেলেন।

৩) সরকারি-বেসরকারি অফিসের ‘স্যার’ নামের মহামানব প্রাণীটি লিকুইড মানি তারল্য সংকটে পড়ে মাঝে মাঝে রাশভারী হয়ে পড়েন। অফিসের পিয়ন হতে সবার হাত পা মন বেঁধে মনের আতাল-পাতাল সাহিত্যে ‘এখন যৌবন যার সৎ হবার শ্রেষ্ঠ সময়’ বটিকা খাইয়ে গাজন গানে ঘুম পাড়িয়ে রাতারাতি সব করে নেন। পিয়ন সাহেব ও জনগণ স্যারের গুণের ত্রিফলা খেয়ে যখন জেগে দেখেন, তাদের স্যার নামের প্রাণীটি আসলেই ‘দ্বিপদী গোলআলু সবজি’ তখন স্যার সবার মুখ বেঁধে প্যাকেট পটেটো টিপস হয়ে রাজদরবার -রাজকোষ সামলে নিচ্ছেন। তখন হা-পিত্যেশ করা ছাড়া কিছু করার থাকে না।

৪) পৃথিবীর সকল স্যার-ই এখন ডিজিটাল ভয়ঙ্কর। রাজনীতি সমরনীতি অর্থনীতি বেশ্যানীতি মসীনীতি সব নীতিতে গুচ্ছ-গুচ্ছ একরাশ হতাশা প্রতারণা! কী প্রকারের প্রতারণা-ভণ্ডামি দিয়ে কার-কখন-কোথায় কীভাবে মন-প্রাণ হাত পা এমনকি আবেগ-অনুরাগ বেঁধে ‘স্যার’ নামের প্রাণীটি গোলআলু হয়ে আমজনতার মৃত্যু নিশ্চিত করেন, তা ভুক্তভোগী ভালো জানেন।

লেখক: প্রাবন্ধিক, কবি ও পুলিশ পরিদর্শক।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত