ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৬ অাপডেট : ৩৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০১৯, ১৪:৫৫

প্রিন্ট

১২তম গ্রেড সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে নির্মম কৌতুক

১২তম গ্রেড সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে নির্মম কৌতুক
মাহফিজুর রহমান মামুন

নতুন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগবিধি মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন হয়েছে তাই এখন নারী-পুরুষ সকল সহকারী শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। পূর্বে মহিলা শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি হলেও এইচএসসি পাশ মহিলা শিক্ষকের সংখ্যা এখন খুবই কম। কর্মরত অধিকাংশ মহিলা সহকারী শিক্ষকই এখন স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী। তাছাড়া নিয়োগ পাওয়ার পরে নারী-পুরুষ সকল শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর ডিপার্টমেন্টের অধীনে দেড় বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারী এডুকেশন নামে একটি অত্যাধুনিক ডিপ্লোমা কোর্স করতে হয়।

দেশের অন্য সকল ডিপ্লোমাধারীরা ১০ম গ্রেডে বেতন পেলেও প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরাও ডিপ্লোমাধারী হয়েও এখনো এই মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। যা হোক নতুন নিয়োগবিধি যেহেতু পাশ হয়েছে এবং নতুন সার্কুলারে নারী-পুরুষ সবার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক উল্লেখ থাকবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সহকারী শিক্ষকদেরকে ১১তম গ্রেড না দিয়ে সহকারী প্রধানের পদ সৃষ্টি করে তাদেরকে ১১তম গ্রেড দিয়ে সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেড দেয়ার যে পরিকল্পনা নিয়েছে সেটা বাস্তবায়ন হলে সহকারী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা শুধু স্নাতক কেন ভবিষ্যতে পিএইচডি ডিগ্রী হলেও তারা সহজে আর কোন উচ্চ গ্রেডে যেতে পারবেন না। সারাজীবন ধরে উচ্চতর ডিগ্রীধারী হয়েও সহকারী শিক্ষকদেরকে নিম্ন গ্রেডে শিক্ষকতা করে যেতে হবে।

সহকারী শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবী হচ্ছে প্রধান শিক্ষকদের পরের গ্রেড,অর্থাৎ প্রধান শিক্ষক ১০ম গ্রেড হলে সহকারী শিক্ষক ১১তম গ্রেড। এই দাবী নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষকরা আন্দোলন করে আসছেন।কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের দাবী যৌক্তিক বলে স্বীকার করলেও হঠাৎ করে সহকারী শিক্ষকদের বঞ্চিত করে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মাঝখানে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু পদ সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিলেও একটা কথা ছিল কিন্তু সহকারী শিক্ষকদেরকে প্রধান শিক্ষকদের পরের গ্রেড না দিয়ে সহকারী শিক্ষকদেরকে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেড দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে সহকারী শিক্ষকদের সারাজীবনের জন্য বঞ্চিত করার প্রয়াস করছেন। যেখানে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের কোন পদ নাই সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মত একটি ছোট্ট প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের প্রয়োজনই বা কি? আবার পদ সৃষ্টি করে তাদের জন্য একটা গ্রেড ব্লক রেখে সহকারী শিক্ষকদের বঞ্চিত করার কারণই বা কি?

যেখানে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী পরিচালক মহোদয়গণের পদ আলাদা আলাদা হলেও উনারা একই গ্রেডে কর্মরত রয়েছেন। তাহলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধানের পদ সৃষ্টি করলেও উনাদের জন্য আলাদা গ্রেড রেখে সহকারী শিক্ষকদেরকে বঞ্চিত করা কি ঠিক? কর্তৃপক্ষের চলমান এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে হয়তো একদিন সকল প্রধান শিক্ষক ৯ম গ্রেডে যাবেন অর্থাৎ ১ম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হবেন কিন্তু সহকারী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাশের পাশাপাশি ডিপ্লোমা ডিগ্রী থাকা সত্বেও অধিকাংশ সহকারী শিক্ষকই ২য় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাই হতে পারবেন না। এটা সহকারী শিক্ষকদের সাথে নির্মম কৌতুক ছাড়া আর কিছুই নয়।

যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেখানে সহকারী শিক্ষকদের চলমান বৈষম্য নিরসন না করে আরো বৈষম্য বাড়ানোর প্রয়াস মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পথে প্রতিবন্ধক?সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন করতে হলে অবশ্যই এবং অবশ্যই ১১তম গ্রেডের কোন বিকল্প নেই।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close