ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০১

প্রিন্ট

মেনন সাহেব, আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে কী বলছেন?

মেনন সাহেব, আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে কী বলছেন?
তালুকদার সুকান্ত লেনিন

রাশেদ খান মেনন। বাংলাদেশে বামপন্থী ধারার রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। বর্তমান ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের হয়ে নির্বাচন করে পরপর দুইবার মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালে গঠিত নতুন মন্ত্রীসভায় ঠাঁই মেলে নাই মুখচেনা কয়েকজন নেতাসমৃদ্ধ এই দলের সভাপতি মহোদয়ের।

সেটা আলোচনার বিষয়বস্তু নয়। বর্তমানে তিনি বিগত নির্বাচন নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছেন সেই নির্বাচনের একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হয়ে আমার প্রশ্ন সেখানেই।কই মন্ত্রীসভায় স্থান না পাওয়ার পরেও আপনার এই নীতিবাক্যগুলো তো গণমাধ্যমে আসে নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযানে যখন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের স্বীকার হন তখন কিন্তু আপনি সরব হওয়ার আগেই আপনার আলোচনায় তৎপর ছিলো মিডিয়া।

আপনি সাক্ষ্য দিয়ে বলছেন বিগত নির্বাচনে সাধারণ জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। জানি না কোন ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে আপনি এই রূপ কথা বললেন! তবে যেই কারণেই বলুন না কেন তাহলে আপনি কিভাবে সেই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হওয়া সংসদের সদস্য থাকেন? নীতির জোড় যদি এতদূর হয় তবে নৈতিকভাবে আপনার এই পদ ধরে রাখার বৈধতা কতটুকু।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে আটককৃতরা আপনার সাথে তাদের যোগসাযোগের কথা বলেছেন। দৈনিক যুগান্তরের ২০ অক্টোবরের সংবাদ অনুযায়ী গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন যে আপনি নাকি প্রায়ই বলতেন ‘সম্রাটের হৃদয় আকাশের মতো বিশাল ও অনেক বড় নেতা হবে’। কোন নেতার নেতৃত্বের প্রশংসা করা দোষের কিছু নয়। কিন্তু ঐ মুখে আপনার ইদানীং কালের বক্তৃতাগুলো সাধারণ জনগণের মনে জানান দিচ্ছে নানান প্রশ্নের।

দেশের মানুষ এখন সচেতন। কথার পেছনে কারণ খুঁজে নিতেও কিন্তু তাদের সময় লাগে না। আশা করি আমার অব্যক্ত কথাটি পাঠকবৃন্দ বুঝতে পারবেন।

সবশেষে বলবো মহাজোট তথা আওয়ামী লীগের আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে যে পদে আপনি আসীন আছেন সেখান থেকে এইরূপ কথা বার্তা বড্ড বেমানান। প্রয়োজনে পদত্যাগ করুন, তারপরে না হয় বাকি প্রলাপগুলো তুলে ধইরেন।

লেখক: সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত