রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে প্রশ্নে মির্জা ফখরুল
‘সবাই আপনারা জানতে পারবেন’
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৬:১৪

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ করতে যাওয়ার কোনো যোগসূত্র আছে কি না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সবাই আপনারা জানতে পারবেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, এ বিষয়ে বিএনপি কী ভাবছে—সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করেন। জবাবের মির্জা ফখরুল বলেন, পত্রপত্রিকা পড়ে রাজনীতির কথা বলা যাবে না।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন। চিকিৎসার জন্য তিনি ১৯ জুলাই ব্যাংকক গিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই তিনি দেশে ফিরলেন। স্পিকারের আগাম দেশে ফেরার খবর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করেছে। কারণ, নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দেন স্পিকারের কাছে। আর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগপর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন স্পিকার।
‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’-এর আয়োজক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দায়রা)। সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন শুরু হয়। এরপর দায়রার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ভূরাজনীতি, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা পরিবর্তন নিয়ে সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্যের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরা উপস্থিত আছেন।
দুই দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। বক্তব্যের শুরুতে মির্জা ফখরুল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া ছাত্র-যুবকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সব সময়ই সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা দেখিয়েছে। তাঁদের দৃঢ়তা ও সহনশীলতার ওপর আস্থা রেখে তিনি আশা প্রকাশ করেন, একটি নতুন, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সামনে এখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর দ্বন্দ্বের প্রভাবও বাংলাদেশের মতো দেশের ওপর পড়ছে।
বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাদের দায়িত্ব শুধু গণতন্ত্রের কথা বলা নয়, বরং তা চর্চা করা। আর এই চর্চার মধ্য দিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
দীর্ঘদিনের অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার পরিণতিতে দেশ কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, তবে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যেই সংসদে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারসহ বিদেশি অংশীদারদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব।
তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারে কাজ শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই সনদ’ গৃহীত হয়েছে। এ সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক সংস্কার বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বিএনপি সরকার অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।
দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বেকারত্ব, বিনিয়োগের ঘাটতি, দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা বর্তমানে বড় উদ্বেগের বিষয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কৃষকবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শিল্পায়ন উৎসাহিত করতে কর ও শুল্ককাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব উদ্যোগ ইতিমধ্যে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










