ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১২:৫৫

প্রিন্ট

‌‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে খালেদাকে মুক্তি দিয়ে সংলাপে বসুন’

‌‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে খালেদাকে মুক্তি দিয়ে সংলাপে বসুন’
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সংলাপে বসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ আহ্বান জানান।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কোনো দলীয়ভাবে দেখার বিষয় নয়, এটা একটা জাতীয় সংকট। এই সংকট বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। ফলে জাতীয় সংলাপ ডাকুন। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সংলাপে বসুন। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান। রোহিঙ্গা ইস্যু দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে এখন সমস্যাটিকে উপক্রান্ত অবস্থায় সমাধান না করে লেজে গোবরে পাকিয়ে ফেলা হয়েছে। সরকার প্রধান নিজের ইমেজ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে এটিকে ব্যবহার করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর মানবদুর্যোগের সৃষ্টি করেছেন। জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন নৈতিকভাবে দুর্বল এই সরকারের মনোবল এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, তারা কোন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই চালাতে পারছেন না। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতায় প্রমাণিত হয়েছে-এই সরকার বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। সেই জন্যই প্রধানমন্ত্রী নিজের ব্যর্থতা আড়াল করতে অন্যের সফলতা নিয়ে অবান্তর কথা বলছেন।

রোহিঙ্গা সমস্যা জিয়াউর রহমানের সৃষ্টি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে নিজেদের অনতিক্রম্য দুর্বলতা ও ব্যর্থতার গ্লানি ঢাকতেই প্রধানমন্ত্রী আজগুবি কথা বলছেন। উন্মাদ অভিগ্রস্ত না হলে এধরণের কথা বলা যায় না।

রিজভী বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দেশের জনগণ সাক্ষী, মিয়ানমার বারবার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো। কিন্তু ৭৮ সালে সেটি শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ৯২ সালেও রোহিঙ্গা সংকট কঠোর ও সফলভাবে মোকাবেলা করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের যারা খবর রাখেন সেই সমস্ত ব্যক্তিরাও এই কথাগুলি উল্লেখ করছেন।

তিনি বলেন, পিজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সরকারের শেখানো বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দিলেও সুচিকিৎসার কোন পদক্ষেপই নেয়নি। গত এক সপ্তাহে কোন চিকিৎসক বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাননি। তার হাতে যে ব্যথা ছিল তা পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। নার্সরা তার হাতে-পায়ে হাত দিতে পারছেন না, হাত দিলেই তিনি প্রচণ্ড যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে যাচ্ছেন। তার ডান পায়ের গোড়ালিতে একটা ফোড়ার কারণে সেই যন্ত্রণা আরও তীব্রতর হয়েছে। অথচ সরকারী চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসা করছেন না। তার জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশবাসী বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উৎকণ্ঠায় প্রহর গুনলেও স্বাস্থ্যের সঠিক অবস্থা জনগণের সামনে প্রকাশ করছে না সরকার। বেগম জিয়ার রিউমেটোয়েড আর্থাইটিস এর জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড এর চেয়ারম্যান এখনও কোন মতামত দিচ্ছেন না। অথচ ইতোমধ্যে রিউমেটোয়েড আর্থাইটিস এর তিন জন চিকিৎসক সদস্যের সমন্বয়ে বোর্ডের যে রিপোর্ট সেটিও প্রকাশ করা হচ্ছে না। মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান তার বোর্ডের অপর তিন জন সদস্যকে নিয়ে অদ্যাবধি কোন বোর্ড মিটিং করেননি। মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অন্যান্য সদস্যদেরকে জানাচ্ছেন না।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, জনগণের সেন্টিমেন্ট তোয়াক্কা করে না বলেই সরকার দেশের একজন জনপ্রিয় নেত্রীর জীবনকে নিঃশেষ করে দেয়ার সকল আয়োজনে ব্যস্ত রয়েছে। একদলীয় পলিটিকাল মনোপলি বজায় রাখার জন্যই বেগম জিয়ার জীবন বিপন্নের আয়োজনে সরকারের আগ্রাসী অসহিষ্ণুতা প্রবল হয়ে উঠেছে। সেজন্য তার চিকিৎসার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়া হয়েছে। এই সরকার অন্ধ প্রতিহিংসার বশে বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতেই তার সুচিকিৎসা প্রদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তার প্রাপ্য জামিনে সরাসরি বাধা দেয়া হচ্ছে। নগ্নভাবে আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তার স্বাস্থ্য নিয়ে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা এক ভয়াবহ চক্রান্তের বর্ধিত প্রকাশ।

কেএস/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত