ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ আপডেট : ৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:২৫

প্রিন্ট

বিরল রোগে ভুগছে একই পরিবারের ৫ জন

বিরল রোগে ভুগছে একই পরিবারের ৫ জন
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার রাজ্জাক শেখের পরিবারের ৫ জন এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসায় জমিজমা সর্বস্ব হারালেও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হয়েছে এক বোন ও ২ মেয়ের। বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে বেঁচে থাকা ১৪ বছর বয়সি একমাত্র ছেলে আব্বাস ও বড় মেয়ে সারমিনকে নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে অসহায় রাজ্জাক শেখের।

জানা যায়, জন্মের পর থেকেই পরিবারের ৩ মেয়ে, এক ছেলে এবং বোন বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগতে থাকে। জন্মের পর মেয়ে মরিয়ম আড়াই বছর বয়সে, ১৮ বছর বয়সে আদুরি আক্তার এবং ৪৫ বছর বয়সে বোন এসমেতারার মৃত্যু হয়।

আব্বাসের রোগের বিষয় গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তারা চিকিৎসায় সাহায্য করলেও কোন সুরাহা হয়নি। একমাত্র ছেলে আব্বাস ও বড় মেয়ে সারমিনের চিকিৎসায় সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব রাজৈর উপজেলার আলমদস্তা গ্রামের রং মিস্ত্রী রাজ্জাক শেখ।

আব্বাস বলেন, জন্মের পর আমার ডান পায়ে একটা আঁচিল হয়েছিল। বয়সের সাথে সাথে ডান পা অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে এবং শরীরজুড়ে আঁচিলে ভরে যায়। আমি ছোটবেলায় স্কুলে যেতাম। কিন্তু ৩য় শ্রেণির পর আমার অবস্থা দেখে বন্ধুদের অবহেলার কারণে আর স্কুলে যাইনি। আমি সবার মতো স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চাই।

আব্বাসের বাবা রাজ্জাক শেখ জানান, ছেলেমেয়ের পেছনে জমি বিক্রি করে অনেক টাকা খরচ করেছি, কোন কাজ হয়নি। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার দরকার। বোন আর ২ মেয়েতো মারাই গিয়েছে। টাকার অভাবে বেঁচে থাকা ছেলে আর বড় মেয়ের চিকিৎসা করাতে না পেরে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। যদি সরকার আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করেন, তাহলে ছেলেমেয়ের চিকিৎসা করাতে পারবো।

ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা সুব্রত মণ্ডল জানান, গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আব্বাসের রোগের বিষয় জানতে পেরে হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ও স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের মহাসচিব এমএ আজিজ স্যারকে জানাই। পরে তিনি বিনা খরচে আব্বাসের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আব্বাসকে উক্ত হাসপাতালে সহযোগী অধ্যাপক ড. একেএম রুহুল, ড. এমএ বাকি এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সাব্রিনা ইয়াসমিনের অধীনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক ইউনিট এবং সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপাতালের ডাক্তাররা এই রোগকে ওয়াইল্ড সিমটম রোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বের ৩য় রোগী আব্বাস শেখ। অবশেষে আব্বাসের পা সার্জারি করাতে চাইলে মুক্তা মনির অবস্থা দেখে বাবা রাজ্জাক শেখ অপারেশন করাতে রাজি হননি। দেড় মাস চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলে রাজ্জাক শেখ ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে যায়।

রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার মণ্ডল বলেন, আমি আব্বাস শেখের জটিল রোগে আক্রান্তের বিষয়টি জেনেছি। এটাকে আসলে এলিফেন্টিয়াসিস রোগ বলা হয়। তার পা দেখতে অনেকটা হাতির পায়ের মতো। এটি জটিল রোগ হলেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বড় হাসপাতালে বিশেষ ধরনের অপারেশন ও ওষুধের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা সম্ভব।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত