ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ৫৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২৩:৫৩

প্রিন্ট

বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার

বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার
বগুড়া প্রতিনিধি

স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোর পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার দুপুরে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া কোচ টার্মিনাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা আলম মন্ডল বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ তদন্ত শেষে রোববার সকালে তা এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলায় রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। আর অজ্ঞাত দেখানো হয় ওই ধর্ষককে।

মামলায় আলম মন্ডল উলে­খ করেন, বিয়ের পর থেকে রফিকুল ইসলাম তার মেয়েকে অহেতুক নির্যাতন করে আসছিল এবং অন্য মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া সর্ম্পক গড়ে তোলে। নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১৮ সালে তার মেয়ে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করে। এ মামলা তুলে নিতে মাঝে মধ্যেই তার মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। এক পর্যায়ে শনিবার দুপুরে শহরের চকলোমান এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

পরে স্থানীয়রা অগ্নিদগ্ধ ওই নারীকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার পর থেকে রফিকুল ইসলাম পলাতক ছিল।

জেলার গাবতলী এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ‘হানিফ পরিবহনের’ সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। রফিকুল গত ২৪ জানুয়ারি স্ত্রী ও ৭ বছর বয়সী এক কন্যাকে নিয়ে শহরের চকলোকমান এলাকায় তার ভাইয়ের বাসা ভাড়া নেয়।

স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ইসলাম কয়েকদিন পরপর বাসায় আসত। তার সঙ্গে একাধিক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে তার স্ত্রী ইতিপূর্বে তাদের কাছে অভিযোগ করেছে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদও হতো। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বাড়ির বাইরে আসে। এ সময় তার জামায় আগুন জ্বলছিল এবং দু’হাত বাঁধা ছিল। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি আগুন নিভিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ জানান, তার স্বামী রফিকুল ইসলাম সকালে তার এক বন্ধুকে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে তারা দু’জনে মিলে তার হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর একটি ঘরে তুলে স্বামী তার বন্ধুকে ওই ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে ধর্ষণের নির্দেশ দিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। ধর্ষণের পর তাকে মারপিট করে মাথার চুল কেটে দেয়। একপর্যায়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বাড়ির বাইরে চলে যায়।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ অভিযুক্ত রফিকুলকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে আগুনে পোড়া কাপড় ও কাটা চুল সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তার ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। রাতেই ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, রবিবার দুপুরে শহরের ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যাণ্ড এলাকা থেকে প্রধান আসামী রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত