ঢাকা, রোববার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৮ মে ২০২০, ১৮:৪৮

প্রিন্ট

অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে পুড়লো কৃষকের স্বপ্ন

অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে পুড়লো কৃষকের স্বপ্ন
দিনাজপুর প্রতিনিধি

অবৈধ ইটভাটা 'মেসার্স মা ব্রিকস মেনুফ্যাকচারের' নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কালো ধোঁয়ায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ আর্দশ গ্রামের প্রায় ২০ একর জমির বোরো ধানের শতভাগ নষ্ট হয়েছে। শুধু তাই নয় আম, লিচু ও ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে উপজেলার ৬ নং নিজপাড়া ইউনিয়নের ঢেপা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত ইটভাটা মেসার্স মা ব্রিকস মেনুফ্যাকচারের উৎপাদন বন্ধ করা হয়। এদিন ভোররাতের কোন এক সময় ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেয়া হয়। সেই গ্যাসে আদর্শগ্রামের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় ২৫ জন কৃষকের লিখিত অভিযোগ, ওই বিষাক্ত গ্যাসের কালো ধোঁয়ায় তাদের প্রায় ২০ একর জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ জ্বলে গেছে; যেখান থেকে একমুঠো ধানও পাওয়া সম্ভব হবে না। এছাড়াও ৪ একর জমির ওপরে একটি আম বাগানের সব আমের গোড়া পচে ঝরে যাচ্ছে। ক্ষতি হয়েছে গ্রামটিতে থাকা ভুট্টা ক্ষেত এবং লিচু বাগানও। এখন সেখানে শুধুই কৃষকের আহাজারি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক-কৃষাণীর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে আর্দশ গ্রামের প্রতিটি ঘর।

করোনা মহামারীর এই সংকটময় মুহূর্তে তাদের এখন একটাই চাওয়া, প্রশাসন যেন উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করে তাদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

সুজালপুর আরিফবাজার গ্রামের আব্দুল কাদেরসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলছেন, মাঠের ধান কয়েকদিনের মধ্যেই ঘরে তোলা যেতো। অথচ হাজী সমশের আলী ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দিয়ে সর্বশান্ত করেছে কৃষকদের। তারা এখন নিঃস্ব। কিভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে চলবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে অবৈধ মা ব্রিকস্ ইটভাটার মালিকের নিকট উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়সহ সরকারি অনুমোদনহীন এ ধরণের ইটভাটাকে স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি করেছেন।

অবৈধ ইটভাটার মালিক আলহাজ্ব সমশের আলী জানান, তার ব্যবসায়ী জীবনের ৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ইট প্রস্তুতের জন্য তার কোনো সরকারি বৈধ কাগজপত্র নেই। এতোদিন তিনি সবাইকে ম্যানেজ করেই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে সরজমিনে ঘুরে দেখেছি। কৃষকদের সম্ভাব্য ক্ষতির একটি প্রতিবেদন তৈরি করে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার বরাবর ব্যবস্থা নেয়ার লক্ষ্যে পাঠিয়েছি।

এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন জানান, অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কৃষকদের যাতে কোনোরূপ ক্ষতি না হয় এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সর্বাগ্রে রেখেই প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজন হলে ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best