ঢাকা, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ২২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২০, ১৩:০৪

প্রিন্ট

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে করোনাযুদ্ধে নেমেছেন মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে করোনাযুদ্ধে নেমেছেন মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে সার্বক্ষনিক বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা.মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। করোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে কথা বলেন চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠনের এই নেতা। তুলে ধরেন নিজের ব্যক্তিগত অভিমত।

রাষ্ট্রের একজন সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে মাঠে থেকে করোনা যুদ্ধে এগিয়ে আসার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, দেশমাতৃকাকে মুক্ত ও স্বাধীন করবো বলেই একাত্তরের হাতিয়ার হাতে তুলে নিয়ে পাক হানাদারদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলাম। নিশ্চিত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেই যুদ্ধে গিয়েছিলাম। আমাদের হৃদয়ে ও রক্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শের শক্তি বহমান। জাতির পিতা আমাদের শিখিয়ে গিয়েছেন, দেশমাতৃকে মুক্ত করতে, আত্মত্যাগের জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযোদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছি। এখন তার আদর্শ বুকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সম্মুখ সাঁড়িতে থেকে দেশের মানুষকে রক্ষায় দ্বিতীয় যুদ্ধে নেমেছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক সৈনিক বলেই যে কোন দুর্যোগে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং তার দেখানো পথই আমাদের দৃড় মনোবল ও সাহসী হতে অনুপ্রেরণা যোগায়। সেই ক্ষেত্রে নিজের শরীরের দিকে ফিরে দেখার সময় নেই। তাই মুক্তিযুদ্ধের মত করোনাযুদ্ধেও জীবনবাজী রেখে কাজ করছি।

এসময় সারা দেশের চিকিৎসকদের জন্য বার্তা দিয়েছেন বিএমন সভাপতি। বলেন, আমার সব সময় একই চিন্তা, সারা দেশে আমার সহকর্মী চিকিৎসকেরা জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করছেন। তাদের সুরক্ষা ও সাহসী করে তোলা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা জোরদাঁর। এখন আমরা একমাত্র কর্তব্য হিসেবে নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। এটা সর্বজন স্বীকৃত যে ডাক্তাররা পরিশ্রম করে যাচ্ছে, তারা ধন্যবাদ পেতেই পারেন। তবে আমার অভিমত বা আমি যখন গণমাধ্যমে দেখি ‘থ্যাঙ্কস ফর ডক্টর’ নিয়ে কলাম লেখা হচেছ তখন আমরা আরও উৎসাহিত হই।

নব্বইয়ের গণ আন্দোলনে নিজের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসটি সংলগ্ন এলাকায় তৎকালীন স্বৈরশাসকের বিলিয়ে দেয়া ঘাতকে গুলিতে নির্মম ভাবে শহীদ ডা.মিলন। তিনি ছিলেন স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রীক আন্দোলনের একজন দক্ষ সংগঠক, বিএমএ এর যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষক। শহীদ মিলনের রক্তে সিঁড়ি বেয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন বেগবান হয়। ছাত্র-জনতা এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুথ্যানের মধ্য দিয়ে তৎকালিন স্বৈরশাসকের পতন ঘটায়। দেশ যাত্রা শুরু করে গণতান্ত্রিক ধারায়। আমাদের নিজস্ব পরিবারে মধ্যেও আরেকটি পরিবার হচ্ছে, রাজনৈতিক পরিবার। ছাত্র জীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করেছি। চরম দুঃসময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সারা দেশ ঘুরে বেড়িয়েছি। নব্বইয়ের গণঅভ্যুথ্যানে ভুমিকা পালন করেছি। মিলনকে গুলি করার সময় রিকশায় মিলনের পাশে আমি ছিলাম। টার্গেট ছিলাম আমিও, তারা ভেবেছিল আমিও মারা গেছি।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বিএমএ এর প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ছিলাম। এখন সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। তাই দেশের যে কোন ক্রান্তি লগ্নে রাজনীতির যে কোন কর্মসূচিতে সব সময় অগ্রভাগে থাকার চেষ্টা করেছি। এখনো যোদ্ধা হিসেবে সম্মুখে থেকে কাজ করছি। ছাত্রজীবন থেকে এই পর্যন্ত সূদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক জ্বড়-ঝাপ্টা আমার উপর দিয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কখনও পরিবার থেকে বাধা পাইনি। বরং পরিবারের অনুপ্রেরণায় এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছি।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পরিবারের সদস্য হারানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধ করি। তবে আমি বেঁচে গেলেও আমার ভাই শহীদ হয়েছেন। ভাইয়ের মত আমিও শহীদ হতে পারতাম, জীবনের কোন মায়া করিনি। দেশকে শত্রুমুক্ত করাই একাত্তরের রণাঙ্গনের আমাদের একমাত্র ধ্যান জ্ঞান ছিল।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা একটি অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। সেটি হলো- অদৃশ্য প্রাণঘাতি শক্তি করোনাভাইরাস।এখানেও আমাদের জয় পেতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিও/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত