ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২০, ১৯:১৮

প্রিন্ট

সাবেক স্ত্রীকে অপহরণ করতে গিয়ে গণধোলাই

সাবেক স্ত্রীকে অপহরণ করতে গিয়ে গণধোলাই
পাবনা প্রতিনিধি

দুই মামাকে সাথে নিয়ে সাবেক স্ত্রী নিশাত আক্তার (২২) ও তার মা রীনা বেগমকে অপহরণ করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে সাবেক স্বামী হাফিজুর রহমান (২৬)।

হাফিজুর তার ডিভোর্স দেয়া স্ত্রীকে আবার ঘরে নিতে চায়। সেই উদ্দেশ্যে শুক্রবার সকালে পাবনার সুজানগর উপজেলার চিনাখরা বাজার থেকে তাদের অপহরণ করে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়দের মারধরে তারা পালিয়ে যান।

রীনা বেগম সুজানগর উপজেলার তেবিলা গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার (৬০) স্ত্রী।

আব্দুল হাই মিয়া জানান, দুই বছর আগে তার মেয়ে নিশাত আক্তারকে সুজানগর উপজেলার আন্ধারকোটা গ্রামের রহিম খন্দকারের ছেলে হাফিজুরের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর মেয়ে নিশাত জানায় তার স্বামী মাদকাসক্ত। এ কারণে তাদের সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। হাফিজুর নিশাত কে মারধোর করে প্রায়ই বাড়ি পাঠিয়ে দিতেন। এ নিয়ে নানা দেনদরবার চলেছে বিভিন্ন সময়।

তিনি জানান, অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তার মেয়ে গত ৩ জুলাই হাফিজুরকে ডিভোর্স দেন। কিন্তু হাফিজুর তা না মেনে স্বামী বলে পরিচয় দিতেই থাকেন। তার বাড়ি গিয়েও মেয়েকে একাধিকবার অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান।

সর্বশেষ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিশাত ও তার মা চিনাখড়া বাজারে যায়। বাড়ি থেকেই তাদের পিছু নেন সাবেক হাফিজুর। এ সময় হাফিজুর তার আপন মামা মনছের আলী (৩০) ও দুঃসম্পর্কের মামা সিরাজকে (২৫) সহযোগী হিসেবে সাথে নেন। মা রীনা ও মেয়ে নিশাত চিনাখড়া বাজারে আসার পর হাফিজুর ও তার দুই মামা প্রথমে নিশাতকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা রীনা বেগমকে ভ্যানে তুলে নিয়ে যান। এরপর স্থানীয়রা ধাওয়া করলে তারা তাকে ছেড়ে পালিয়ে যান।

আব্দুল হাই মিয়া আরো জানান, তিনি কর্মসূত্রে ঢাকা থাকায় দ্রুত পুলিশকে জানানো হয়নি। তিনি ঢাকা থেকে বাড়ি যাচ্ছেন। তিনি পাবনা গিয়ে পুলিশে অভিযোগ দেবেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে দুলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাজাহান জানান, মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিষয়টি জানান হয়েছে। ছেলেটি বখাটে টাইপের। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে সাথে সাথে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে দিয়ে ওই ছেলে এবং তার পরিবারকে সতর্ক করা হয়েছে। মেয়েটির পরিবার চাইলে সালিশি বৈঠক অথবা থানায় মামলা করতে পারেন।

এ ব্যাপারে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুদ্দোজা জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তার কাছে কেউ কোন অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত