ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৩১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ২০:১৮

প্রিন্ট

বাড়ির আঙিনায় সবজি চারা চাষেই ভাগ্য বদল

বাড়ির আঙিনায় সবজি চারা চাষেই ভাগ্য বদল
ছবি: সিংড়ায় বাড়ির আঙিনায় সবজি চারা চাষ

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার হাতিয়ন্দহ ইউনিয়নের নলবাতা গুপতিপাড়া গ্রামের মিলন হোসেন। এইচএসসি পাশ করার পর চাকরি না খুঁজে বাড়ির ৫ কাঠা জমির আঙিনায় বেড করে বিভিন্ন সবজির চারা বপন করেন। ওই চারা তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। এখন সে ৩ বিঘা জমির সবজি চারার মালিক।

মিলন হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এইচএসসি পাশের পরে চাকরির পিছে না ছুটে বাড়ির আঙিনায় চাষ শুরু করি। এই চারা আমার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। এখন আমার তিন বিঘা জমিতে সবজি চারা। এই চারা বিক্রি করে বছরে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় হয়। আমার মত গ্রামের অনেকেই এখন শুরু করেছে সবজি চারা চাষ।

একই গ্রামের অভয় প্রামাণিকের বাড়িসহ ৭ কাঠা জমির আঙিনায় চারা ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। অভয় প্রামাণিক বলেন, ৭ কাঠা জমিতে আর বাড়ির আঙিনায় সবজি চারা চাষ করে আমার সংসার ভালো চলে।

এ গ্রামের প্রায় ৫০টি পরিবার তাদের বাড়ির আঙিনায় বেড করে বপন করেছেন বেগুন, কফি, মরিচ, টমেটোসহ নানা সবজির চারা। বাড়ির উঠানে এসব সবজি চারার বেড হওয়ায় পরিবারের সব সদস্য নিয়মিত পরিচর্যা করতে পারছেন সহজেই। ফলে শ্রমিক খরচও তেমন একটা লাগছে না।

সবজি চারা চাষি সোলাইমান আলী জানান, আমারা নিজেরাই সবজি চারার উৎপাদন করি। বাজারে চারা বিক্রি করি। এতে আমাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। নিজেদের উৎপাদিত চারা আমারা নিজেরাও লাগাই। এতে সবজি উৎপাদনে বাড়তি খরচ হয় না।

হাতিয়ন্দহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুব আলম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এই সবজি চারা উৎপাদন করে। বেকারত্ব মোচনসহ স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা। স্থানীয়রা সহজে সবজি চারা পায় বলে তারা এখান থেকেই চারা সংগ্রহ করে সবজি চাষ করছেন।

সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, নলবাতা গুপতিপাড়া গ্রামের মানুষদের দেখে শালিকাসহ সিংড়ার অনেক গ্রামে এখন বাড়ির আঙিনায় চারা উৎপাদন ও সবজি চাষ হচ্ছে। তিনি আরো বলেন এই গ্রামে বাড়ির আঙিনায় সবজি চারা উৎপাদন হওয়ায় ‌‘প্রতিটা বাড়ির এক ইঞ্চি জায়গাও যেনো ফেলে না রাখা হয়’ প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণার প্রতিফলন ঘটেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এখন অনেক গ্রামে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত