ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ৯ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৫৫

প্রিন্ট

৩ ডিসেম্বর কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস

৩ ডিসেম্বর কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস
ছবি: প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

আজ ৩রা ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে প্রায় ৫’শ পাকহানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে কোটালীপাড়াকে শত্রুমুক্ত করেছিল হেমায়েত বাহিনী। ৩ ডিসেম্বর সকাল ১০ টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়াই প্রথম হানাদার মুক্ত হয়।

এ অঞ্চলে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা ছিল খুবই শক্ত অবস্থানে। আর এ এলাকারই সন্তান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষক প্রায়ত হেমায়েত উদ্দিন যুদ্ধ শুরু হলে দেশে পালিয়ে আসেন। পাক হানাদার বাহিনীকে এদেশ থেকে বিতাড়িত করতে তৎকালীন সময়ে এদেশে কয়েকটি অঞ্চলে গঠিত হয়েছিল কয়েকটি বাহিনী। তার মধ্যে অন্যতম হেমায়েত বাহিনী। ৮ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন হেমায়েত বাহিনী। কোটালীপড়ায় তিনি একটি ট্রেনিং ক্যাম্পও গড়ে তোলেন। যেখানে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরকেও যুদ্ধের ট্রেনিং দেয়া হতো।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বেশ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় হেমায়েত বাহিনী। ৭২টি গ্রুপের সমন্বয়ে গঠিত এই হেমায়েত বাহিনী যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হয় হরিনাহাটি, মাটিভাঙ্গা, বাঁশবাড়িয়া, ঝনঝনিয়া, জহরের কান্দি, কোটালীপাড়া সদর প্রভৃতি স্থানে। এছাড়া ছোট যুদ্ধ হয়েছে বেশ কয়েকটি। আর এসব যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন হেমায়েত বাহিনী প্রধান হেমায়েত উদ্দিন বীর বিক্রম।

এর মধ্য থেকে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও ২৪জন আহত হন। নিহত মুক্তিযোদ্ধারা হলেন- কোটালীপাড়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেলায়েত, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুতালেব, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোক্তার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রতন কুমার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন, টুঙ্গীপাড়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা বেলায়েত হোসেন, মুকসুদপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাত্তার মৃধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরু বেপারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিমল শীল, আগৈলঝাড়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়াবালী, নলসিটি উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান, মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ ছাত্তার এবং ঢাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম।

কোটালীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামছুল হক বলেন, ৭২টি গ্রুপের সমন্বয়ে গঠিত এই হেমায়েত বাহিনী যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে। এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার।

কোটালীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শেখ লুৎফর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হেমায়েত বাহিনীর সদস্যরা ১৩৪টি অপারেশন পরিচালনা করেন। এর মধ্যে রামশীলের যুদ্ধ অন্যতম। এই যুদ্ধটি অত্র অঞ্চলে ঐতিহাসিক রামশীলের যুদ্ধ বলে পরিচিত। হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিন ঐতিহাসিক রামশীলের যুদ্ধে মারত্মকভাবে আহত হন। মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের কারণে দেশ স্বাধীন হবার পর হেমায়েত উদ্দিনকে “বীর বিক্রম” খেতাবে ভূষিত করা হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত