ঢাকা, রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:২৬

প্রিন্ট

স্ত্রীকে যৌনপল্লীতে বিক্রি: স্বামীর ৭ বছরের কারাদণ্ড

স্ত্রীকে যৌনপল্লীতে বিক্রি: স্বামীর ৭ বছরের কারাদণ্ড

বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় স্ত্রীকে যৌনপল্লীতে বিক্রির মামলায় স্বামী ফরিদ উদ্দিন মল্লিককে ৭ বছর কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদনণ্ড দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল মানব পাঁচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মঞ্জুরুল হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য দন্ডপ্রাপ্ত ফরিদউদ্দিনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পনের ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের মধ্যেমে এই অর্থ পরিশোধ করবে। নতুবা আসামির সম্পদ বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত ওই নারীকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় আসামি অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি এবং সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

দন্ডপ্রাপ্ত ফরিদ উদ্দিন উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের তারাবাড়ি এলাকার মৃত জয়নাল মল্লিকের ছেলে। স্ত্রী ফারজানা আক্তারকে নিয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর রহমতপুর এলাকায় শ্বশুর বাড়ির পাশে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

মামলার উদ্বৃতি দিয়ে ট্রাইব্যুনালের স্টোনোগ্রাফার জালাল মিয়া জানান, ২০০৭ সালের ৬ অক্টোবর শ্বশুর-শাশুড়ি বাড়িতে না থাকার সুযোগে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় যান ফরিদ। পরদিন ফারজানাকে খুলনা নিয়ে যৌনপল্লীর মিন্টু সর্দারের কাছে বিক্রি করে দেন। ২০দিন পর ফরিদ ফের ওই যৌনপল্লীতে গিয়ে অবস্থান করতে থাকেন।

ফারজানার কাছ থেকে নিয়মিত অর্থও আদায় করতেন ফরিদ। কিছুদিন পর মিন্টু সর্দার ফারজানাকে ওই যৌনপল্লীর আরেক সর্দারনী হোসনেয়ারার কাছে বিক্রি করে দেন। এক পর্যায়ে ফারজানাকে নিয়ে মিন্টু সর্দার ও হোসনেয়ারার মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

প্রায় ২ মাস পর ১০ ডিসেম্বর খবর পেয়ে ফারজানার বাবা ও শ্বশুর খুলনার ফুলতলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই যৌনপল্লীতে গিয়ে ফারজানাকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ সর্দার মিন্টু ও সর্দারনী হোসনেয়ারাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ১২ ডিসেম্বর ফারজানার বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে অভিযুক্ত ফরিদউদ্দিন এবং যৌনপল্লীর দুই সর্দার মিন্টু ও হোসনেয়ারাকে আসামি করে বাবুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

যৌনপল্লীর দুই সর্দারকে অব্যাহতি দিয়ে ফরিদউদ্দিনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে ২০০৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় তদন্তকারী পুলিশ। ট্রাইব্যুনালে ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক ওই আদেশ দেন।

গত ২২ মার্চ বরিশালে মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরুর পর ওই ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় এটি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত