ঢাকা, রোববার, ০৭ মার্চ ২০২১, ২২ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ১১:২৬

প্রিন্ট

নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন

পুনরায় ভোট গুনতে নৌকার প্রার্থীর আবেদন

পুনরায় ভোট গুনতে নৌকার প্রার্থীর আবেদন
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্র‌তি অনু‌ষ্ঠিত নবীগঞ্জ পৌর মেয়র নির্বাচনে ভোট গণনায় কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনের বি‌রু‌দ্ধে। যার ফলে নতুন করে আবারো ভোট গণনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী।

আবেদনে পরাজিত এই মেয়র প্রার্থী অভিযোগ করেন, নির্বাচনে স্বজনপ্রীতি, বৈষম্যমূলক আচরণ, হিন্দু ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোটদানে বাধা দান, মৃত ব্যক্তির ভোটদান, নৌকার এজেন্টের কাছ থেকে ভোট শেষ না হওয়ার আগে জোরপূর্বক ভোট গণনার বিবরণীতে অগ্রিম স্বাক্ষরে বাধ্য করা হয়েছে।

গত ১৬ জানুয়ারি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভায় দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভার মাধ্যমে দলীয় মনোনয়ন পান উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্ববায়ক গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি নির্বাচন বোর্ডের বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন।

গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী অভিযোগে আরো জানান, নির্বাচনী দশটি কেন্দ্র হতে প্রিজাইডিং অফিসারের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে নৌকা মার্কা জয়লাভ করে। কিন্তু পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাচন অফিস হতে জেলা রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার সময় দেখা যায় যে কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল পাল্টে দেয়া হয়েছে। এ সময় ধানের শীষের প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরীকে ২৬৪ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে আমরা প্রতিবাদ জানাই এবং ৭নং নহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট পুনঃগণনার জন্য জেলা রিটার্নিং অফিসারকে দাবি জানাই। কারণ কেন্দ্র ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী নৌকার পক্ষে ভোট পড়ে ৯৯২ এবং উপজেলা প‌রিষ‌দে ফলাফল পরিবর্তন করে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট ঘোষণা করা হয় ৬৬৯ এ সময় জেলা রিটার্নিং অফিসার ডিসি মহোদয়ের অনুমতি চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবরে আবেদন করতে বলেন।

লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, পুলিশ প্রশাসনের স্বজনপ্রীতি, বৈষম্যমূলক আচরণ, কালোটাকার ব্যবহার, হিন্দু ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভোটদানে বাধা দান, ৯নং ওয়ার্ডের জয়নগর কেন্দ্রের মৃত ব্যক্তির ভোটদান, নৌকা মার্কার নির্বাচনী এজেন্টের কাছ থেকে ভোট শেষ না হওয়ার আগে জোরপূর্বক ভোট গণনার বিবরণীতে অগ্রিম স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ১০নং পূর্ব তিমিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাফর ইকবাল চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোন ধরেন স্থানীয় জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার নূর হোসেন। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘অনেকেই জাফর ইকবাল সাহেবের সাথে কথা বলতে আমাকে ফোন দিচ্ছেন। ভূল করে আমার নম্বরটি সেখানে দেয়া হতে পারে। আমি উপজেলা নির্বাচন অফিসে বিষয়টি জানিয়েছি।’

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ওয়েব সাইটেও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাফর ইকবাল চৌধুরীর যোগাযোগের ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিও/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত