ঢাকা, শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২১, ২১:০৫

প্রিন্ট

গবেষণা

ভাসানচর রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ

ভাসানচর রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ
ভাসানচর

ঢাবি প্রতিনিধি

বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষাব্যবস্থা, আয়-রােজগারের ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, রান্নাবান্না এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য সামজিক ও পরিবেশগত বিবেচনায় ভাসানচর তুলনামূলকভাবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ একটি জায়গা বলে দাবি করেছেন একদল গবেষক।

গবেষণায় বলা হয়েছে, আধুনিক বাসস্থান, রাস্তা, আশ্রয়কেন্দ্র এবং বাঁধ নির্মানের মাধ্যমে দ্বীপটিতে আধুনিক জীবনযাত্রার সকল প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে, আয়-রােজগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে মানবাধিকারের নিশ্চয়তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মাধ্যমে এই দ্বীপটি ডুবে যাবার কোন আশঙ্কা নেই। শিক্ষা, চিকিৎসা, ধর্মকর্ম পালন ও বিনােদনের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা। বিশেষ পরিস্থিতিতে দূর্যোগ হলে রােহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক আশ্রয়কেন্দ্র।

শনিবার ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যায়ন বিভাগ ‘বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর: সুবিধা এবং প্রতিকূলতা’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফলে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সেমিনার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রাল ফাউন্ডেশন ফর ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (সিএফআইএসএস) এর চেয়ারম্যান কমোডর এম এন আবসার।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন,গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

গবেষণার তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে তারা বলেন, সম্মিলিত আলােচনা, বিশেষজ্ঞ সাক্ষাৎকার এবং মূল তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার ছিল মূল পদ্ধতি। এছাড়া গবেষণার বৈধতা, নির্ভরযােগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের জন্য বহু-পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া, ভাসানচরের সহনীয়তা ও রােহিঙ্গাদের মতামত প্রতিফলনের জন্য দুইবার মাঠ-পর্যায়ে কাজ করা হয়েছে।

তারা বলছেন, রােহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানের মত সুযোগসুবিধাগুলল ছিল অপর্যাপ্ত। এখানে রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য শিক্ষাব্যবস্থা বেশ অপর্যাপ্ত ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নতুন এই বাসস্থানে এর পর্যাপ্ত সুবিধা আছে বলে দাবি করেছেন তারা। এছাড়া ইয়াবা, অবৈধ অস্ত্র, পতিতাবৃত্তি, মানবপাচার এবং মাদকের বিস্তার ও কেনাবেচার দিকটি এই গবেষায় উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

গবেষণায় দ্বীপটিকে আরাে টেকসই করে তালার লক্ষ্যে কিছু বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। সুপেয় পানির যথাযথ ব্যবহারের প্রতি নজর দেওয়ার কথা বলেছেন। যেহেতু দ্বীপগুলােতে পানির সঙ্কট দেখা দেয়, তাই ভবিষ্যতে কোনাে ধরনের পানির সঙ্কট এড়ানাের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও দৈনন্দিন কাজে এ পানি বেশি করে ব্যবহারের প্রতি জোর দেয়া হয়েছে। রােহিঙ্গা ছেলেমেয়েদেরকে তাদের নিজ ভাষায় পাঠদান এবং রােহিঙ্গাদেরকে নিজস্ব সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ পালন করার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সুপারিশে কিছু ক্ষুদ্র কুটীরশিল্প স্থাপন করার কথাও তুলে ধরা হয়, যাতে করে দরিদ্র রােহিঙ্গারা তাদের আয়ের ক্ষেত্রে আরো বৈচিত্র্য আনতে পারে।

ঢাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, সামাজিক, শারীরিক ও অবকাঠামোগতসহ সকল দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচর তাদের নিজেদের দেশের থেকেও নিরাপদ যেখানে তারা ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

আরও পড়ুন- কারাগারে হত্যা মামলার আসামিকে খুঁজে পাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত