ঢাকা, বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ২৮ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১৬:১৮

প্রিন্ট

ম্যানগ্রোভ বনের গাছ পুড়ছে ইটভাটায়

ম্যানগ্রোভ বনের গাছ পুড়ছে ইটভাটায়
ছবি- প্রতিনিধি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ এখন হুমকির মুখে পড়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাকারী গাছ উজাড় করায় এ হুমকি সৃষ্টি হয়েছে।

ইটভাটা মালিক, করাতকল মালিক ও ভবন নির্মাণকারী কাজের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীরা বন উজাড়ে সক্রিয় থাকায় আইন তাদের স্পর্শ করছে না বলে অভিযোগ। একটি সংঘবদ্ধ বনদস্যু চক্র গাছ পাচারের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে সমগ্র উপকূলজুড়ে। যারা গঙ্গামতি, ফাতরা, নিশানবাড়িয়া, কাটাভাড়ানিসহ মহিপুর ও কলাপাড়া রেঞ্জের বনাঞ্চল থেকে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কেটে অবাধে বিক্রি করে দিচ্ছে ইটভাটা ও করাতকলগুলোতে।

প্রতিনিয়ত পরিবেশ বিপন্ন হলেও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই।

তবে পটুয়াখালীর উপকূলীয় বন সংরক্ষক বললেন, করাতকলগুলোতে আমাদের বনাঞ্চলের গাছ চেরাই করা হলে আপনারা আমাদের লিখিতভাবে জানান। তখন আমরা এটি দেখবো।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, পায়রা সমুদ্রবন্দর, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, নৌ-ঘাঁটি সহ সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলায় কলাপাড়ায় কদর বেড়েছে ইটভাটার। সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে প্রায় অর্ধ-শতাধিক ইটভাটা ইটের সরবরাহ করেও চাহিদার যোগান দিতে পারছে না। কয়লার পরিবর্তে ইটভাটাগুলোতে পুড়ছে গাছ।

অবাধে কেটে নেয়া হচ্ছে ম্যানগ্রোভ বনভূমির গাছগুলো

ভবন নির্মাণকালে ছাদ ঢালাইয়ের সেন্টারিং, কলাম ও ভিম তৈরিতে লোহার সরঞ্জামাদির পাশাপাশি ব্যবহার বেড়েছে বাঁশ ও কাঠের। এসব কাঠ সাইজ অনুযায়ী তৈরিতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে সংঘবদ্ধ বনদস্যুচক্র জড়ো করছে চিহ্নিত কয়েকটি করাতকলে। যা দিয়ে সেন্টারিংয়ের কাঠ তৈরি করে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে নির্মাণ সাইডে।

অভিযোগ রয়েছে, এসবই হচ্ছে বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জ্ঞাতসারে। মাঝেমধ্যে বন কর্মকর্তাদের চোখে আগুল দিয়ে দেখালে তখন দেখতে পান তারা।

সূত্র আরও জানায়, কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের আনিপাড়া এলাকা থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে বড় বড় সাইজের প্রায় অর্ধশত ছইলা, কেওড়া, বাইন ও গোমা প্রজাতির গাছ কেটে বিক্রির জন্য স-মিলে উঠায় একটি চক্র। এরা আড়পাঙ্গাসিয়া নদীর অপর পাড় আঙ্গারপাড়া ও চাউলাপাড়া গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গল থেকে বনকর্মীদের উপস্থিতিতেই গাছ কেটে গাড়িতে তুলে রাতের আঁধারে পৌঁছে দিচ্ছে ইটভাটায়।

একইভাবে ফাতরা বনাঞ্চল থেকে প্রকাশ্যে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে করাতকল ও ইটভাটায়। অথচ গাছ কাটা চক্রের মদদদাতারা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। দু’একটি মামলা হলে হচ্ছে চুনোপুটির নামে।

মহিপুর ইউনিয়নের নজিবপুর, সুধিরপুর, নিজামপুর, নীলগঞ্জ ও চাকামইয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা বনদস্যু চক্রের সদস্যদের কর্মকাণ্ড জানলেও বন আইনের খড়গ কখনও স্পর্শ করছে না তাদের।

কলাপাড়া বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আ. ছালামের কাছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তার কোনো বক্তব্য নেই বলে এড়িয়ে যান।

পটুয়াখালী উপকূলীয় বন সংরক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ইট পোড়ানো আইন অনুয়ায়ী, ইটভাটায় গাছ পোড়ানো হলে সেটি ডিসি সাহেব ও ইউএনওকে জানাতে হবে। এছাড়া করাতকলগুলোতে আমাদের বনাঞ্চলের গাছ চেরাই করা হলে আপনারা আমাদের লিখিতভাবে জানান। তখন আমরা এটি দেখবো।’

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত